Skip to main content

মহাত্মা গান্ধীর জাতীয় আন্দোলনে 'সত্যাগ্রহ আন্দোলন।

মহাত্মা গান্ধীর জাতীয় আন্দোলনে 'সত্যাগ্রহ। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস।

          সত্যাগ্রহের মূল দর্শনঃ আমরা জানি যে ,মহাত্মা গান্ধীর জাতীয় আন্দোলনে 'সত্যাগ্রহ' ছিল একটি অনন্য ও শক্তিশালী হাতিয়ার। যেখানে সত্যাগ্রহ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ-'সত্য' (Truth) এবং 'আগ্রহ' (Insistence/Hold) থেকে এসেছে।যার আক্ষরিক অর্থ হলো- 'সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা'।আসলে গান্ধীজীর কাছে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল না, ছিল একটি নৈতিক জীবনদর্শন।আর সেখানে সত্যাগ্রহের প্রধান স্তম্ভসমূহ-

 ১) সত্যের অনুসন্ধানঃ গান্ধীজী বিশ্বাস করতেন সত্যই ঈশ্বর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হলে আগে সত্যের পথে থাকতে হবে।

 ২)অহিংসাঃ অহিংসা সত্যাগ্রহের প্রাণভ্রমরা। গান্ধীজীর মতে-"সত্যাগ্রহী কখনও শত্রুকে শারীরিক আঘাত করবেন না। তিনি ঘৃণার বদলে ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুর হৃদয় জয় করবেন।

৩) কষ্টসহিষ্ণুতাঃ নিজের ওপর কষ্ট বরণ করে নিয়ে প্রতিপক্ষের বিবেককে জাগ্রত করাই হলো সত্যাগ্রহীর কাজ।

               •সত্যাগ্রহীর বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতি•

       • ভয়হীনতাঃএকজন সত্যাগ্রহীকে নির্ভীক হতে হবে। মৃত্যুভয় ত্যাগ করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।

      •বিদ্বেষহীনতাঃশত্রুর প্রতি কোনো ব্যক্তিগত ঘৃণা রাখা চলবে না। সেখানে আমাদের লক্ষ্য হবে-অন্যায়কে দূর করা, অন্যায়কারীকে বিনাশ করা নয়।

     •সক্রিয় প্রতিরোধঃ সক্রিয় প্রতিরোধ নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ (Passive Resistance) নয়। সত্যাগ্রহে উপবাস, ধর্মঘট, আইন অমান্য এবং অসহযোগিতার মতো সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

     •  পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ হলো এমন এক আত্মিক শক্তি, যা কোনো অস্ত্র ছাড়াই কেবল নৈতিকতা এবং ত্যাগের মাধ্যমে প্রবল শক্তিশালী শাসককেও পরাজিত করতে সক্ষম। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে চম্পারণ, আমেদাবাদ এবং খেদা আন্দোলনে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...