Skip to main content

নির্দেশনা ও পরামর্শদানের (Counselling) পার্থক্য' আলোচনা করো।

নির্দেশনা ও পরামর্শদানের (Counselling) পার্থক্য' আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।

      নির্দেশনা হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার সক্ষমতা, আগ্রহ এবং সম্ভাবনার সঠিক দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়, যাতে সে জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি মূলত তত্ত্বাবধানমূলক এবং শিক্ষামূলক।তবে-

       পরামর্শদান হলো এমন একটি গভীর ও পেশাদার প্রক্রিয়া, যেখানে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি (পরামর্শদাতা) এবং একজন ব্যক্তি (যার কোনো সমস্যা আছে) মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। এটি মূলত আবেগীয়, মনস্তাত্ত্বিক এবং সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়।

       ১) নির্দেশনা একটি ব্যাপক ও সাধারণ প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তিকে তার জীবনের লক্ষ্য বা পথ বেছে নিতে সাহায্য করা হয়।কিন্তু -

      পরামর্শদান  নির্দেশনারই একটি অংশ।এটি মূলত একটি নিবিড় ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তির মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যা সমাধান করা হয়। |

     ২) নির্দেশনার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এর মধ্যে শিক্ষামূলক, বৃত্তিমূলক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্ত দিক অন্তর্ভুক্ত থাকে।কিন্তু -

         পরামর্শদানের পরিধি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ ও সুনির্দিষ্ট। এটি প্রধানত ব্যক্তির মানসিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। |

      ৩) নির্দেশনার দৃষ্টিভঙ্গি মূলত প্রতিরোধমূলক (Preventive)। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য আগে থেকেই পথ দেখানো হয়।কিন্তু-

        পরামর্শদানের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত প্রতিকারমূলক (Curative/Remedial)। অর্থাৎ, ব্যক্তি ইতিমধ্যে যে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তা দূর করার চেষ্টা করা হয়। |

         ৪) নির্দেশনা দলগত (Group) বা ব্যক্তিগত—উভয়ভাবেই দেওয়া যেতে পারে। এখানে মুখোমুখি গভীর সম্পর্কের প্রয়োজন সবসময় হয় না।কিন্তু-

      পরামর্শদান সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত ও মুখোমুখি (Face-to-face) যোগাযোগ প্রক্রিয়া।এখানে পরামর্শদাতা ও মক্কেলের মধ্যে গভীর বিশ্বাস ও গোপনীয়তার সম্পর্ক (Rapport) গড়ে ওঠে।

      ৫) নির্দেশনায় নির্দেশক বা পরিচালকের ভূমিকা বেশি সক্রিয় থাকে।ব্যক্তি মূলত পরামর্শ বা তথ্য গ্রহণ করে।কিন্তু -

         পরামর্শদানে মক্কেল বা শিক্ষার্থীর (Client) ভূমিকা অত্যন্ত সক্রিয়। কাউন্সেলর তাকে এমনভাবে সাহায্য করেন যাতে সে নিজেই নিজের মনের জট খুলতে পারে। |

        ৬) নির্দেশনা প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা রক্ষা করা সবসময় বাধ্যতামূলক বা জরুরি নয় (যেমন: ক্লাসরুমে দলগত নির্দেশনা)।কিন্তু -

       পরামর্শদান প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা রক্ষা করা পরম নীতি। মক্কেলের ব্যক্তিগত তথ্য বা মনের কথা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। |

      ৭) নির্দেশনায়  শিক্ষক , পিতামাতা বা সমাজের যেকোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি সাধারণ নির্দেশনা দিতে পারেন। এর জন্য বিশেষ বৃত্তিমূলক ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।কিন্তু-

      পরামর্শদানের জন্য বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ, ডিগ্রি এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয়। একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলরই কেবল এটি করতে পারেন।

       ৮) নির্দেশনা একটি জীবনব্যাপী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলতে পারে।কিন্তু-

      পরামর্শদান  সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এবং সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে এই প্রক্রিয়াটি শেষ হয় (সাময়িক বা স্বল্পমেয়াদী)। 

     আসলে নির্দেশনা হলো একটি বড় ছাতা, আর পরামর্শদান হলো সেই ছাতার নিচে থাকা একটি বিশেষ অংশ।সব পরামর্শদানই নির্দেশনার অংশ, কিন্তু সব নির্দেশনা পরামর্শদান নয়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং "Shesher Kabita Sundorbon" YouTube channel SAMARESH Sir

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...