Skip to main content

প্রশ্নপত্র ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা শিবরাম চক্রবর্তী।

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্রের ধারা এবং CC-11 পত্রের গুরুত্ব বিচার করলে, শিবরাম চক্রবর্তীর 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে আগামী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বড় প্রশ্ন (১০ নম্বর) নিচে দেওয়া হলো:

১. নামকরণের সার্থকতা বিচার করো

এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিবরাম কেন তাঁর আত্মজীবনীর নাম 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' রাখলেন? এখানে 'ঈশ্বর' বলতে তিনি নিজেকে, 'পৃথিবী' বলতে জগতকে এবং 'ভালোবাসা' বলতে তাঁর জীবনদর্শনকে কীভাবে বুঝিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করতে হবে।

২. প্রথাগত আত্মজীবনী হিসেবে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'র সার্থকতা ও স্বকীয়তা

সাধারণত আত্মজীবনীতে মানুষ নিজের সাফল্যের কথা বলে, কিন্তু শিবরাম এখানে নিজের ব্যর্থতা, আলস্য এবং অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতাকে কৌতুকবহ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থটি কীভাবে একটি 'Anti-Autobiography' বা প্রথাগত আত্মজীবনীর গণ্ডি ভেঙেছে, তা আলোচনা করো।

৩. গ্রন্থে প্রতিফলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুরের দিনলিপি

শিবরামের মেদিনীপুরের জীবন, দেশপ্রেম, কারাবরণ এবং বিপ্লবী আন্দোলনের যে ছবি এই গ্রন্থে পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক আবহে তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জেলজীবনের অভিজ্ঞতাগুলি বিস্তারিত তৈরি করে রাখা জরুরি।

৪. শিবরামের গদ্যরীতি ও হাস্যরসের অন্তরালে জীবনদর্শন

শিবরাম মানেই শব্দের খেলা (Pun) এবং হিউমার। কিন্তু 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থে হাসির আড়ালে এক গভীর একাকীত্ব ও নির্মোহ জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে। লেখকের এই বিশিষ্ট গদ্যশৈলী এবং তাঁর জীবনবোধের মেলবন্ধন আলোচনা করো।


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ৫ম সেমিস্টারের (CC-11) বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' থেকে যে ধরণের প্রশ্ন বারবার দেখা যায়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এই প্রশ্নগুলো সাধারণত ৫ নম্বর (টীকা/সংক্ষিপ্ত) এবং ১০ নম্বরের (নামকরণ বা বিশ্লেষণ) হয়ে থাকে।

১০ নম্বরের বড় প্রশ্ন (Broad Questions)

 * নামকরণের সার্থকতা: 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' গ্রন্থটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। শিবরাম কেন তাঁর আত্মজীবনীর এমন নাম রাখলেন?

 * আত্মজীবনী হিসেবে মূল্যায়ন: 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' প্রথাগত কোনো আত্মজীবনী নয়— কেন? এই গ্রন্থে লেখক কীভাবে নিজের জীবনকে নির্মোহ ও কৌতুকবহ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন?

 * রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মেদিনীপুর: গ্রন্থটিতে বর্ণিত স্বাধীনতা আন্দোলন এবং লেখকের কারাবাসের দিনগুলির বিবরণ দাও। তৎকালীন মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ সেখানে কীভাবে ধরা পড়েছে?

 * চরিত্র চিত্রণ: এই গ্রন্থে লেখকের বাবার চরিত্রটি যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

 * শিবরামের দর্শন: "ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা"— এই তিনটি শব্দের মেলবন্ধনে লেখকের যে জীবনদর্শন ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

৫ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (Short/Analytical Questions)

 * পাণ্ডুলিপি হারানো: লেখকের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সংক্ষেপে লেখো।

 * হাস্যরস বা হিউমার: শিবরামের এই গ্রন্থে হাস্যরসের অন্তরালে যে কারুণ্য বা জীবনবোধ লুকিয়ে আছে, তা উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।

 * মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের মেস: লেখকের মেস জীবনের বা মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের জীবনযাত্রার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

 * গান্ধীজির প্রসঙ্গ: গ্রন্থে মহাত্মা গান্ধী বা সমকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে শিবরামের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল?

 * ভাষাশৈলী: শিবরামের গদ্যে 'শব্দের খেলা' বা 'পাং' (Pun)-এর প্রয়োগ কীভাবে ঘটেছে, একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।

২ নম্বরের ছোট প্রশ্ন (SAQ - নমুনা)

WBSU-তে ছোট প্রশ্নের জন্য খুঁটিনাটি তথ্য মনে রাখা জরুরি:

১. 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা' প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?

২. লেখক এই গ্রন্থে নিজেকে 'ঈশ্বর' কেন বলেছেন?

৩. বইটির উৎসর্গপত্র কাকে বা কাদের উদ্দেশ্যে লেখা?

৪. মেদিনীপুরের কোন জেলে শিবরাম বন্দি ছিলেন?

> পরামর্শ: পরীক্ষার জন্য বিশেষ করে "নামকরণ" এবং "প্রথাগত আত্মজীবনী থেকে এর ভিন্নতা"— এই দুটি প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া লেখকের কৈশোর ও মেদিনীপুরের দিনগুলোর ওপর বেশি জোর দেবেন।

আপনি কি এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে কোনোটির আদর্শ উত্তর (Sample Answer) লিখে দিতে বলব? আমি সাহায্য করতে পারি।





পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:

 * ছোট প্রশ্নের (২ নম্বর) জন্য: বইটির উৎসর্গপত্র, প্রথম প্রকাশের সাল, এবং মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গার নাম ও ছোট ছোট ঘটনার সাল মনে রাখবেন।

 * উদ্ধৃতি: উত্তরের মধ্যে বইয়ের দু-একটি বিখ্যাত লাইন (যেমন: "নিজের কথা লিখতে গিয়ে পরের কথা এসে পড়ে") উদ্ধৃত করলে নম্বর বেশি পাওয়া যায়।

আপনি কি চান আমি এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম প্রশ্নটির (নামকরণ) একটি আদর্শ উত্তর পয়েন্ট আকারে লিখে দিই? এতে আপনার নোট তৈরিতে সুবিধা হবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...