Skip to main content

আইনের অনুশাসন।

আইনের অনুশাসন বলতে কী বোঝ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)

      আইনের অনুশাসন বলতে বোঝায়-রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা কোনো ব্যক্তি বা শাসকের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত না হয়ে আইনের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, আইনই হবে সর্বোচ্চ শক্তি; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়।আর এখানে-

    এ. ভি. ডাইসি প্রদত্ত তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য আইনের অনুশাসনকে তিনটি মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছেন-

       ১)আইনের প্রাধান্যঃ আইনের প্রাধান্য এর অর্থ হলো, আইন সবার ওপরে। কোনো ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যাবে না বা তার শরীর বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না, যতক্ষণ না তিনি দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করছেন। শাসক নিজের ইচ্ছামতো কাউকে সাজা দিতে পারেন না; শাস্তি পেতে হলে সাধারণ আদালতের মাধ্যমে আইন ভঙ্গের প্রমাণ হতে হবে।

    ২)আইনের দৃষ্টিতে সাম্যঃ অধ্যাপক ডাইসির মতে, দেশের সাধারণ আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। পদমর্যাদা নির্বিশেষে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই একই আইনের অধীনে। কোনো অপরাধের জন্য একজন সাধারণ মানুষ যে আদালতে বিচার পান, একজন সরকারি আধিকারিককেও সেই একই সাধারণ আদালতের সম্মুখীন হতে হবে।

      ৩)বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তঃ ইংল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে ডাইসি বলেছিলেন যে, নাগরিকদের অধিকার কেবল সংবিধানের ঘোষণার মাধ্যমে রক্ষিত হয় না, বরং আদালতের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে এই অধিকারগুলি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ, বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তই হলো ব্যক্তি-স্বাধীনতার প্রধান গ্যারান্টি।

                    •আধুনিক ধারণা ও গুরুত্ব•

বর্তমানে আইনের অনুশাসনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-

 •স্বৈরাচারের অবসানঃ এটি সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে স্বৈরাচারী শাসন রোধ করে।

 •মৌলিক অধিকার রক্ষাঃ নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

    •স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: আইনের অনুশাসন কার্যকর করার জন্য একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচারবিভাগ থাকা জরুরি।

       ভারতের সংবিধানে ১৪ নং ধারায় 'আইনের চোখে সাম্য' ও 'আইন কর্তৃক সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার' স্বীকার করার মাধ্যমে আইনের অনুশাসনকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে।


                          •সীমাবদ্ধতা•

         আইনের অনুশাসন একটি আদর্শ ব্যবস্থা, তবে বাস্তবে এর কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন- রাষ্ট্রদূত বা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানরা বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ পান।বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য আইনের সুফল পেতে বাধা দেয়।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...