উদাহরণসহ মিলের ব্যাতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।
•সংজ্ঞা ও মূলসূত্রঃ-যদি দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মিল থাকে এবং কেবল একটি বিশেষ অবস্থার উপস্থিতিতে একটিতে কার্যটি ঘটে ও অন্যটিতে না ঘটে, তবে ওই বিশেষ অবস্থাটিই হবে ওই কার্যের কারণ বা কার্যকারণ সম্পর্কের অংশ।
সহজ সূত্রঃ
•সদর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ আছে, সেখানে ‘খ’ আছে।
•নঞর্থক দৃষ্টান্ত-যেখানে ‘ক’ নেই, সেখানে ‘খ’ও নেই।
•সিদ্ধান্ত-অতএব, ‘ক’ হলো ‘খ’-এর কারণ।
•উদাহরণঃ দুটি একই রকমের সুস্থ চারাগাছ নেওয়া হলো। •প্রথম গাছটি (সদর্থক)। যেখানে আলো, বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো। দেখা গেল গাছটি সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে।
• দ্বিতীয় গাছটি (নঞর্থক): বাতাস, জল এবং সার দেওয়া হলো, কিন্তু আলো দেওয়া হলো না। দেখা গেল গাছটি মরে গেল বা বৃদ্ধি পেল না।
•সিদ্ধান্তঃসুতরাং, আলোই হলো গাছ সতেজ থাকার কারণ।
•ব্যাতিরব্যতিরেকী পদ্ধতির সুবিধা (বিচার - গুণ)
• নিশ্চিত প্রমাণঃ এটি অন্য পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়। বিশেষ করে বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে এর প্রয়োগ সবথেকে বেশি।
•আবিষ্কারের পথঃকোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এই পদ্ধতি বিজ্ঞানীদের দারুণ সাহায্য করে।
•পদ্ধতির অসুবিধা (বিচার - দোষ)
কাকতালীয় দোষঃ অনেক সময় একটি ঘটনার ঠিক আগে অন্য একটি ঘটনা ঘটলে আমরা ভুল করে আগেরটিকে কারণ মনে করি (Post hoc ergo propter hoc)। যেমন: ধূমকেতু দেখার পর রাজার মৃত্যু হলে ধূমকেতুকে কারণ ভাবা।
বহুকারণবাদঃএই পদ্ধতি অনেক সময় ভুলে যায় যে একটি কার্য একাধিক কারণেও ঘটতে পারে।
প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাঃ প্রকৃতির সব ক্ষেত্রে দুটি দৃষ্টান্তের মধ্যে মাত্র একটি পার্থক্য বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব।
ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত একটি পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি। এটি পর্যবেক্ষণ নির্ভর নয় বলে এর মাধ্যমে প্রমাণিত সত্য অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। তবে সাবধানতা অবলম্বন না করলে এটি 'কাকতালীয় দোষে' দুষ্ট হতে পারে।
Comments
Post a Comment