Skip to main content

সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS14,Unit-II.

সুবোধ ঘোষের 'অযান্ত্রিক' ছোটগল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মেজর।DS14,Unit-II.

         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,সাহিত্যে নামকরণ কেবল কোনো রচনার পরিচয়বাহী নামমাত্র নয়,আসলে তা হলো সমগ্র সৃষ্টির অন্তঃসার।তবে নাম দেখেই পাঠক গল্পের অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পায়। কল্লোল-পরবর্তী বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম মৌলিক কথাকার সুবোধ ঘোষ তাঁর ‘অযান্ত্রিক’ গল্পে এমন এক নামকরণের আশ্রয় নিয়েছেন, যা প্রথম পাঠে আপাত-বিরোধী বা কৌতূহলকর মনে হলেও গল্পের মূল ভাববস্তু ও মনস্তাত্ত্বিক সত্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে।যেখানে যন্ত্র ও মানুষের সম্পর্কের জটিল রসায়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পের নামকরণের সার্থকতা গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।তবে-

       অভিধান অনুযায়ী ‘অযান্ত্রিক’ শব্দের অর্থ হলো-যা যান্ত্রিক নয়, বা যাতে যন্ত্রের কোনো ভূমিকা নেই; যা মায়াময়, অনুভূমিক এবং মানবিক। অথচ গল্পের বাহ্যিক অবয়বটি সম্পূর্ণ 'যান্ত্রিক'। গল্পের মূল উপজীব্য হলো একটি পুরোনো, জীর্ণ, পনেরো বছরের ভাঙাচোরা ‘শেভ্রোলেট’ ব্র্যান্ডের ট্যাক্সি, যার নাম ‘জগদ্দল’ এবং তার চালক বিমল। বিমলের দিনলিপি, জীবিকা ও প্রাত্যহিক চিন্তা আবর্তিত হয়েছে এই মোটর গাড়িটিকে কেন্দ্র করেই। ফলে আপাতদৃষ্টিতে গল্পটিকে অত্যন্ত ‘যান্ত্রিক’ মনে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু লেখক সুবোধ ঘোষ এখানেই তাঁর কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন; তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বিমলের নিবিড় ছোঁয়ায় এবং হৃদয়ের প্রক্ষেপে এই জড় যন্ত্রটিই শেষ পর্যন্ত এক ‘অযান্ত্রিক’ আত্মিক সত্তায় রূপান্তরিত হয়েছে।আর সেখানে-

          বিমলের কাছে জগদ্দল কেবল লোহা-লক্কড়, টিন আর মবিলের এক জড় সমষ্টি নয়। একাকী ও সমাজ-বিচ্ছিন্ন বিমল তার নিঃসঙ্গ জীবনের সমস্ত অবদমিত স্নেহ, ভালোবাসা আর মায়া এই গাড়িটির ওপর প্রক্ষেপ করেছে। বিমলের বিশ্বাস, জগদ্দলের একটি নিজস্ব মন ও চরিত্র আছে। তাই সে তার গাড়ির সঙ্গে মানুষের মতোই আচরণ করে। বিমলের দৃঢ় ধারণা, জগদ্দল কোনো অন্যায় বা অসম্মান সহ্য করতে পারে না। লাইনে বেশি যাত্রী তুললে বা অন্য কোনো চালক তার স্টিয়ারিং ধরলে গাড়িটি বিগড়ে যায়। লেখকের ভাষায়-

   "জগদ্দল কোন অন্যায় সহ্য করে না। তিনজনের বেশি সওয়ারী চাপাও, জগদ্দল কিছুতেই নড়বে না।"

        আলোচ্য গল্পে যন্ত্রের শরীরে জেদ আমরা দেখতে পাই-চাতরা চটির খাড়াই পাহাড়ি রাস্তা পার হওয়ার সময় যখন গাড়ির ইঞ্জিন গরম হয়ে ওঠে এবং তা বিকট শব্দ করতে থাকে, তখন বিমলের মনে হয় তা কোনো মেকানিক্যাল ত্রুটি নয়, বরং তা জগদ্দলের পুরুষকার ও লড়াই। গল্পকার সুবোধ ঘোষের কথায়-

   "যন্ত্রের শরীরে যেন একটা অদম্য জেদ জেগে উঠেছে। ধোঁয়া ছেড়ে, জল ফুটিয়ে, সমস্ত কলকব্জা কাঁপিয়ে গোঁ গোঁ শব্দে জগদ্দল চড়াইয়ের বুক চিরে ওপরে উঠতে থাকে।"

         তবুও অযান্ত্রিক গল্পে প্রেমিকা ও সন্তানের রূপ প্রকাশ পায়। সেখানে আমরা দেখি- বিমল যখন পরম যত্নে গাড়ির গায়ে হাত বোলায়, তখন তার মনে হয় সে কোনো অবাধ্য অশ্ব বা অভিমানী প্রেমিকাকে শান্ত করছে। আবার কখনো সে তার সন্তানের মতো যত্ন পায়। বিমলের চোখে সে কোনো জড় পদার্থ নয়।আসলে-

   "জগদ্দল বিমলের শুধু অন্নদাতা নয়, তার চেয়েও কিছু বেশি। বিমলের একাকী জীবনের একমাত্র সাথি, একমাত্র সজীব সত্তা।"

        আর এইভাবে, বিজ্ঞানের চরম সৃষ্টি একটি 'যান্ত্রিক' বস্তুকে বিমল তার হৃদয়ের সমস্ত আবেগ, স্নেহ আর ভালোবাসা দিয়ে ‘অযান্ত্রিক’ করে তুলেছে।শুধুমাত্র তাই নয়- 

 সুবোধ ঘোষের অযান্ত্রিক গল্পে আছে এক মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট।যেখানে মনস্তত্ত্বের ভাষায় বিমলের এই আচরণকে বলা হয় ‘প্রক্ষেপণ’ বা Psychological Projection। রাঁচি ও চাতরা চটির আদিবাসী সাঁওতাল সমাজের সহজ-সরল প্রকৃতির পটভূমিতে বিমল এক নির্বাসিত, একাকী চরিত্র। মানবসমাজে তার নিজের আবেগ বা ভালোবাসা প্রকাশের কোনো স্থান ছিল না বলেই সে এক জড় বস্তুর মধ্যে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে যন্ত্রের সঙ্গে তার সম্পর্কটি কোনো মেকানিকের সম্পর্ক নয়, তা সম্পূর্ণ হৃদয়ঘটিত এবং ‘অযান্ত্রিক’।আসলে-

         অযান্ত্রিক  গল্পের ট্রাজিক পরিণতি ও মোহাচ্ছন্নতার অবসান হয়।গল্পের নামকরণের চূড়ান্ত সার্থকতা প্রমাণিত হয় এর সমাপ্তিতে। দীর্ঘদিনের জীর্ণতার পর একদিন জগদ্দলের ইঞ্জিন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়। বিমলের সমস্ত অনুনয়-বিনয়, জল-তেল ঢালা ও সেবা ব্যর্থ করে দিয়ে সে অচল হয়ে পড়ে। অনন্যোপায় হয়ে বিমল যখন তার সর্বক্ষণের সঙ্গীকে এক মাড়োয়ারি ভাঙারিওয়ালার কাছে সস্তায় লোহা-লক্কড়ের দরে বিক্রি করে দেয়, তখন বিমলের মনের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সে অনুভব করে, সে যেন কোনো জড় বস্তু বিক্রি করেনি, বরং তার নিজের জীবনের একটা অংশকে বা তার কোনো পরম আত্মীয়কে বিসর্জন দিয়েছে। যখন জগদ্দলকে কসাইয়ের মতো টুকরো টুকরো করে কেটে গরুর গাড়িতে চাপানো হচ্ছিল, তখন বিমলের মানসিক দশা ছিল এক শোকাতুর পিতার মতো। লেখকের বর্ণনায়-

   "জগদ্দলের ভাঙা কঙ্কালটা যখন গরুর গাড়িতে বোঝাই হয়ে চলে যাচ্ছিল, বিমল তখন চোখ বুজে রইল। তার মনে হলো, সে যেন তার নিজের বুক থেকে একটা পাঁজর খসিয়ে বিদায় দিচ্ছে।"

      তবে অন্তিম দৃশ্য ও নামকরণের চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করে। আর সেখানে গল্পের একদম শেষ দৃশ্যটি নামকরণের সার্থকতাকে এক কালজয়ী ও দার্শনিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। জগদ্দল চলে যাওয়ার পর বিমল যখন রাস্তার ধারে একাকী, রিক্ত মনে বসে আছে, তখন সে দেখে একটি ছোট শিশু কাদার মধ্যে পড়ে থাকা একটা স্প্রিং-ভাঙা খেলনা মোটর গাড়ির হর্ন বা চোঙা নিয়ে মনের আনন্দে শব্দ করে খেলছে। খেলনাটি ভাঙা, তা থেকে কোনো আসল আওয়াজ বের হয় না-তবুও শিশুটির আনন্দের কোনো সীমা নেই।আসলে-

         এই দৃশ্যটি দেখে বিমলের দীর্ঘদিনের মোহভঙ্গ ঘটে এবং তার শুষ্ক ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অমায়িক হাসি ফুটে ওঠে। সে এক পরম সত্য উপলব্ধি করতে পারে। আনন্দ বা মায়া আসলে লোহার তৈরি ওই নির্জীব ‘জগদ্দল’ গাড়িটার ভেতরে ছিল না।সজীবতা ও ভালোবাসার উৎস ছিল বিমলের নিজের হৃদয়ের ভেতরে।যন্ত্র ক্ষণস্থায়ী এবং নশ্বর, তা কখনো চিরন্তন সঙ্গী হতে পারে না; কিন্তু মানুষের মনের ভেতরের যে শিশুসুলভ মায়া, আবেগ বা আনন্দের উৎস-তা শাশ্বত, অবিনশ্বর এবং সম্পূর্ণ ‘অযান্ত্রিক’।

          সমগ্র গল্পটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুবোধ ঘোষ ‘অযান্ত্রিক’ নামকরণের মাধ্যমে এই মহৎ জীবনসত্যটিই প্রতিপন্ন করেছেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে যতই যান্ত্রিক ও জড়বাদী করে তুলতে চাক না কেন, মানুষের মনের আদিম ও শাশ্বত আবেগ-অনুভূতিগুলোকে কখনো ‘যান্ত্রিক’ ছাচে ঢালাই করা যায় না। বাহ্যিকভাবে একটি মোটর গাড়ির গল্প হয়েও এটি আসলে মানুষের হৃদয়ের এক পরম অযান্ত্রিক আকুলতার মনস্তাত্ত্বিক আলেখ্য। যন্ত্রের ওপর মানুষের মনের এই আধিপত্য এবং শেষ পর্যন্ত মোহের অবসান ঘটিয়ে মানবিক চেতনার জয়গান গাওয়ার কারণেই এই গল্পের নামকরণ সর্বাংশে সার্থক, ব্যঞ্জনাধর্মী ও শিল্পোত্তীর্ণ হয়ে উঠেছে।

 ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KABITA SUNDORBON YouTube channel SAMARESH SIR 

 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...