রোমীও বর্ণমালার পরিচয় দাও।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্যের নির্ভুল আদান-প্রদানই প্রধান লক্ষ্য।তবে বেতার তরঙ্গ বা টেলিফোনের মাধ্যমে কথা বলার সময় শব্দের অস্পষ্টতা (Distortion) একটি বড় সমস্যা। এই অস্পষ্টতাকে জয় করার জন্যই ১৯৫৬ সালে ন্যাটো (NATO) কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় 'ফোনেটিক অ্যালফাবেট', যা সাধারণ্যে 'রোমীও বর্ণমালা' হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত ২৬টি ইংরেজি অক্ষরের বিপরীতে ২৬টি স্বতন্ত্র শব্দের বিন্যাস। আর সেখানে-
• রোমীও বর্ণমালার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃএই বর্ণমালার বিবর্তন রাতারাতি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের-
• প্রাথমিক পর্যায়ঃ ১৯০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বর্ণমালা ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব একটি কোড ব্যবহার করত।
•আইসিএও (ICAO)-এর ভূমিকাঃ১৯৫১ সালে 'ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন' (ICAO) একটি নতুন বর্ণমালার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এর কিছু শব্দের উচ্চারণ নিয়ে বিতর্ক থাকায় পরে তা সংশোধন করা হয়।আর সেখানে-
•চূড়ান্ত রূপঃ ১৯৫৬ সালে ন্যাটো এবং আইসিএও যৌথভাবে বর্তমান স্বীকৃত রূপটি চূড়ান্ত করে। যেখানে 'R'-এর জন্য 'Romeo' এবং 'M'-এর জন্য 'Mike' শব্দটিকে চূড়ান্ত করা হয়।
° গঠন ও বিন্যাস (তালিকা)
•অক্ষর •কোড শব্দ •উচ্চারণ (বাংলায়)
A-Alfa (আলফা ),B-Bravo(ব্রাভো),C- Charlie (চার্লি)
D-Delta(ডেল্টা),E-Echo(একো),F- Foxtrot(ফক্সট্রট)
G-Golf(গল্ফ),H-Hotel (হোটেল),I-India (ইন্ডিয়া)
J-Juliett (জুলিয়েট),K-Kilo (কিলো),L-Lima(লিমা)
M-Mike(মাইক),N- November (নভেম্বর)
O-Oscar(অস্কার),P-Papa(পাপা),Q-Quebec(কিউবেক)
R-Romeo(রোমীও),S-Sierra (সিয়েরা),T-Tango( ট্যাঙ্গো)
U-Uniform( ইউনিফর্ম),V-Victor(ভিক্টর)
W-Whiskey (হুইস্কি),X-X-ray(এক্স-রে)
Y-Yankee(ইয়াঙ্কি),Z-Zulu(জুলু)
•কেন এটি প্রয়োজন? (যুক্তি ও গুরুত্ব)
১) ধ্বনিগত সাদৃশ্য দূরীকরণঃ ইংরেজিতে 'B', 'C', 'D', 'E', 'G', 'P', 'T', 'V', 'Z'—এই বর্ণগুলো শোনার সময় একে অপরের মতো মনে হতে পারে। ফোনেটিক অ্যালফাবেট এই সাদৃশ্যকে দূর করে।
২) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডঃ সমুদ্রের মাঝখানে জাহাজ বা আকাশে উড়ন্ত বিমানের পাইলটরা যখন বিভিন্ন দেশের কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে কথা বলেন, তখন এই সর্বজনীন ভাষা বিভ্রান্তি দূর করে।
৩)ভুল বানানের অবকাশহীনতাঃ কোনো জটিল সংকেত বা পাসওয়ার্ড বলার সময় 'Alpha-Bravo-Charlie' বললে ভুল হওয়ার ভয় থাকে না, যা সাধারণ 'A-B-C' বললে হতে পারত।
•ভাষাতাত্ত্বিক তাৎপর্যঃ ভাষাবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এটি জানা জরুরি যে, কেন এই নির্দিষ্ট শব্দগুলোই বেছে নেওয়া হয়েছে?আসলে এগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যেন প্রতিটি শব্দের প্রথম অক্ষরটি ওই নির্দিষ্ট ইংরেজি বর্ণটিকে নির্দেশ করে।শুধু তাই নয়, এই শব্দগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত।আর সেকারণেই উচ্চারণে স্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার সংমিশ্রণে এই শব্দগুলো চয়ন করা হয়েছে।
পরিশেষে আমরা ভলতে পারি যে, রোমীও বর্ণমালা কেবল সামরিক বা বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি তালিকা নয়; এটি ভাষার একটি প্রায়োগিক ও বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ। যখন ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, তখন এই বর্ণমালা একটি 'সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করে।
অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং 'Shesher Kabita Sundarbon" YouTube channel Samaresh Sir
Comments
Post a Comment