Skip to main content

  সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'মেঘচোর'

নমস্কার বন্ধুরা, "শেষের কবিতা সুন্দরবন" চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। আজ আমরা আলোচনা করব সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা একটি অসাধারণ সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান গল্প **'মেঘচোর'**। বিজ্ঞানের অহংকার নাকি প্রকৃতির নিয়ম—শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়? তা নিয়েই আজকের এই ভিডিও।

 মূল গল্পের পটভূমি 

        •গল্পের মূল নায়ক বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরী। তিনি আবহাওয়া বিজ্ঞানে এমন এক অভাবনীয় কৌশল আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি বিশাল মেঘখণ্ডকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল সাহারা মরুভূমিতে বৃষ্টি নামিয়ে তাকে সবুজ করে তোলা। কিন্তু এই মহান উদ্দেশ্য সফল হওয়ার আগেই বাধে বিপত্তি।

  •কারপভ: গল্পের নেপথ্য নায়ক 

       পুরন্দর চৌধুরীর এই জেদ আর রাগের মূলে আছেন বিজ্ঞানী কারপভ। কারপভ ছিলেন পুরন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী। পুরন্দর যখন মেঘ নিয়ে গবেষণা করছিলেন, তখন কারপভ হিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁকে 'মেঘচোর' বলে অপবাদ দেন। কারপভ প্রচার করেন যে পুরন্দর প্রকৃতির সম্পদ চুরি করছেন। সারা বিশ্ব যখন পুরন্দরকে বিজ্ঞানী হিসেবে সম্মান না দিয়ে 'চোর' বলে বিদ্রূপ শুরু করল, তখন পুরন্দরের মনে জন্ম নিল তীব্র প্রতিহিংসা। তিনি ঠিক করলেন, যে পৃথিবী তাঁকে অপমান করেছে, সেই পৃথিবীর আবহাওয়া তিনি নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ করবেন।

 •অসীমা ও পরিবেশের ভারসাম্য 

       পুরন্দর চৌধুরী যখন আটলান্টিক থেকে সংগৃহীত মেঘ নিয়ে সাহারার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর দেখা হয় এক বুদ্ধিমতী মেয়ে অসীমা-র সাথে। অসীমা আসলে পুরন্দরের ভাইয়ের মেয়ে। অসীমা এখানে যুক্তিবাদ ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক। সে পুরন্দরকে বোঝাতে থাকে যে-

  এক জায়গার মেঘ অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া মানে প্রকৃতির নিয়মে বেআইনি হস্তক্ষেপ।কারপভ তাঁকে অপমান করেছেন ঠিকই, কিন্তু তার বদলে আবহাওয়া ধ্বংস করলে গোটা মানবজাতি বিপন্ন হবে।প্রকৃতি কোনো একক মানুষের জেদ মেটানোর জায়গা নয়।

চূড়ান্ত পরিণতি।

      অসীমা অত্যন্ত কৌশলে পুরন্দরের সেই বিশেষ যন্ত্র বা 'পারদ-গোলক বা মারকিউরি বল' ব্যবহার করে মেঘটিকে বরফ বানিয়ে আবার আটলান্টিকেই ফিরিয়ে দেয়। পুরন্দর চৌধুরী তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। কারপভের দেওয়া অপমানের ক্ষত মুছে গিয়ে তাঁর মনে শুভবুদ্ধির উদয় হয়। তিনি উপলব্ধি করেন, বিজ্ঞান ধ্বংসের জন্য নয়, সৃষ্টির জন্।

      সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই গল্পের মাধ্যমে আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের মেধা যখন অহংকারে পরিণত হয়, তখন তা বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃতিকে জয় করা নয়, বরং প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলাই হলো প্রকৃত বিজ্ঞান।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...