Skip to main content

সর্বশিক্ষা অভিযান কী (Sarva Shiksha Abhiyan - SSA)ও তার বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্যসমূহ গুলি আলোচনা করো।

সর্বশিক্ষা অভিযান কী (Sarva Shiksha Abhiyan - SSA)ও তার বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্যসমূহ গুলি আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর সিলেবাস)।

           আমরা জানি যে,ভারতের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০১ সালে সর্বশিক্ষা অভিযান কর্মসূচিটি চালু করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে,তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেছিলেন। সেদিন এই সর্বশিক্ষা অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যে- 'সবার জন্য শিক্ষা'। আর এই শিক্ষা অভিযানকে সফল করতে-

       ২০০৩ সালের মধ্যে দেশের সকল শিশুকে বিদ্যালয়ের আঙিনায় নিয়ে আসা। সেদিন আরো বলা হয় যে, ২০১০ সালের মধ্যে সকল শিশুর ৮ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। আর এই মহান কাজ সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে এবং সামাজিক বিভেদ অর্থাৎ লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা। আর এই সর্বশিক্ষা অভিযানের মূল মন্ত্র হল-

            'সবাই পড়ে, সবাই বড়ো হয়'।

         শুধু তাই নয়-শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য জীবনমুখী এবং মূল্যবোধভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা। আসলে এই সর্বশিক্ষা অভিযানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-

       •নতুন  বিদ্যালয় স্থাপন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ে পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা।

       •শিক্ষক নিয়োগ,ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা।

      •বিনামূল্যে সামগ্রী বিতরণ,পাঠ্যপুস্তক, স্কুল ইউনিফর্ম এবং শিক্ষার অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান।

       •মিড-ডে মিল, শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং পুষ্টির মান বাড়ানোর জন্য মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় সাধন।

       •অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে আসা।

            ২০১০ সালে শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act, 2009) কার্যকর হওয়ার পর সর্বশিক্ষা অভিযান এই আইন বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে এই প্রকল্পটিকে মাধ্যমিক স্তরের সাথে যুক্ত করে 'সমগ্র শিক্ষা অভিযান' নামকরণ করা হয়েছে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...