Skip to main content

 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁই মাচা'গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী ও মর্মস্পর্শী ছোটগল্প। গ্রামীণ বাংলার চরম দারিদ্র্য, মানুষের সহজ-সরল চাওয়া-পাওয়া এবং এক কিশোরী মেয়ের করুণ পরিণতি এই গল্পের মূল উপজীব্য। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুঁই মাচা' গল্পটি কেবল ক্ষেন্তির গল্প নয়, এটি গ্রামীণ সমাজের মনস্তত্ত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের এক নিখুঁত ছবি।

১. সহায়হরির সংসার ও ক্ষেন্তির পরিচয়:

       •গল্পের পটভূমি রাঢ় বাংলার এক দরিদ্র গ্রাম। সহায়হরি চাটুজ্যে অত্যন্ত নিরীহ, অকর্মণ্য এবং দরিদ্র এক ব্রাহ্মণ। তাঁর সংসারে আছেন স্ত্রী অন্নপূর্ণা এবং তিন মেয়ে—ক্ষেন্তি, রাধী ও পুঁটি। এদের মধ্যে বড় মেয়ে ক্ষেন্তিই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ক্ষেন্তির বয়স প্রায় চোদ্দো-পনেরো, যা তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের নিরিখে বিয়ের জন্য বেশ বেশি। ক্ষেন্তি দেখতে তেমন সুন্দরী নয়, গায়ের রং কালো, হাত-পা মোটা এবং সে ভীষণ চঞ্চল ও লকলকে লম্বা। তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—সে অত্যন্ত সরল এবং অসম্ভব খাদ্যরসিক।

২. পুঁই মাচার সূচনা ও ক্ষেন্তির লোলুপতা:

ক্ষেন্তির খাওয়া-দাওয়ার প্রতি লোভ নিয়ে পাড়ার লোকে ও নিজের মা অন্নপূর্ণা প্রায়ই তাকে কটু কথা শোনাতেন। কিন্তু ক্ষেন্তির তাতে কোনো ক্ষোভ ছিল না। একদিন সে রায়বাড়ির আবর্জনার স্তূপ থেকে একটি উপড়ানো পুঁই গাছের ডাল কুড়িয়ে এনে নিজের ঘরের জানালার পাশে পুঁতে দেয়। নিজের পরম মমতায়, জল দিয়ে সে গাছটিকে বড় করে তোলে এবং বাঁশের বাখারি দিয়ে একটি মাচা তৈরি করে দেয়। ক্ষেন্তির যত্নে পুঁই গাছটি লকলকিয়ে বেড়ে ওঠে, যা ছিল তার জীবনের একমাত্র আনন্দের প্রতীক।

৩. সমাজের লাঞ্ছনা ও ক্ষেন্তির বিয়ে:

      •নুন আনতে পান্তা ফুরানো সহায়হরির সংসারে মেয়েদের অন্ন জোটাTarget করাই কঠিন ছিল, সেখানে বড় মেয়ের বিয়ে দেওয়া ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। ক্ষেন্তির ডাগর বয়স দেখে গ্রামের সমাজ ও জ্ঞাতি-শত্রুরা (বিশেষ করে প্রতিবেশী গয়া মেছুনী বা অন্যান্যরা) সহায়হরিকে একঘরে করার ভয় দেখায়। অন্নপূর্ণাও মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক অপবাদের ভয়ে দিনরাত সহায়হরিকে গঞ্জনা দিতেন।

অবশেষে সহায়হরি বাধ্য হয়ে ঘটি-বাটি বেচে, দেনা করে এবং কিছু সোনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক দূরবর্তী গ্রামের দুই-স্ত্রী-মৃত, মধ্যবয়সী পাত্রের সাথে ক্ষেন্তির বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের দিন ছাদনাতলায় যাওয়ার আগেও ক্ষেন্তির সরল মন খাবারের খোঁজে ব্যস্ত ছিল। যাওয়ার সময় সে তার মাকে বলে যায়, যেন তার সাধের পুঁই গাছটির যত্ন নেওয়া হয় এবং তার ডাল যেন কাউকে কাটতে না দেওয়া হয়।

৪. শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার ও ক্ষেন্তির বাপের বাড়ি ফেরা:

       •বিয়ের পর ক্ষেন্তির জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। সহায়হরি প্রতিশ্রুত যৌতুকের পুরো টাকা এবং গয়না দিতে পারেননি। এই অপরাধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন, বিশেষ করে তার ননদ ও শাশুড়ি, ক্ষেন্তির ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। তাকে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হতো না, দিনরাত খাটানো হতো এবং খোঁটা দেওয়া হতো।

       একটানা নির্যাতনের পর, পণের বাকি টাকার দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোক ক্ষেন্তিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বাপের বাড়ি ফিরে এসে ক্ষেন্তি যেন খাঁচা থেকে মুক্ত পাখির মতো আনন্দ পায়। সে আবার তার প্রিয় পুঁই মাচার ডাল কেটে চচ্চড়ি রেঁধে তৃপ্তি করে খায়। কিন্তু এই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। সহায়হরি অনেক কষ্টে, নিজের জমি বন্ধক রেখে কিছু টাকা জোগাড় করে মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেন।

৫. করুণ পরিণতি ও প্রকৃতির বুকে ক্ষেন্তির বেঁচে থাকা:

       •শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর ক্ষেন্তির ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শীতকালে তাকে একটা জীর্ণ পাতলা কাঁথা দেওয়া হতো। অবহেলা, পুষ্টিহীনতা এবং ঠান্ডার কারণে ক্ষেন্তি মারাত্মক 'বসন্ত' (Smallpox) রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির কেউ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, এমনকি সহায়হরিকে খবরও দেওয়া হয়নি।

        এক শীতের রাতে গ্রামের এক প্রতিবেশীর মুখে সহায়হরি খবর পান যে ক্ষেন্তি আর নেই, সে মারা গেছে। অন্নপূর্ণা ও সহায়হরির বুকফাটা কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

       গল্পের শেষে ঋতুচক্রের আবর্তনে বর্ষাকাল আসে। সহায়হরির ভাঙা ঘরের উঠোনে ক্ষেন্তির লাগানো সেই পুঁই গাছটি বর্ষার নতুন জলে সতেজ, সবুজ ও লকলকে হয়ে মাচা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেন্তি ইহলোক ত্যাগ করেছে, কিন্তু তার হাতের লাগানো পুঁই গাছটি যেন তার অতৃপ্ত ক্ষুধা, তার চঞ্চল শৈশব এবং তার চিরন্তন আত্মার প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকে। প্রকৃতির এই রূপের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ ক্ষেন্তিকে অমরত্ব দান করেছেন।



বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের **'পুঁই মাচা'** গল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পরীক্ষার মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) নিচে দেওয়া হলো। নিখুঁত প্রস্তুতির জন্য উত্তরগুলোতে ভেতরের খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে:

### ❓ 'পুঁই মাচা' গল্পের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)

**প্রশ্ন ১: সহায়হরি চাটুজ্যের সন্তানদের নাম কী কী? তাদের মধ্যে বড় কে?**

**উত্তর:** সহায়হরি চাটুজ্যের তিন মেয়ে— **ক্ষেন্তি, রাধী ও পুঁটি**। এদের মধ্যে বড় হলো ক্ষেন্তি।

**প্রশ্ন ২: ক্ষেন্তি কোথা থেকে পুঁই গাছটি জোগাড় করেছিল এবং সেটি সে কোথায় রোপণ করেছিল?**

**উত্তর:** ক্ষেন্তি তাদের পাড়ার **রায়বাবুদের বাড়ির আবর্জনার স্তূপ** থেকে একটি উপড়ানো পুঁই গাছের ডাল কুড়িয়ে এনেছিল। সেটি সে নিজের শোবার ঘরের জানালার পাশে উঠোনের এক কোণে রোপণ করেছিল।

**প্রশ্ন ৩: ক্ষেন্তির শারীরিক গঠনের বিবরণ লেখক কীভাবে দিয়েছেন?**

**উত্তর:** ক্ষেন্তি দেখতে তেমন সুশ্রী ছিল না। তার গায়ের রং ছিল কালো, হাত-পা মোটা মোটা এবং গড়ন ছিল লকলকে লম্বা। তবে তার চোখ দুটি ছিল বেশ বড় বড় ও শান্ত।

**প্রশ্ন ৪: "মেয়ের রাক্ষুসে ক্ষিদে" — এই মন্তব্যের মাধ্যমে ক্ষেন্তির কোন স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়?**

**উত্তর:** এই মন্তব্যের মাধ্যমে ক্ষেন্তির চরম খাদ্যরসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সংসারে চরম দারিদ্র্য থাকলেও খাবারের প্রতি, বিশেষ করে পুঁই শাকের চচ্চড়ি এবং সাধারণ নিরামিষ তরকারির প্রতি তার ছিল তীব্র লোভ ও আসক্তি।

**প্রশ্ন ৫: ক্ষেন্তির বিয়ে কোন পাত্রের সাথে এবং কেন হয়েছিল?**

**উত্তর:** ক্ষেন্তির বয়স প্রায় চোদ্দো-পনেরো বছর হয়ে যাওয়ায় সামাজিক অপবাদের ভয়ে সহায়হরি অত্যন্ত সস্তায় এক দূরবর্তী গ্রামের **দুই-স্ত্রী-মৃত, মধ্যবয়সী এক পাত্রের** সাথে ক্ষেন্তির বিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ সহায়হরির পক্ষে বেশি যৌতুক বা ভালো গয়না দেওয়া সম্ভব ছিল না।

**প্রশ্ন ৬: শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় ক্ষেন্তি তার মাকে কী অনুরোধ করেছিল?**

**উত্তর:** শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় ক্ষেন্তি কেঁদে ফেলে তার মাকে অনুরোধ করেছিল, যেন তার সাধের পুঁই গাছটিতে নিয়মিত জল দেওয়া হয় এবং সে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার ডাল যেন কাউকে কাটতে না দেওয়া হয়।

**প্রশ্ন ৭: শ্বশুরবাড়িতে ক্ষেন্তির ওপর নির্যাতনের প্রধান কারণ কী ছিল?**

**উত্তর:** বিয়ের সময় সহায়হরি চাটুজ্যে প্রতিশ্রুত যৌতুকের পুরো টাকা এবং গয়না দিতে পারেননি। এই বাকি পণের দাবিতেই ক্ষেন্তির শাশুড়ি ও ননদ তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।

**প্রশ্ন ৮: "খাঁচার পাখী যেন বাপের বাড়ী আসিয়া মুক্তি পাইল" — ক্ষেন্তির বাপের বাড়ি ফেরার আনন্দ কেন এমন ছিল?**

**উত্তর:** শ্বশুরবাড়ির চব্বিশ ঘণ্টার খাটুনি, গালমন্দ ও অনাহারের নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে বাপের বাড়ির চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও ক্ষেন্তি স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিল। সেখানে সে নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে ও খেতে পারত।

**প্রশ্ন ৯: ক্ষেন্তি কোন রোগে মারা যায় এবং মৃত্যুর সময় তার বয়স কত হয়েছিল?**

**উত্তর:** শ্বশুরবাড়ির চরম অবহেলা ও শীতে উপযুক্ত পোশাকের অভাবে ক্ষেন্তি মারাত্মক **বসন্ত (Smallpox) রোগে** আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র **ষোলো বছর**।

**প্রশ্ন ১০: গল্পের শেষে 'পুঁই মাচা' কিসের প্রতীক হয়ে উঠেছে?**

**উত্তর:** গল্পের শেষে বর্ষার জলে সতেজ হয়ে ওঠা পুঁই মাচাটি মৃত ক্ষেন্তির অতৃপ্ত ক্ষুধা, তার চঞ্চল শৈশব এবং প্রকৃতির বুকে তার অবিনশ্বর ও সজীব আত্মার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গল্পের কোনো নির্দিষ্ট উক্তি বা লাইন তুলে দেওয়া প্রশ্নের ব্যাখ্যা দরকার হলে জানাতে পারেন!



## 📌 বিষয়বস্তুর মূল নির্যাস (Themes):

 * **দারিদ্র্য ও সামাজিক কুপ্রথা:** পণপ্রথার নিষ্ঠুর বলি কীভাবে একটি সরল মেয়ের জীবন কেড়ে নেয়, তা এখানে স্পষ্ট।

 * **প্রকৃতি ও মানুষের একাত্মতা:** বিভূতিভূষণের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, মানুষ চলে গেলেও প্রকৃতি কীভাবে তার স্মৃতিকে আগলে রাখে, তা পুঁই মাচার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

আশা করি এবার গল্পের সমস্ত তথ্য ও খুঁটিনাটি দিক আপনার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আর কোনো প্রশ্ন আছে কি?



নিচে গল্পটির মূল বিষয়বস্তু এবং পরীক্ষার উপযোগী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:

## 📖 'পুঁই মাচা' গল্পের মূল বিষয়বস্তু

গল্পের প্রধান চরিত্র **ক্ষেন্তি**—এক চঞ্চল, সহজ-সরল এবং অতিশয় খাদ্যরসিক কিশোরী। ক্ষেন্তির বাবা সহায়হরি চাটুজ্যে অত্যন্ত দরিদ্র। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও ক্ষেন্তির একমাত্র আনন্দ ছিল খাওয়া-দাওয়া, বিশেষ করে পুঁই শাকের চচ্চড়ি তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। সে নিজের যত্নে ঘরের উঠোনে একটি পুঁই গাছ লাগিয়েছিল এবং পরম মমতায় সেটিকে মাচায় তুলে দিয়েছিল।

ক্ষেন্তির বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার বিয়ের জন্য সহায়হরির ওপর সামাজিক চাপ বাড়তে থাকে। অবশেষে, কোনোমতে কিছু টাকা ধার-দেনা করে এবং সামান্য গয়না দিয়ে এক মধ্যবয়সী পাত্রের সাথে ক্ষেন্তির বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে ক্ষেন্তির ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে।

যৌতুকের বাকি টাকার জন্য ক্ষেন্তিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর সহায়হরি কষ্ট করে কিছু টাকা জোগাড় করে মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু ক্ষেন্তির ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। শ্বশুরবাড়ির অবহেলা ও অত্যাচারে সে এক কঠিন রোগে (বসন্ত রোগে) আক্রান্ত হয়। অবশেষে, বাপের বাড়ির কেউ শেষ দেখা দেখার সুযোগ পাওয়ার আগেই ক্ষেন্তি মারা যায়।

গল্পের শেষে দেখা যায়, ক্ষেন্তি আর নেই, কিন্তু তার পরম যত্নে লাগানো পুঁই গাছটি সতেজ হয়ে মাচা জুড়ে বড় হয়ে উঠেছে। বর্ষার নতুন জলে সেই পুঁই মাচার সবুজ রূপ যেন মৃত ক্ষেন্তির সজীব ও অতৃপ্ত আত্মার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

## ❓ গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

**প্রশ্ন ১: 'পুঁই মাচা' গল্পের প্রধান নারী চরিত্রটির নাম কী? তার কোন গুণের (বা স্বভাবের) কথা গল্পে বারবার এসেছে?**

**উত্তর:** প্রধান নারী চরিত্রটির নাম **ক্ষেন্তি**। গল্পে তার অতিশয় খাদ্যরসিকতা, বিশেষ করে পুঁই শাকের প্রতি তার তীব্র ভালোবাসার কথা বারবার এসেছে।

**প্রশ্ন ২: সহায়হরি চাটুজ্যের সংসারের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?**

**উত্তর:** সহায়হরি চাটুজ্যের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয় ও দারিদ্র্যপীড়িত। সংসারের অভাবের কারণে প্রায়ই তাদের ঘরে ঠিকমতো অন্ন জুটত না এবং প্রতিবেশীদের নানা কথা শুনতে হতো।

**প্রশ্ন ৩: ক্ষেন্তির বিয়েতে সহায়হরিকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল?**

**উত্তর:** ক্ষেন্তির রূপ বা গুণ থাকা সত্ত্বেও কেবল উপযুক্ত পণ বা যৌতুকের টাকা দিতে না পারার কারণে সহায়হরি ভালো পাত্র পাচ্ছিলেন না। শেষে বাধ্য হয়ে এক মধ্যবয়সী পাত্রের সাথে ক্ষেন্তির বিয়ে দিতে হয়।

**প্রশ্ন ৪: শ্বশুরবাড়িতে ক্ষেন্তির ওপর কেন নির্যাতন করা হতো?**

**উত্তর:** সহায়হরি চাটুজ্যে বিয়ের সময় প্রতিশ্রুত যৌতুকের পুরো টাকা এবং গয়না দিতে পারেননি। এই বাকি পণের দাবিতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষেন্তির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত।

**প্রশ্ন ৫: "পুঁই গাছটি সতেজ হইয়া উঠিয়াছে..." — এই লাইনের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?**

**উত্তর:** ক্ষেন্তি মারা গেলেও তার হাতের লাগানো পুঁই গাছটি মাচা জুড়ে বেঁচে থাকে। এটি আসলে ক্ষেন্তির জীবনের অতৃপ্ত স্বাদ-আহ্লাদ এবং তার সজীব স্মৃতির এক করুণ প্রতীকী প্রকাশ।

**প্রশ্ন ৬: ক্ষেন্তি কোন রোগে মারা গিয়েছিল?**

**উত্তর:** শ্বশুরবাড়ির অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে ক্ষেন্তি **বসন্ত রোগে** (Smllpox) আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল।

গল্পের কোনো নির্দিষ্ট অংশ বা চরিত্রের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কি আপনার আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে?


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...