Skip to main content

রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি (Nature of Political Theory) আলোচনা করো।

রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি (Nature of Political Theory) আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম সেমিস্টার মাইনর। Unit1/1

• রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি।

       ১. আদর্শগত ও নৈতিক প্রকৃতি (Normative Nature): ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রধান প্রকৃতি হলো ‘কী হওয়া উচিত’ (What ought to be) তা নির্ণয় করা। রাজনৈতিক তত্ত্ব কেবল বাস্তব ঘটনাবলির বর্ণনা দেয় না, বরং রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে। প্লেটো থেকে শুরু করে আধুনিক দার্শনিকদের অনেকেই মনে করেন, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সাম্যের মতো নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্যতম দায়িত্ব। এটি রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি আদর্শবাদী রূপরেখা প্রদান করে।

     ২. বিশ্লেষণমূলক ও বৈজ্ঞানিক প্রকৃতি (Analytical and Empirical Nature):বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। আচরণবাদী আন্দোলনের ফলে তত্ত্ব চর্চায় তথ্য-উপাত্ত, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাবাদী পদ্ধতির গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। আধুনিক রাজনৈতিক তত্ত্ব কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বাস্তবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। এটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘কী ঘটছে’ (What is)-তার ব্যাখ্যা প্রদান করে।

       ৩. বিষয়গত ব্যাপকতা ও বহুমুখিতাঃরাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্র, সরকার, আইন, ক্ষমতা, অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক চুক্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। এর প্রকৃতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের রাজনৈতিক আচরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গঠন ও কার্যাবলিকেও সমান গুরুত্ব দেয়। উদারতাবাদ, মার্কসবাদ, নারীবাদ এবং পরিবেশবাদের মতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাজনৈতিক সমস্যাকে ব্যাখ্যা করে, যা একে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

       ৪. পরিবর্তনশীল প্রকৃতি (Dynamic Nature):রাজনৈতিক তত্ত্ব স্থবির কোনো বিষয় নয়; এটি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। প্রাচীন যুগে এটি ছিল দার্শনিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ, মধ্যযুগে এটি ধর্মতত্ত্বের দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং আধুনিক যুগে এটি সমাজবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিশে গেছে। সমকালীন বিশ্বরাজনীতির জটিলতা-যেমন বিশ্বায়ন, সন্ত্রাসবাদ বা ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব-রাজনৈতিক তত্ত্বকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে। তাই এর প্রকৃতি সবসময়ই বিবর্তনশীল।

      ৫. সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি (Critical Nature):রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা বা প্রচলিত চিন্তাধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে সর্বদা এক ধরনের সমালোচনামূলক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র কখন বৈধ এবং কখন অবৈধ-এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাধ্যমে এটি শাসকের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

        পরিশেষে বলতে পারি যে, রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রকৃতি কোনো একটি নির্দিষ্ট ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি একাধারে নৈতিক আদর্শ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ। এটি একদিকে যেমন আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ বুঝতে সাহায্য করে, অন্যদিকে তেমনি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়। WBSU-এর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রের কাছে রাজনৈতিক তত্ত্বের এই বহুমুখী প্রকৃতি উপলব্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটিই রাজনীতির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।

এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং 'Shesher Kabita Sundarbon" YouTube channel Samaresh Sir 




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...