Skip to main content

পদিপিসির বর্মীবাক্স' উপন্যাসের কথক এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে 'খোকা'র ভূমিকা আলোচনা করো।

পদিপিসির বর্মীবাক্স' উপন্যাসের কথক এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে 'খোকা'র ভূমিকা আলোচনা করো। তার সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি কীভাবে কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে গেছে?  (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মাইনর সিলেবাস)।

     আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,লীলা মজুমদারের 'পদিপিসির বর্মীবাক্স' একটি অনবদ্য কিশোর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস।আর এই উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে পদিপিসির হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের বাক্সকে কেন্দ্র করে। এই রহস্য উদ্ঘাটনের প্রধান কাণ্ডারি হলো 'খোকা'।আর সেই খোকার ভূমিকা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-

       উপন্যাসটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা যা দেখি বা শুনি যা, তা সবই কিশোর খোকার জবানবন্দিতে। সে কেবল গল্পের চরিত্র নয়, সে একজন সার্থক কথক। তার চোখ দিয়েই পাঠক পদিপিসির ভিটের রহস্যময় পরিবেশ, লুইত মামার খ্যাপামি আর বর্মীবাক্সের ইতিহাস জানতে পারে। তার সহজ-সরল বর্ণনাই কাহিনীকে পাঠযোগ্য ও জীবন্ত করে তুলেছে। আসলে-

         গল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো খোকার অদম্য কৌতূহল। বাড়ির বড়রা যখন স্রেফ লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সটি খুঁজছিল, খোকা তখন গোয়েন্দার মতো ছোট ছোট সূত্র মেলাতে শুরু করে। পদিপিসির সেই রহস্যময় ছড়াটি-

     "আঠারো আঙুল নিচে, যে আছে আমার পিছে"

     আসলে এর প্রকৃত অর্থ উদ্ধার করার পেছনে খোকার অনুসন্ধানী মনের বড় ভূমিকা ছিল। যেখানে -

      খোকার সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি কাহিনীকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।আর সেখানে আমরা দেখি যে,ভয়কে জয় করা। পদিপিসির পুরোনো ভিটে, যা ভূতের আড্ডা বলে পরিচিত ছিল, সেখানে খোকা নির্ভয়ে বিচরণ করেছে। ভৌতিক আওয়াজ বা পরিবেশ তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। তবে-

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

       বিপদ মোকাবিলায় আমরা দেখি-বর্মীবাক্স উদ্ধারের যাত্রায় সে যখন চোর ও ডাকাতদের (যেমন গোরুচোরা পচা) মুখোমুখি হয়েছে, তখন সে ঘাবড়ে না গিয়ে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে।আর সেখানে রহস্যময় সমাধানে ছড়াটির আক্ষরিক অর্থ না খুঁজে সে পদিপিসির স্বভাব ও তাঁর ঘর সাজানোর ভঙ্গি মিলিয়ে ধাঁধার সমাধান করে। তার এই উপস্থিত বুদ্ধিই শেষ পর্যন্ত মাটির তলায় লুকানো বাক্সটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

    খোকা কোনো অতিমানবীয় বীর নয়, বরং আমাদের চারপাশের খুব চেনা একজন কিশোর। তার ভুল করা, ভয় পাওয়া এবং আবার সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর মধ্যেই চরিত্রটির সার্থকতা নিহিত। সে দেখিয়েছে যে, বড়দের পেশ পেশি শক্তি বা টাকার লোভের চেয়ে শিশুর স্বচ্ছ বুদ্ধি ও সাহস অনেক বেশি কার্যকর।

         পরিশেষে আমরা বলতে পারি য, খোকা চরিত্রটি ছাড়া 'পদিপিসির বর্মীবাক্স' কেবল একটি পারিবারিক গল্পের তালিকা হয়ে থাকত। তারুণ্যের স্পর্ধা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং অদম্য অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়তাই এই উপন্যাসটিকে বাংলা কিশোর সাহিত্যের এক উজ্জ্বল রত্ন করে তুলেছে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...