Skip to main content

 হিমবাহের কাজ আলোচনা করো।

আমরা জানি যে,হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার প্রকৃতির এক বিশাল শক্তিশালী রূপান্তরকারী শক্তি। নদী যেমন জলস্রোতের মাধ্যমে ভূমিকে পরিবর্তন করে, হিমবাহ তার বিশাল ওজনের বরফের চলন বা গতির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।আর সেখানে হিমবাহ প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ায় তার কাজ সম্পন্ন করে। আর সেই কাজগুলি হলো-

          ক্ষয়কাজ, বহনকাজ এবং সঞ্চয়কাজ।

১)হিমবাহের ক্ষয়কাজঃহিমবাহ তার চলনপথে মূলত দুটি পদ্ধতিতে ক্ষয় চালায়-

 ক)উৎপাটন (Plucking): হিমবাহ যখন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামে, তখন বরফ পাহাড়ের ফাটলের পাথরগুলোকে আলগা করে উপড়ে নিয়ে আসে।

 খ)অঘর্ষ (Abrasion): হিমবাহের সাথে আটকে থাকা পাথরগুলো পাহাড়ের গায়ে ঘষা খেয়ে মসৃণ বা আঁচড় কাটা তৈরি করে।

সৃষ্ট ভূমিরূপ:

 * সার্ক বা করি (Cirque): পাহাড়ের গায়ে আরামকেদারার মতো দেখতে গর্ত।

 * U-আকৃতির উপত্যকা: নদী যেমন V-আকৃতির উপত্যকা তৈরি করে, হিমবাহের ঘর্ষণে উপত্যকাগুলো ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো চওড়া ও গভীর হয়।

 * ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging Valley): প্রধান হিমবাহের ওপর যখন ছোট ছোট উপশাখা হিমবাহ এসে পড়ে, তখন জলপ্রপাতের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়।

২. হিমবাহের বহনকাজ (Transportational Work)

ক্ষয় করার ফলে প্রাপ্ত পাথর, নুড়ি, বালু এবং কাদা হিমবাহ নিজের দেহের ওপর, ভেতরে বা নিচে করে বয়ে নিয়ে চলে। একেই হিমবাহের বহনকাজ বলা হয়। এই বাহিত পদার্থগুলোকে একত্রে 'মোরেন' (Moraine) বা 'গ্রাফরেখা' বলে।

৩. হিমবাহের সঞ্চয়কাজ (Depositional Work)

হিমবাহ যখন গলতে শুরু করে বা তার বহন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন বাহিত পদার্থগুলো কোনো স্থানে জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে।

সৃষ্ট ভূমিরূপ:

 * গ্রাফরেখা (Moraine): সঞ্চয়ের অবস্থান অনুযায়ী এগুলো পার্শ্ব গ্রাফরেখা, মধ্য গ্রাফরেখা বা প্রান্ত গ্রাফরেখা হতে পারে।

 * ড্রামলিন (Drumlin): উল্টানো নৌকার মতো দেখতে ছোট ছোট পাহাড়। অনেক সময় একে 'ডিমের ঝুড়ি' (Basket of eggs topography) বলা হয়।

 * এস্কার (Esker): হিমবাহের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলস্রোত যখন নুড়ি-পাথর জমা করে দীর্ঘ আঁকাবাঁকা বাঁধের মতো গঠন তৈরি করে।

> সংক্ষেপে: হিমবাহ শুধু বরফের স্তূপ নয়, এটি প্রকৃতির এক নিপুণ ভাস্কর যা পাহাড়কে ক্ষয় করে এবং সমভূমিতে পলি ও পাথর জমিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দেয়।

আপনি কি হিমবাহের ফলে সৃষ্ট কোনো নির্দিষ্ট ভূমিরূপ (যেমন: ড্রামলিন বা সার্ক) সম্পর্কে আরও বিস্তারিত চিত্রস।হ বর্ণনা জানতে চান?


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...