Skip to main content

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন (১৯০৫-১৯১১) সম্পর্কে যা জানো লেখো পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দশম শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার।

​           আমরা জানি যে,বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন বা স্বদেশি আন্দোলন মূলত উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণির আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও, এর প্রভাব গ্রামবাংলায় বিশেষ করে কৃষক সমাজের উপর গভীরভাবে পড়েছিল। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-

​      ১)আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কৃষকদের অংশগ্রহণ: স্বদেশি আন্দোলন বঙ্গদেশের গ্রামগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কৃষকরা ব্রিটিশ শাসনের শোষণ এবং স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়।

​     ২)বয়কট ও স্বদেশি পণ্যঃ স্বদেশি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন। গ্রামীণ কৃষকরা ব্রিটিশ বস্ত্র বর্জন করে দেশীয় বস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করেন। বাখরগঞ্জ, পাবনা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহের কৃষকরা স্বদেশি ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে ব্রিটিশ পণ্য বয়কটে উৎসাহ দেখান।

      ​৩)ধর্মীয় উন্মাদনা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তারঃ স্বদেশি আন্দোলনের সময় ধর্মীয় ভাবধারা ও বিভিন্ন সভার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী চেতনা কৃষকদের মধ্যে পৌঁছায়। বন্দে মাতরম ধ্বনি গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল। অশ্বিনী কুমার দত্তের মতো নেতারা বাখরগঞ্জের কৃষকদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

​      ৪)অর্থনৈতিক সংকট ও কৃষকদের স্বতস্ফূর্ততাঃ তৎকালীন সময়ে চড়া খাজনা, দারিদ্র্য ও ব্রিটিশ শাসনের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন সেই ক্ষোভকে সংগঠিত রূপ দিতে সাহায্য করে। কৃষকরা জমিদারদের বিরুদ্ধে এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বতস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে অংশ নেয়।

​     ৫)সীমাবদ্ধতাঃ স্বদেশি আন্দোলন মূলত শহরকেন্দ্রিক হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে গ্রামীণ কৃষকদের সমস্যা বা দাবি-দাওয়া যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনটি জমিদার স্বার্থ দ্বারাও প্রভাবিত ছিল, যার ফলে সব কৃষক সমানভাবে এতে যোগদান করতে পারেনি।

​     পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,যদিও এই আন্দোলন কৃষকদের সব দাবি পূরণ করতে পারেনি, তবুও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষক সমাজের অংশগ্রহণ এবং তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার পথ প্রশস্ত হয়েছিল।এটি পরবর্তীকালের বিভিন্ন কৃষক আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং "Shesher Kabita Sundorbon" YouTube channel SAMARESH Sir

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...