গান্ধীজীর সর্বোদয় ধারণা আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস।
১) আমরা জানি যে,'সর্বোদয়' শব্দটি 'সর্ব' এবং 'উদয়'-এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।যার অর্থ হলো-'সকলের কল্যাণ' বা 'সকলের সমান উন্নতি'। গান্ধীজী জন রাস্কিনের বই 'Unto This Last' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই আদর্শটি প্রচার করেন।
•সর্বোদয় ধারণার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ•
•শ্রেণিহীন সমাজ গঠনঃ সর্বোদয় এমন এক সমাজব্যবস্থার কথা বলে যেখানে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ থাকবে না এবং শোষক ও শোষিতের কোনো স্থান থাকবে না।
•শ্রমের মর্যাদাঃ গান্ধীজী বিশ্বাস করতেন যে,একজন নাপিতের কাজ এবং একজন উকিলের কাজের মূল্য সমান হওয়া উচিত। অর্থাৎ, কায়িক শ্রম ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
•নিচুতলার মানুষের উন্নয়নঃ সমাজের সবথেকে পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক মানুষের উন্নতির মাধ্যমেই প্রকৃত 'সর্বোদয়' সম্ভব।
•অহিংসা ও নৈতিকতাঃ এই সমাজব্যবস্থা কোনো জোরজবরদস্তি বা বিপ্লবের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের পরিবর্তন এবং অহিংস উপায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে।
২)সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি গান্ধীজীর সর্বোদয় দর্শনের প্রয়োগিক দিকগুলি লক্ষ্য করলে দেখা যায়-
•গ্রাম স্বরাজঃ গান্ধীজীর মতে, ভারতের আত্মা গ্রামে বাস করে। তাই গ্রামগুলিকে আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংশাসিত করে তোলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
• ট্রাস্টিশিপঃধনী ব্যক্তিরা তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পত্তি সমাজের কল্যাণে ব্যয় করবেন—এই ছিল তাঁর ট্রাস্টিশিপ তত্ত্ব।
•কুটির শিল্পঃযান্ত্রিকীকরণের বদলে চরকা ও খাদি শিল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বয়ম্ভরতার ওপর তিনি জোর দিয়েছিলেন।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,সর্বদোয় হলো গান্ধীজীর পরিকল্পিত একটি শোষণমুক্ত, অহিংস এবং সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে সামাজিক কল্যাণকে স্থান দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে আচার্য বিনোবা ভাবে এই আদর্শকে 'ভূদান' আন্দোলনের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যান।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.
Comments
Post a Comment