Skip to main content

মনসামঙ্গল কাব্যধারায় বিপ্রদাস পিপলাইয়ের স্বকীয়তা ও ঐতিহাসিক মূল্য আলোচনা করো।

মনসামঙ্গল কাব্যধারায় বিপ্রদাস পিপলাইয়ের স্বকীয়তা ও ঐতিহাসিক মূল্য আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর সিলেবাস)।

        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,বিপ্রদাস পিপলাইয়ের 'মনসাবিজয়' (১৪৯৫ খ্রি.) কাব্যটি মনসামঙ্গল ধারার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। যেখানে বিপ্রদাস পিপলাই মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবিদের অন্যতম। তাঁর স্বকীয়তা মূলত তাঁর নির্ভুল তথ্য প্রদান, ঐতিহাসিক সচেতনতা এবং কাব্যিক পরিমিতিবোধের মধ্যে নিহিত।আর সেখানে আমরা দেখি- 

        বিপ্রদাসের কাব্যের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্দিষ্ট রচনাকালের উল্লেখ। তিনি লিখেছেন-

             "পাঁচশ পনর শকে করিয়া গণন।

              বিপ্রদাস রচিলা গীত মনসা চরণ।।"

      অর্থাৎ ১৪১৭ শকাব্দ বা ১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দে এই কাব্য রচিত। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালের শুরুতে এই কাব্য রচিত হওয়ায় এটি তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অকাট্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।

      বিপ্রদাসের স্বকীয়তা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে চাঁদ সদাগরের বাণিজ্য যাত্রার বর্ণনায়। তিনি ভাগীরথী নদীর তৎকালীন প্রবাহপথের যে নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন, তা অন্য কোনো মঙ্গলকাব্যে পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়-

        কবি চুঁচুড়া, হালিশহর, খড়দহ, কামারহাটি এবং কলকাতার (ডিহি কলিকাতা) নাম উল্লেখ করেছেন।আর সেই উল্লেখ থেকে জানা যায় যে,১৫শ শতাব্দীর শেষে গঙ্গার প্রবাহ কেমন ছিল, তা জানার জন্য ঐতিহাসিকরা আজও বিপ্রদাসের কাব্যের ওপর নির্ভর করেন।

        বিপ্রদাস তৎকালীন বাংলার সমাজচিত্র, বিশেষ করে সপ্তগ্রাম বন্দরের সমৃদ্ধির কথা অত্যন্ত নিপুণভাবে এঁকেছেন। তাঁর কাব্যে তৎকালীন মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা কাব্যটিকে একটি সামাজিক ইতিহাসে উন্নীত করেছে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

         চরিত্র চিত্রণে স্বকীয়তা অতি স্পষ্ট মনসামঙ্গল কাব্যের।আর সেখানে আমারা দেখি- চাঁদ সদাগর অন্যান্য কবির কাব্যে অনেক সময় অতিরিক্ত জেদি বা রুক্ষ। বিপ্রদাসের কাব্যে চাঁদের ব্যক্তিত্বে এক ধরনের আভিজাত্য ও দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যায়। এরই পাশাপাশি আমরা দেখি-মনসা চরিত্রটি। আসলে এখানে দেবী মনসা কেবল প্রতিহিংসাপরায়ণ নন, বরং তাঁর দেবত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইটি অনেক বেশি যুক্তিনিষ্ঠ।

       সুকুমার সেনের মতে, বিপ্রদাসের ভাষা অনেক বেশি সংহত এবং মার্জিত। মধ্যযুগের কাব্যে অনেক সময় অশ্লীলতা বা অতিশয়োক্তি থাকে, কিন্তু বিপ্রদাস সেখানে অনেকটাই সংযত। তাঁর শব্দচয়ন এবং ছন্দের ব্যবহার আদি-মধ্যযুগের বাংলা ভাষার বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে।

       পরিশেষে বলা যায় যে, বিপ্রদাস পিপলাই কেবল একজন পৌরাণিক কাহিনীকার ছিলেন না, ছিলেন একজন সচেতন ইতিহাসকার। তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্যটি আদি মনসামঙ্গল এবং পরবর্তী বিজয়গুপ্ত বা মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করেছে। বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক মানচিত্র অঙ্কনে তাঁর কাব্য আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.




আপনার জন্য পরামর্শ:

পরীক্ষায় উত্তরের মান বাড়াতে ১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দ এবং সুকুমার সেনের সম্পাদনার কথাটি অবশ্যই আন্ডারলাইন করবেন।

আপনি কি চাঁদ সদাগরের নৌকাযাত্রা বা গঙ্গার গতিপথের বর্ণনা নিয়ে আলাদা করে কোনো পয়েন্ট চান? এটি ৫ নম্বরে

র টীকা হিসেবে খুব আসে।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...