Skip to main content

 ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। তবে জ্যোতিষী বা ভবিষ্যৎবক্তার মতো কোনো নির্দিষ্ট আসনে কে জিতবে তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব, বিশেষ করে রাজনীতির মতো পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রে।

বর্তমানে (২০২৬ সালের শুরুর দিকের প্রেক্ষাপটে) বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীক্ষা এবং গত কয়েকটি নির্বাচনের (২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভা) ট্রেন্ড অনুযায়ী বামফ্রন্টের জন্য চ্যালেঞ্জিং অথচ সম্ভাবনাময় কিছু আসনের ধরন নিচে আলোচনা করা হলো:

বামফ্রন্টের সম্ভাব্য লড়াইয়ের জায়গাগুলো

গত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, বামফ্রন্ট বিশেষ করে সিপিআই(এম) তরুণ প্রার্থীদের সামনে এনে শহুরে এবং আধা-শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। যে আসনগুলোতে তারা ভালো ফল করতে পারে বা কড়া টক্কর দিতে পারে:

 * কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল: যাদবপুর, বালিগঞ্জ, দমদম, কসবা এবং উত্তর কলকাতার কিছু আসনে বামফ্রন্টের ভোট শতাংশে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যাদবপুর আসনটি সবসময়ই বামেদের জন্য একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

 * নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা: চাকদহ বা অশোকনগরের মতো আসন যেখানে বামেদের সাংগঠনিক শক্তি এখনো টিকে আছে। তাহেরপুর পৌরসভার মতো জায়গায় বামেদের সাম্প্রতিক জয় তাদের কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছে।

 * মুর্শিদাবাদ ও মালদা: এই জেলাগুলোতে বাম-কংগ্রেস জোট বা সমঝোতা হলে অনেক আসনেই তারা জেতার মতো জায়গায় থাকতে পারে। ডোমকল, জলঙ্গি বা নবগ্রামের মতো আসনগুলোতে বামেদের ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক রয়েছে।

 * পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া: একসময়ের 'লাল দুর্গ' হিসেবে পরিচিত এই জেলাগুলোর কিছু গ্রামীণ আসনে বামফ্রন্ট পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে, তবে এখানে বিজেপি এবং তৃণমূলের সাথে ত্রিমুখী লড়াই অত্যন্ত কঠিন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

১. জোট সমীকরণ: বামফ্রন্ট যদি কংগ্রেস এবং আইএসএফ (ISF)-এর সাথে আসন সমঝোতা সফলভাবে করতে পারে, তবে ভোট ভাগাভাগি রোধ করে বেশ কিছু আসনে তারা চমক দিতে পারে।

২. ভোট শতাংশ: গত লোকসভা নির্বাচনে অনেক আসনেই বামেদের ভোট শতাংশ বেড়েছে। এই ধারা বজায় থাকলে এবং বিজেপি-বিরোধী ভোটের একটি অংশ বামেদের দিকে ফিরলে আসন সংখ্যায় তার প্রতিফলন ঘটতে পারে।

৩. ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি: চাকরি দুর্নীতি, আরজি কর ইস্যু এবং গ্রামীণ অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে বামেদের লাগাতার আন্দোলন ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলছে, তার ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।

> সারসংক্ষেপ: নির্দিষ্ট করে আসনের নাম বলা কঠিন হলেও, সমীক্ষকদের মতে বামফ্রন্ট মূলত যাদবপুর, বালিগঞ্জ, তাহেরপুর (সংলগ্ন এলাকা) এবং মুর্শিদাবাদের কিছু আসনে জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী দাবিদার হতে পারে।

আপনি কি কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা আসন সম্পর্কে গভীরতর বিশ্লেষণ জানতে চান? আমি সেই এলাকার গত নির্বাচনের তথ্য দিয়ে আপনাকে সাহা

য্য করতে পারি।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...