Skip to main content

বিভক্তি

বিভক্তির সংজ্ঞা দাও পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি বাংলা প্রথম সেমিস্টার।

         বিভক্তিঃ যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দ বা ধাতুর শেষে যুক্ত হয়ে শব্দকে পদে পরিণত করে এবং বাক্যের অন্তর্গত অন্যান্য পদের সঙ্গে তার একটি সম্বন্ধ স্থাপন করে, তাদের বিভক্তি বলে।সহজ কথায়-

        শব্দ + বিভক্তি = পদ। বাক্যে শব্দ সরাসরি বসতে পারে না, তাকে পদে রূপান্তরিত হয়েই বসতে হয়।

            •বিভক্তির উদাহরণ ও বিশ্লেষণ•

একটি বিশেষ উদাহরণ- "মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।"

        এখানে তিনটি পদ আছে যাদের মূলে রয়েছে শব্দ ও বিভক্তি।আর সেই তিনটি পদ হলো-

 •মা-মা + ০ (শূন্য বিভক্তি)

 •শিশুকে- শিশু + কে (কে বিভক্তি)

 •চাঁদ-চাঁদ + ০ (শূন্য বিভক্তি)

       এখানে 'কে' বিভক্তিটি যুক্ত হয়ে 'শিশু' শব্দটিকে 'শিশুকে' পদে পরিণত করেছে, যার ফলে বাক্যে তার অর্থ ও অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে।

                   •বিভক্তির প্রকারভেদ•

বাংল বিভক্তিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

১) শব্দ বিভক্তি (নাম বিভক্তি)- শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে পদ গঠন করে। যেমন-রামকে, বাড়িতে, গাছএ।

২) ধাতু বিভক্তি (ক্রিয়া বিভক্তি)-ধাতুর শেষে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে। যেমন- কর্ + ছি, পড়্‌ + বে, দেখ্‌ + ল |

           •বাংলা শব্দ বিভক্তির তালিকা•

কারক নির্ণয়ের সময় সাধারণত এই বিভক্তিগুলো দেখা যায়-

 • ০ (শূন্য) বিভক্তিঃ যেখানে কোনো স্পষ্ট বিভক্তি নেই।যেমন: রাম ভাত খায়।

• এ (য়/তে) বিভক্তিঃ যেমন: বনে (বন + এ), ঘোড়ায় (ঘোড়া + য়)।

 • কে (রে) বিভক্তিঃ যেমন: আমাকে, তারে।

 • র (এর) বিভক্তিঃ  যেমন: মানুষের, দেশের।

'শূন্য বিভক্তি' ও 'অ-বিভক্তি' (বিশেষ টীকা)

        • "শূন্য বিভক্তি কাকে বলে?" •

        যখন কোনো শব্দের সঙ্গে কোনো দৃশ্যমান বিভক্তি যুক্ত হয় না, কিন্তু শব্দটি পদে পরিণত হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে শূন্য বিভক্তি বলে। ব্যাকরণ মতে- একে 'অ-বিভক্তি' হিসেবেও গণ্য করা হয়।

           •পরীক্ষার জন্য একটি টিপস•

কারক নির্ণয় করতে দিলে পদের নিচে দাগ দেওয়া অংশের মূল শব্দটি খুঁজে বের করবে, তারপর দেখবে শেষে বাড়তি কী যুক্ত আছে। সেটিই হবে বিভক্তি।

 বিভক্তির সাথে 'অনুসর্গ' বা 'নির্দেশক'-এর পার্থক্য 

১) অনুসর্গ (Postposition)

         যেসব শব্দ কখনো স্বাধীনভাবে, আবার কখনো পদের পরে বসে শব্দটিকে কারক-সম্পর্কিত পদে পরিণত করে, তাদের অনুসর্গ বলে।

  বৈশিষ্ট্যঃএদের নিজস্ব অর্থ আছে এবং এরা শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে।যেমন- দিয়ে, দ্বারা, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, তরে, জন্য।

   •প্রয়োগ: "তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।" (এখানে 'জন্য' একটি অনুসর্গ)।

২) নির্দেশক (Determiner)

      যেসব চিহ্ন বা বর্ণসমষ্টি পদের শেষে যুক্ত হয়ে সেই পদের বচন (একবচন বা বহুবচন) এবং নির্দিষ্টতা বা অনির্দিষ্টতা বোঝায়, তাদের নির্দেশক বলে।

 বৈশিষ্ট্যঃ এদের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই এবং এরা শব্দের সাথে জুড়ে থাকে। যেমন-টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, জন।

   প্রয়োগঃ "বইটি টেবিলে রাখো।" (এখানে 'টি' নির্দিষ্ট করে একটি বইকে বোঝাচ্ছে)।

           অনুসর্গ ও বিভক্তির মধ্যে পার্থক্য

বিভক্তি শব্দের সঙ্গে একেবারে মিশে থাকে। কিন্তু-

      •অনুসর্গ শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে। 

বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। কিন্তু-

       •অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকতে পারে।

বিভক্তি হলো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি। কিন্তু-

       •অনুসর্গ হলো মূলত অব্যয় জাতীয় শব্দ। 

| উদাহরণ | এ, কে, রে, তে। | দ্বারা, দিয়া, হইতে, থেকে। |

     •নির্দেশক ও অনুসর্গের পার্থক্য (একনজরে)•

 • নির্দেশক পদের নির্দিষ্টতা বা সংখ্যা বোঝায় (যেমন: মানুষটি)।

 • অনুসর্গ পদের সাথে অন্য পদের সম্পর্ক বা কারক বোঝায় •যেমন: মানুষের দ্বারা।•"ছেলেটি ছড়ি দিয়ে আম পাড়ছে।"

এই বাক্যটিতে:

১. নির্দেশক কোনটি?

২. অনুসর্গ কোনটি?

৩. বিভক্তি কোনটি?

(উত্তরগুলো মেলাতে চাইলে কমেন্ট করতে পারেন, আমি সাহায্য করব!)

এরপর কি আমরা কারকের প্রকারভেদ (কর্তৃকারক, ক

র্মকারক ইত্যাদি) আলোচনা করব?



দশম শ্রেণির প্রথম সেমিস্টারের জন্য কারক অধ্যায়টি অত্যন্ত ভাইটাল। কারক মানে হলো—বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক।

পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, কারক মূলত ছয় প্রকার। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে সহজ কৌশলসহ আলোচনা করা হলো:

কারকের প্রকারভেদ ও চেনার উপায়

| কারকের নাম | কীভাবে চিনবেন (প্রশ্ন করার কৌশল) | উদাহরণ (রেখাঙ্কিত পদ) |

|---|---|---|

| ১. কর্তৃকারক | ক্রিয়াকে 'কে' বা 'কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে। | খোকা বই পড়ছে। (কে পড়ছে?) |

| ২. কর্মকারক | ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে। | ডাক্তার ডাকো। (কাকে ডাকো?) |

| ৩. করণ কারক | 'কী দিয়ে' বা 'কিসের দ্বারা' বোঝালে। | আমরা কলমে লিখি। (কী দিয়ে লিখি?) |

| ৪. নিমিত্ত কারক | 'জন্য' বা 'উদ্দেশ্যে' বোঝালে। | বেলার শেষে দাও খেয়া পার। (বেলার জন্য) |

| ৫. অপাদান কারক | 'হতে', 'থেকে', 'চেয়ে', ভয়, বিচ্যুতি বোঝালে। | গাছ থেকে ফল পড়ল। (কোথা থেকে?) |

| ৬. অধিকরণ কারক | 'কোথায়', 'কখন' বা 'কোন বিষয়ে' বোঝালে। | শরতে শিউলি ফোটে। (কখন ফোটে?) |

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিশেষ কারক (যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে):

 * প্রযোজক কর্তা: যে নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করায়। (যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন—এখানে 'মা' প্রযোজক কর্তা)।

 * প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। (উপরের উদাহরণে শিশু হলো প্রযোজ্য কর্তা)।

 * সমধাতুজ কর্ম: যদি ক্রিয়া ও কর্ম একই ধাতু থেকে তৈরি হয়। (যেমন: এক দারুণ খেলা খেলল—এখানে 'খেলা' হলো সমধাতুজ কর্ম)।

 * কালাধিকরণ: সময় বোঝালে অধিকরণ হয়। (যেমন: প্রভাতে সূর্য ওঠে)।

কারক নির্ণয় করার সহজ নিয়ম (Steps):

১. প্রথমে বাক্যের ক্রিয়াপদটিকে খুঁজে বের করুন।

২. এবার উপরের ছকের প্রশ্নগুলো দিয়ে ক্রিয়াপদকে প্রশ্ন করুন।

৩. যে উত্তরটি পাবেন, সেটিই হলো কারক। আর শব্দের শেষে যে বর্ণ বাড়তি থাকবে, সেটি বিভক্তি।

একটি উদাহরণ দিয়ে প্র্যাকটিস:

বাক্য: "রথীন বাবু লাঠি দিয়ে সাপ মারলেন।"

 * প্রশ্ন: কী দিয়ে মারলেন?

 * উত্তর: লাঠি।

 * কারক: করণ কারক (যেহেতু 'দিয়ে' বা মাধ্যম বোঝাচ্ছে)।

 * বিভক্তি: লাঠি + ০ (এখানে কোনো বাড়তি বর্ণ নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি)।

আপনার জন্য একটি হোমওয়ার্ক:

"বুলবুলিতে ধান খেয়েছে"—এখানে বুলবুলিতে কোন কারকে কোন বিভক্তি? (চেষ্টা করে দেখুন তো!)

পরবর্তী ধাপে কি আমরা 'অকারক' (সম্বন্ধ পদ ও সম্বোধন পদ) নিয়ে আলো

চনা করব? এটিও সিলেবাসের অংশ।



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...