ভাষাচর্চা, সপ্তম শ্রেণী।
১) ধ্বন্যাত্মক শব্দঃ যেসব শব্দ কোনো জড় বা জীবন্ত বস্তুর স্বভাবজাত ধ্বনি বা আওয়াজের অনুকরণে তৈরি হয়, তাদের ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আরোও সহজ ভাবে বলা যায় যে-
ব্যাকরণের ভাষায়, কোনো কিছু ঘটার ফলে যে শব্দের সৃষ্টি হয়, সেই শব্দের অনুকরণে তৈরি শব্দই হলো ধন্যাত্মক শব্দ। এটি বাক্যে ব্যবহারের সময় বর্ণনাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও শ্রুতিমধুর করে তোলে।যেমন-
মড়মড়ঃ গাছের ডাল ভাঙার শব্দ। (যেমন: ঝড়ে গাছের ডাল মড়মড় করে ভেঙে পড়ল।)।ঘেউঘেউ কুকুরের ডাক।আসলে-
ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলো বাক্যে ব্যবহারের সময় প্রায়ই দুইবার ব্যবহৃত হয় (দ্বিরুক্ত শব্দ হিসেবে), যেমন— 'কড়কড়', 'ঝনঝন', 'মড়মড়'। এগুলো বর্ণনাকে আরও জীবন্ত ও শ্রুতিমধুর করে তোলে।
২)ধ্বনি প্রকাশক শব্দঃ যেসব শব্দ কোনো জড় বস্তু, জীবজন্তু বা প্রাকৃতিক জিনিসের স্বাভাবিক আওয়াজ বা ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হয়, তাদের ধ্বনি প্রকাশক শব্দ বলে। অর্থাৎ, আমাদের কানে যা শোনা যায়, তাকে যখন ভাষায় প্রকাশ করি, তখন সেটি ধ্বনি প্রকাশক শব্দ হয়।উদাহরণ--
ঝনঝনঃধাতব জিনিসের সংঘর্ষের শব্দ। (যেমন: মেঝেতে থালাটি ঝনঝন করে পড়ল।)
মড়মড়: শুকনো ডাল বা কোনো কিছু ভাঙার শব্দ। (যেমন: শুকনো পাতাগুলো পায়ের নিচে মড়মড় করছে।)
কলকলঃঝরনা বা নদীর জলের শব্দ। (যেমন: পাহাড়ি নদীটি কলকল ধ্বনিতে বয়ে চলেছে।)
২)ভাব প্রকাশক শব্দঃ যেসব শব্দ কোনো বাহ্যিক আওয়াজ বোঝায় না, বরং কোনো বিশেষ অবস্থা, অনুভূতি, মনের ভাব বা কোনো কিছুর আকৃতি ও সৌন্দর্যকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে, তাদের ভাব প্রকাশক শব্দ বলে। এগুলো কানে শোনার বিষয় নয়, বরং অনুভবের বিষয়।উদাহরণ:
ঝিলমিলঃআলোর চিকচিক বা উজ্জ্বল অবস্থা। (যেমন: পুকুরের জলে চাঁদের আলো ঝিলমিল করছে।)
কুচকুচেঃ রঙের গাঢ়ত্ব বা গভীরতা। (যেমন: তার চোখ দুটো কুচকুচে কালো।)
•শব্দদ্বৈত শব্দঃবাংলা ব্যাকরণে শব্দদ্বৈত বলতে বোঝায়-যখন একই শব্দ বা সমার্থক শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে বা অর্থের গভীরতা বোঝায়, তখন তাকে শব্দদ্বৈত বলে।সহজ কথায়-
একই শব্দের পুনরাবৃত্তিকে শব্দদ্বৈত বলা হয়। এটি সাধারণত বিশেষণ, বিশেষ্য বা ক্রিয়ার রূপকে আরও জোরালো করতে ব্যবহৃত হয়।যেমন-
•ঘর-দোর সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে।
শব্দদ্বৈতকে সাধারণত তিনভাবে ভাগ করা যায়-
১)একই শব্দের অবিকল পুনরাবৃত্তি (পুনরুক্ত শব্দ):যখন একই শব্দ পরপর দুবার বসে জোর বোঝায়।উদাহরণ-
•হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। (ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি)
২). সমার্থক বা প্রায় সমার্থক শব্দের যোগঃ যখন দুটি আলাদা কিন্তু সমার্থক শব্দ পাশাপাশি বসে একটি সামগ্রিক অর্থ প্রকাশ করে।উদাহরণ:
•হাঁট-বাজারঃ লোকজনে হাঁট- বাজারে গিজগিজ করছে
৩)বিপরীতার্থক শব্দের যোগঃযখন দুটি বিপরীত অর্থের শব্দ পাশাপাশি বসে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে।উদাহরণ-
•আসা-যাওয়াঃ তার এখানে আসা-যাওয়া লেগেই থাকে।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং "Shesher Kabita Sundorbon" YouTube channel SAMARESH Sir
Comments
Post a Comment