Skip to main content

কামরূপী উপভাষা কোন কোন অঞ্চলে প্রচলিত? এই ভাষার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সহ এর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

কামরূপী উপভাষা কোন কোন অঞ্চলে প্রচলিত? এই ভাষার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সহ এর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।

      আমরা জানি যে, উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার দার্জিলিং এর কিছু অংশ, বাংলাদেশের শ্রীহট্ট, রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলে কামরূপী উপভাষা প্রচলিত। তবে এই ভাষার অপর আরেকটি নাম হলো রাজবংশী উপভাষা। আর এই ভাষার ক্ষেত্রে শ্বাসাঘাতের নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। এই কামরূপী  উপভাষার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ। তবে শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্যে এবং পরবর্তীতে মনসামঙ্গল ও বিভিন্ন পাঁচালীতে এই ভাষার নিদর্শন পাওয়া যায়।

• কামরূপী উপভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য 

১) পদের আদিতে ব্যতীত,অন্যত্র অবস্থিত ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ যথাক্রমে গ, জ, ড, দ, ব-তে পরিণত হয়। যেমন মেঘ> মেগ।

২) বঙ্গালীর মতো ড়>র,জ, চ, শ, স=z, ৎস, হ ধ্বনিতে পরিণত হয়। যেমন জল >zল।

৩) শব্দের আদিতে অবস্থিত 'অ' কখনো 'আ' তে পরিণত হয়। তেমন অতি >আতি।

৪) আদি অক্ষরে শ্বাসাঘাতের ফলে মধ্য স্বরধ্বনি লোপ এবং ত্রিমাত্রিকতার উদ্ভব হয়। যেমন কোটকা > কোট্ কা।

৫) কামরূপী উপভাষায় বঙ্গালীর মতো ব্যাপক অপিনিতি হয় না। তবে সীমিত প্রয়োগ দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে 'ন' এবং 'ল' এর বিপর্যাস দেখা যায়। যেমন- জননী > জলনী।

• কামরূপী উপভাষার রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য 

১) কারকঃক). শব্দরূপ ও গৌণ কর্ম সম্প্রদানে, অধিকরণে যথাক্রমে কে, ত, যেমধ বিভক্তির ব্যবহার। যেমন ঘরকে গেলাম ( ঘরে গেলাম )।

খ) গৌণ কারকে 'ক' বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন হামাক ভাত দ্যাও।

গ) অপদানে 'থাকি' অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন- ঘর থাকি।

২) কামরূপী উপভাষায় অসমাপিকা প্রত্যয় -'ই' যোগ হয়। যেমন করি, দেখি, পাই।

৩) সামান্য অতীত কালের ক্রিয়ার উত্তম পুরুষের বিভক্তি'নু' এবং প্রথম পুরুষ একবচনে 'তুই' বহুবচনে 'তোমারা' ব্যবহৃত হয়।

৪) যৌগিক ক্রিয়াপদে ক্ষেত্রবিশেষে 'খোয়া', 'খা'(খাদ>খোয়া>খা) ধাতুর ব্যবহার হয়।

৫) সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে নঞর্থক অব্যয়ের ব্যবহার হয়। যেমন- না লেখিম।

 আসলে কামরূপীর একটা বিভাষা- রংপুরি বা রাজবংশী। একে বরেন্দ্রীর একটা শাখাও বলা যায়। 'রাজবংশী' এই জাতিগত নামকরণ অবশ্য সঙ্গত নয় (ড. শহীদুল্লাহ)

 নিদর্শনঃ :হামাক কুন দিন দ্যাক নাই?বাপোক বারি ছিনু। আজ ঘরত যামু।'।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...