Skip to main content

রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো।

রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?রাজনৈতিক তত্ত্বের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর। Unit1/1.

       রাজনৈতিক তত্ত্বঃরাজনৈতিক তত্ত্ব (Political Theory) হলো রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংক্রান্ত এক সুশৃঙ্খল চিন্তাধারা বা জ্ঞানচর্চা। এটি কেবলমাত্র রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে না, বরং রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে এবং তার সমাধানের পথ খোঁজে।আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলতে হয়-

       রাজনৈতিক তত্ত্ব রাষ্ট্র, সরকার, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যেমন-"একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কেমন হওয়া উচিত?", "স্বাধীনতা বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি?" বা "রাষ্ট্রের ক্ষমতা কতটা হওয়া উচিত?"আসলে-

      •এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার গঠন ও কার্যাবলিকে বিশ্লেষণ করে। অর্থাৎ, রাজনীতিতে বাস্তবে কী ঘটছে এবং কেন ঘটছে, তা বুঝতে সাহায্য করে। আর সেই কারণেই-

      • রাজনৈতিক তত্ত্ব কেবল বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে না, বরং রাজনীতি কী হওয়া উচিত-সেই আদর্শিক দিকটিও নির্দেশ করে। মার্কিন দার্শনিক জর্জ সাবাইন এর মতে-

    "রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো রাজনীতি সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের অনুসন্ধান—যা কেবল ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং সেই ঘটনার ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায় বিচার করে।"

      মোটকথা হলো,রাষ্ট্র, ক্ষমতা এবং নাগরিকের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় রাজনৈতিক চিন্তাধারা, আদর্শ এবং বাস্তব বিশ্লেষণের সমষ্টিই হলো রাজনৈতিক তত্ত্ব। এটি আমাদের রাজনীতিকে কেবল দেখার চোখ দেয় না, বরং গভীরভাবে বোঝার ও বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে।

রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি (Nature of Political Theory)

রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

      ১) বিশ্লেষণমূলক বা বর্ণনামূলকঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব রাজনীতিতে বাস্তবে কী ঘটছে তা বিশ্লেষণ করে। যেমন—ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, দল ব্যবস্থা কেমন ইত্যাদি।

     ২)মূল্যবোধমূলক বা আদর্শগতঃএটি কেবল বাস্তব ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং রাজনীতিতে কী হওয়া উচিত (যেমন—একটি 'আদর্শ রাষ্ট্র' কেমন হওয়া উচিত) তা নির্ধারণ করে। এখানে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের গুরুত্ব বেশি।আসলে-

       রাজনৈতিক তত্ত্ব স্থবির নয়। সময়ের সাথে সাথে এর দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। যেমন-প্রাচীন গ্রিসে এটি ছিল নীতিশাস্ত্র-নির্ভর, আর আধুনিক যুগে এটি তথ্য-উপাত্ত বা বিজ্ঞান-নির্ভর।

 ৩) রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি (Scope of Political Theory)

      রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।এর আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলি হলো।

১) রাষ্ট্র কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে (সামাজিক চুক্তি মতবাদ), রাষ্ট্রের কাজ কী এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্ক কেমন—এসবই এর অন্তর্ভুক্ত।

২) স্বাধীনতা (Liberty), সাম্য (Equality), ন্যায়বিচার (Justice), সার্বভৌমত্ব (Sovereignty), গণতন্ত্র (Democracy) এবং অধিকার (Rights)-এর মতো মৌলিক ধারণাগুলো এর প্রধান আলোচনার বিষয়।

৩)রাজনৈতিক মতাদর্শঃবিভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদ যেমন—উদারতাবাদ, মার্কসবাদ, নারীবাদ, পরিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

     ৪) ক্ষমতা ও প্রভাব রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। সমাজে ক্ষমতা কীভাবে বন্টন হয়, কারা ক্ষমতা ভোগ করে এবং এর বৈধতা কীভাবে নির্ধারিত হয়—তা রাজনৈতিক তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে।

৫) নাগরিক ও রাষ্ট্রঃ নাগরিকের কর্তব্য, রাষ্ট্রব্যবস্থায় অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনের নৈতিক বৈধতা-এই বিষয়গুলোও এর পরিধির অন্তর্ভুক্ত।

৪) রাজনৈতিক তত্ত্বের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান অস্থির বিশ্বে রাজনৈতিক তত্ত্ব পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।এটি আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কে আমাদের শিক্ষিত করে তোলে।যেকোনো সরকারি নীতির ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা প্রদান করে। একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পথ দেখায়।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,রাজনৈতিক তত্ত্ব কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, এটি বাস্তবের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এটি একদিকে যেমন আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ বুঝতে সাহায্য করে, অন্যদিকে তেমনি নৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা দেয়। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান খোঁজা সম্ভব।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, সাজেশন পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং shesher kabita Sundarbon YouTube channel SAMARESH sir.

*

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...