Skip to main content

শিক্ষামূলক নির্দেশনা (Educational Guidance) ও এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

শিক্ষামূলক নির্দেশনা (Educational Guidance) ও এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU), ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।

        ১. শিক্ষামূলক নির্দেশনার সংজ্ঞা (Definition of Educational Guidance)- নির্দেশনার যে শাখাটি মূলত শিক্ষালয়, পাঠ্যক্রম, পড়াশোনার পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত সফলতার সাথে যুক্ত, তাকে শিক্ষামূলক নির্দেশনা বলা হয়। এটি শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে এবং তার নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সর্বোচ্চ সুযোগ নিতে সাহায্য করে।আর্থার জে. জোনস এর মতে-

      "শিক্ষামূলক নির্দেশনা হলো এমন এক ধরনের সহায়তা যা শিক্ষার্থীদের তাদের বিদ্যালয়, পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে সফলভাবে মানিয়ে নিতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রদান করা হয়।"

       আসলে শিক্ষামূলক নির্দেশনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে তার নিজের শিক্ষাগত চাহিদা এবং সেই অনুযায়ী সুযোগগুলোকে চিনতে ও বুঝতে সাহায্য করা।

২. বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষামূলক নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা (Need of Educational Guidance at School Level)

     আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য শিক্ষামূলক নির্দেশনার গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর প্রধান প্রয়োজনীয়তাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আর সেই আলোচনায় আমরা দেখি-

     ক) সঠিক পাঠ্যক্রম ও বিষয় নির্বাচন (Selection of Curriculum & Subjects)

        মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এসে শিক্ষার্থীদের সামনে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, কলা বা বাণিজ্য বিভাগের অনেক বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা না বুঝে বা বন্ধুদের দেখাদেখি ভুল বিষয় নির্বাচন করে ফেলে, যা পরে তাদের ক্যারিয়ারে ক্ষতি করে। শিক্ষামূলক নির্দেশনা শিক্ষার্থীর বুদ্ধি, আগ্রহ এবং মেধা যাচাই করে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয়টি বেছে নিতে সাহায্য করে।

      খ) অপচয় ও অনুন্নয়ন রোধ (Reduction of Wastage & Stagnation)

        শিক্ষায় 'অপচয়' বলতে বোঝায় পড়াশোনা শেষ না করে মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দেওয়া, আর অনু'ন্নয়ন বলতে বোঝায় একই ক্লাসে বারবার ফেল করে আটকে থাকা।যারফলে-

         বিদ্যালয় স্তরে বহু শিক্ষার্থী সঠিক নির্দেশনার অভাবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং এই সমস্যার শিকার হয়।আসলে শিক্ষামূলক নির্দেশনা তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সঠিক প্রতিকারমূলক শিক্ষার (Remedial Teaching) ব্যবস্থা করে এই অপচয় ও অনুন্নয়ন রোধ করে।

        গ) পঠন-পাঠন পদ্ধতির উন্নয়ন (Improvement of Study Habits)।

       অনেক শিক্ষার্থীর মেধা থাকা সত্ত্বেও কেবল সঠিক পড়াশোনার কৌশলের অভাবে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারে না। কীভাবে সময় তালিকা (Time Table) তৈরি করতে হয়, কীভাবে নোট নিতে হয়, মনোযোগ কীভাবে বাড়াতে হয় এবং পরীক্ষার ভয় বা ভীতি কীভাবে দূর করতে হয়—সে বিষয়ে শিক্ষামূলক নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের সঠিক কৌশল শেখায়।

       ঘ) বিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে সংগতিবিধান (Adjustment with School Environment)।

        প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তরে বা এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে ভর্তি হলে অনেক শিক্ষার্থী নতুন পরিবেশ, নতুন শিক্ষক এবং নতুন সহপাঠীদের সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। এর ফলে তাদের মধ্যে একাকীত্ব বা মানসিক চাপ তৈরি হয়। নির্দেশনা তাদের এই নতুন পরিবেশের সাথে দ্রুত ও সহজভাবে সংগতিবিধান করতে সাহায্য করে।

      ঙ) সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ (Participation in Co-curricular Activities)।

      কেবলমাত্র চার দেওয়ালের পড়াশোনা শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য নয়। খেলাধুলা, গান, নাচ, অঙ্কন, বিতর্ক বা আবৃত্তির মতো সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন সুপ্ত প্রতিভাটি লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করে তাকে সেই দিকে উৎসাহিত করার কাজটি করে শিক্ষামূলক নির্দেশনা।

      চ) অগ্রসর ও অনগ্রসর শিশুদের বিশেষ যত্ন (Catering to Special Children)।

       একটি শ্রেণীকক্ষে যেমন অতি-মেধাবী (Gifted) শিশু থাকে, তেমনি ধীরগতিসম্পন্ন বা অনগ্রসর (Slow Learners) শিশুও থাকে।আর সেখানে মেধাবী শিশুদের মেধার সঠিক ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত সমৃদ্ধ পাঠ্যক্রমের নির্দেশনা প্রয়োজন।আবার অন্যদিকে-

       পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ যত্ন ও সহজ সরল পদ্ধতির নির্দেশনা প্রয়োজন। শিক্ষামূলক নির্দেশনা এই দুই ধরনের শিশুর চাহিদাই পূরণ করে।

       ছ) ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ভিত্তি স্থাপন (Base for Career Planning)।

         বিদ্যালয় স্তর থেকেই ভবিষ্যতের কর্মজীবনের বা বৃত্তির ভিত্তি তৈরি হয়। শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তার পছন্দের বৃত্তির মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়, সেই প্রাথমিক ধারণাটি শিক্ষামূলক নির্দেশনার মাধ্যমেই তৈরি হয়।

       পরিশেষে বলতে পারি যে, বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষামূলক নির্দেশনা কেবল কিছু পরামর্শ দেওয়ার কাজ নয়, এটি শিক্ষার্থীর জীবনকে একটি সঠিক রূপ দেওয়ার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।কোঠারি কমিশনের (1964-66) মতে, নির্দেশনা ছাড়া আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষামূলক নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

       ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং "Shesher kabita Sundorbon" YouTube channel SAMARESH SIR.


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...