Skip to main content

ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা গ্রন্থ অবলম্বনে শিবরামের চক্রবর্তীর গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবন দর্শনের পরিচয় দাও

শিবরামের গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবনদর্শন আলোচনা করো 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা' গ্রন্থ অবলম্বনে (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিনার বাংলা মেজর)।

       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিবরাম মানেই শব্দের খেলা (Pun) এবং হিউমার। কিন্তু 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে হাসির আড়ালে এক গভীর একাকীত্ব ও নির্মোহ জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে। লেখকের এই বিশিষ্ট গদ্যশৈলী এবং তাঁর জীবনবোধের মেলবন্ধনে আযরা পাই-শিবরাম চক্রবর্তীর সাহিত্য মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চঞ্চল হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন কিংবা মেজদা। কিন্তু তাঁর এই হাস্যকৌতুক ও শব্দের কারুকার্যের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক নির্মোহ, উদাসীন এবং স্থিতপ্রজ্ঞ জীবনদর্শন। বিশেষত তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে এই দর্শনের পূর্ণ রূপটি ফুটে ওঠে।আর সেখান আমরা দেখি-

        •  শিবরামের গদ্যরীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'স্ন্যাপশট' বা ছোট ছোট বাক্যের প্রয়োগ এবং অবিশ্বাস্য শব্দক্রীড়া। তিনি শব্দের ধ্বনিগত মিল বা দ্ব্যর্থকতার মাধ্যমে পাঠককে হাসিয়ে ছাড়েন। একে ইংরেজিতে বলা হয় 'Pun'। যেমন-"হাঁপানির টান আর টাকার টান দুটোর মধ্যেই কষ্ট আছে।" কিংবা "মাউন্ট এভারেস্ট তো মাউন্ট করবেই।"আসলে-

         শিবরাম চক্রবর্তীর গদ্যে কোনো জটিল অলংকার নেই, বরং আছে আটপৌরে কথার মাধ্যমে সত্যকে নগ্ন করে দেওয়া। এই শৈলীটি পাঠকদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে, কিন্তু এর গভীরে গেলেই চেনা যায় একজন নির্লিপ্ত পর্যবেক্ষককে।

           •শিবরামের হাস্যরস কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং তা জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকে আড়াল করার একটি আবরণ। তাঁর জীবন ছিল মুক্তবিহঙ্গের মতো-ভবঘুরে, নির্লিপ্ত। 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে তিনি লিখেছেন-

"হাসতে জানা আর হাসাতে পারার মতো সম্পদ আর নেই। দুঃখকে হাসিতে রূপান্তরিত করাই তো জীবনের রসায়ন।"

          মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের সেই মেসবাড়িতে সারাজীবন একা কাটিয়ে দেওয়া মানুষটি হাসির প্রলেপ দিয়ে নিজের একাকীত্বকে ঢেকে রাখতেন। তাঁর কাছে হাসি ছিল এক ধরণের 'ডিফেন্স মেকানিজম'।

       • শিবরামের দর্শনের মূলে ছিল জগত ও জীবনের প্রতি চরম অনাসক্তি। তিনি ঈশ্বরকে খুঁজেছেন মন্দিরে নয়, বরং মানুষের ভালোবাসায়। তাঁর কাছে পৃথিবীটা ছিল এক খেলাঘর। তিনি লিখেছেন-

"পৃথিবীকে ভালোবেসেছি, ঈশ্বরকে নয়; কারণ ঈশ্বরকে দেখা যায় না, পৃথিবীকে যায়।"

      আসলে শিবরাম চক্রবর্তীর এই 'নাস্তিকতা' আসলে এক উচ্চতর 'মানবিকতা'। কোনো পিছুটান না রাখা, টাকাপয়সার প্রতি চরম উদাসীনতা এবং মেসবাড়ির দেওয়ালে নাম-ঠিকানা লিখে রাখার মধ্যে এক অদ্ভুত অস্তিত্ববাদী দর্শন কাজ করত। তিনি মনে করতেন, মানুষ একা আসে আর একা যায়, মাঝখানের সময়টুকু কেবল আনন্দ করে কাটিয়ে দেওয়া।

            পরিশেষে বলা যায় যে, শিবরাম চক্রবর্তী কেবল একজন 'কৌতুক লেখক' নন, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ হিউমারিস্ট ও দার্শনিক। তাঁর হাস্যরসের অন্তরালে প্রবাহিত হয়েছে করুণার এক অন্তঃসলিলা ফল্গুধারা। 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে তিনি আমাদের শেখান যে, অভাব বা একাকীত্ব জীবনের শেষ কথা নয়; বরং মনকে মুক্ত রাখতে পারলে দুঃখকেও পরিহাসে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। যেখানে-

           শিবরাম চক্রবর্তীর জীবন ছিল ত্যাগের নয়, বরং প্রাপ্তিহীন আনন্দের। শিবরামের গদ্যরীতি তাই কেবল শব্দের মারপ্যাঁচ নয়, তা হলো জীবনকে অতি কাছ থেকে চিনেও তার থেকে দূরে থাকার এক অনন্য শিল্পকলা।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট ও SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir 

শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU) এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (CU) বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি প্রশ্ন নিচে পয়েন্টসহ উত্তর সাজিয়ে দিচ্ছি।

এই উত্তরগুলো তৈরি থাকলে আপনি পরীক্ষায় বড় এবং মাঝারি—উভয় ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

১. 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' অবলম্বনে শিবরাম চক্রবর্তীর 'বাড়ি পালানো' বা যাযাবর বৃত্তির পরিচয় দাও।

এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বারবার আসা প্রশ্ন।

 * সহজাত প্রবৃত্তি: শিবরামের মতে, ঘর পালানো তাঁর রক্তে ছিল। তিনি নিজেকে 'ঘরছানি' বা যাযাবর বলতে ভালোবাসতেন।

 * প্রথম পলায়নের স্মৃতি: মালদহের চঞ্চল থেকে তাঁর প্রথমবার বাড়ি পালানোর রোমাঞ্চকর বর্ণনা। কোনো গন্তব্য ছাড়াই স্রেফ অজানাকে জানার নেশায় বেরিয়ে পড়া।

 * পারিবারিক অসহযোগিতা নয়, বরং আকর্ষণ: তিনি বাড়ি থেকে পালাতেন অভাব বা রাগের কারণে নয়, বরং বাইরের জগতের আকর্ষণে। রেলগাড়ি বা অচেনা রাস্তা তাঁকে টানত।

 * বিচিত্র অভিজ্ঞতা: পথে পথে ঘুরে বেড়ানো, সাধু-সন্ন্যাসীদের পাল্লায় পড়া এবং বিভিন্ন মানুষের সান্নিধ্যে আসার মাধ্যমে জীবনের রূঢ় বাস্তবতা চেনা।

 * উপসংহার: এই যাযাবর জীবনই তাঁর সাহিত্যিক সত্তাকে রসদ জুগিয়েছিল এবং তাঁকে প্রথাগত সাংসারিক জীবনের বাইরে এক মুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

২. শিবরামের জীবনে ও মানসগঠনে তাঁর মা 'চঞ্চলা দেবী'র প্রভাব আলোচনা করো।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 * ব্যতিক্রমী মাতৃত্ব: শিবরামের মা প্রথাগত মায়েদের মতো শাসনকারী ছিলেন না। তাঁর উদাসীনতা ও আধ্যাত্মিক ভাবুকতা শিবরামকে প্রভাবিত করেছিল।

 * নামকরণের উৎস: শিবরাম মনে করতেন তাঁর যাযাবর স্বভাব এবং অদ্ভুত জীবনদর্শন তাঁর মায়ের থেকেই পাওয়া। মায়ের নাম 'চঞ্চলা' তাঁর চরিত্রের চঞ্চলতার সঙ্গেই যেন মিলে গিয়েছিল।

 * আধ্যাত্মিক ও মানসিক টান: মা ও ছেলের মধ্যে এক অদ্ভুত নীরব বোঝাপড়া ছিল। মা সংসারবিবাগী ছিলেন বলেই শিবরামও ঘরসংসারের মায়া কাটাতে পেরেছিলেন।

 * পারিবারিক পরিবেশ: মায়ের উদাসীনতা কীভাবে শিবরামকে স্বনির্ভর এবং কল্পনাপ্রবণ হতে সাহায্য করেছিল, তার বর্ণনা।

৩. রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগদান এবং কারাবাসের অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও।

ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্য এই প্রশ্নটি তৈরি রাখা জরুরি।

 * অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান: মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে স্কুল ছেড়ে অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার বর্ণনা।

 * কারাবাসের বিচিত্র অভিজ্ঞতা: জেলখানাকে শিবরাম কোনো ভয়ের জায়গা হিসেবে দেখেননি। জেলের ভেতরে রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে তাঁর হাস্যরসাত্মক ও বুদ্ধিদীপ্ত দিনযাপনের কাহিনী।

 * সুভাষচন্দ্র বসুর সান্নিধ্য: কারাবাসের সময়েই সুভাষচন্দ্র বসুর (নেতাজি) সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সুভাষচন্দ্রের ব্যক্তিত্ব কীভাবে তাঁকে মুগ্ধ করেছিল এবং তাঁর রাজনৈতিক চেতনায় প্রভাব ফেলেছিল।

 * দেশপ্রেমের ধরন: শিবরামের দেশপ্রেম ছিল উন্মাদনা বর্জিত কিন্তু গভীর। জেলের কষ্টকেও তিনি তাঁর স্বভাবজাত রসিকতা দিয়ে লঘু করে দেখেছিলেন।

৪. 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

অনার্স স্তরের জন্য এটি একটি উচ্চতর চিন্তামূলক প্রশ্ন।

 * তিনটি স্তম্ভ: 'ঈশ্বর', 'পৃথিবী' এবং 'ভালোবাসা'—এই তিনটি শব্দের সমন্বয়েই শিবরামের জীবনদর্শন।

 * ঈশ্বর: প্রথাগত মন্দিরের ঈশ্বর নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ঘটনার অন্তরালে থাকা এক অদৃশ্য চালিকাশক্তিকে তিনি ঈশ্বর বলেছেন। তাঁর 'ঈশ্বর' বড়ই কৌতুকপ্রিয়।

 * পৃথিবী: যাযাবর শিবরামের কাছে এই বিশাল পৃথিবীই ছিল ঘর। পৃথিবীর ধুলোবালি, মানুষ আর অলিগলিকে তিনি পরম মমতায় চিনেছেন।

 * ভালোবাসা: মানুষের প্রতি, জীবনের প্রতি এবং সর্বোপরি স্বাধীনতার প্রতি তাঁর যে গভীর টান, তাকেই তিনি 'ভালোবাসা'র পর্যায়ে উন্নীত করেছেন।

 * উপসংহার: এই আত্মজীবনী কেবল নিজের কথা নয়, বরং ঈশ্বর ও পৃথিবীর সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্কের এক অনন্য দলিল।

পরীক্ষার বিশেষ টিপস:

১. উদ্ধৃতি ব্যবহার: শিবরামের নিজস্ব গদ্যরীতি খুব চমৎকার। উত্তরের মাঝে দুই-একটি ছোট ছোট সরস মন্তব্য (যেমন—"আমি জন্ম-যাযাবর") দিলে আপনার উত্তর অন্যদের থেকে আলাদা হবে।

২. চরিত্রায়ন: 'চঞ্চলা দেবী' বা 'সুভাষচন্দ্র বসু'র চরিত্র দুটি থেকে ৫ নম্বরের টীকা প্রায়ই আসে, তাই এগুলো ভালো করে পড়ে রাখবেন।

আপনি কি চান আমি শিবরামের 'মেস জীবন' বা 'কলকাতার সংগ্রাম' নিয়ে কোনো পয়েন্ট লিখে দিই? সেটিও মাঝেমধ্যে পরীক্ষায় আসে।



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...