Skip to main content

নির্দেশনা কাকে বলে এবং দলগত নির্দেশনা (Group Guidance) কী? দলগত নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য গুলি লেখো। দলগত নির্দেশনা কার্যাবলী এবং সুবিধা ও অসুবিধা।

'নির্দেশনা কাকে বলে এবং দলগত নির্দেশনা (Group Guidance) কী? দলগত নির্দেশনার বৈশিষ্ট্য গুলি লেখো। দলগত নির্দেশনা কার্যাবলী এবং সুবিধা ও অসুবিধা। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।

    •নির্দেশনার সংজ্ঞাঃ নির্দেশনা হলো একটি ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত শিক্ষামূলক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে (বিশেষত শিক্ষার্থীকে) তার নিজস্ব ক্ষমতা, আগ্রহ, মেধা এবং সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে সাহায্য করা হয়। যার মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিকে এমনভাবে পথ দেখানো যাতে সে নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সমাজের সাথে সফলভাবে সংগতিবিধান (Adjustment) করতে পারে।আমেরিকান গাইডেন্স অ্যাসোসিয়েশন (AGA) এর মতে-

    "নির্দেশনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের এবং সমাজের কল্যাণের জন্য নিজের ক্ষমতাকে চিনে নেওয়ার এবং তার সঠিক ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়।"

দলগত নির্দেশনা কী? (What is Group Guidance?)

      যখন কোনো একজন নির্দেশক বা শিক্ষক একক কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে নির্দেশনা না দিয়ে, সমগোত্রীয় সমস্যা বা চাহিদাযুক্ত একদল ব্যক্তিকে বা শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বা দলগতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন, তখন তাকে দলগত নির্দেশনা (Group Guidance)বলা হয়।আসলে-

        বিদ্যালয় স্তরে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং প্রত্যেকের সাধারণ সমস্যাগুলো প্রায় একই রকম হয় (যেমন: পরীক্ষার ভীতি দূর করা, সঠিক পঠন-অভ্যাস গঠন, বা ক্যারিয়ার নির্বাচন), সেখানে দলগত নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান, সেমিনার, ক্যারিয়ার টক (Career Talk), বা কর্মশালার মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দলগত নির্দেশনার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics)

      •সমজাতীয় দলঃ এই দলের সদস্যদের বয়স, মানসিক স্তর এবং সমস্যা বা চাহিদাগুলো সাধারণত একই রকমের হয়ে থাকে।

      •যৌথ মিথস্ক্রিয়াঃ এখানে কেবল নির্দেশক একতরফা কথা বলেন না; দলের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়।

       •অর্থনৈতিক ও সময়সাশ্রয়ীঃ আলাদা আলাদা করে নির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে একসঙ্গে অনেককে নির্দেশনা দেওয়া যায় বলে এতে সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হয়।

     •অনানুষ্ঠানিক পরিবেশঃ দলগত আলোচনার পরিবেশ সাধারণত মুক্ত ও অনানুষ্ঠানিক হয়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ভয় বা দ্বিধা কাটিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।

৪. দলগত নির্দেশনার কার্যাবলী বা ক্ষেত্রসমূহ (Scope/Activities)

বিদ্যালয়ে মূলত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে দলগত নির্দেশনা ব্যবহার করা হয়। আর সেই ক্ষেত্রগুলি হল-

১.ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিঃ নতুন ক্লাসে বা নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন, ঐতিহ্য এবং পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।

২.শিক্ষামূলক তথ্য প্রদানঃ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পর কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য একসঙ্গে পুরো ক্লাসের সামনে তুলে ধরা।

৩.বৃত্তিমূলক বা পেশাগত আলোচনাঃ বিভিন্ন পেশার সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের এনে দলগতভাবে আলোচনা করা।

৪.ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নঃ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ, সুঅভ্যাস গঠন, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লিঙ্গ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য।

৫. দলগত নির্দেশনার সুবিধা ও অসুবিধা-

দলগত নির্দেশনার  সুবিধা

       •সময় ও শ্রমের সাশ্রয়ঃকম সময়ে এবং কম নির্দেশকের সাহায্যে অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

     •সহপাঠীদের প্রভাবঃ দলে যখন একজন শিক্ষার্থী দেখে যে তার মতো সমস্যায় অন্যরাও ভুগছে, তখন তার মনের ভয় বা একাকীত্ব দূর হয়। তারা একে অপরকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়।

     •সামাজিকীকরণঃদলগত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সামাজিকতাবোধের বিকাশ ঘটে।

     •লজ্জা বা দ্বিধাবোধ দূর হওয়াঃঅনেক শিক্ষার্থী একা কাউন্সেলরের সামনে কথা বলতে লজ্জা পায়, কিন্তু দলের সাথে থাকলে তারা সহজেই নিজের সমস্যা বা প্রশ্ন তুলে ধরতে পারে।

 দলগত নির্দেশনার অসুবিধা -

      •ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য উপেক্ষিত হয়ঃদলের গড় চাহিদার ওপর জোর দেওয়া হয় বলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব বা গভীর ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর (যেমন: তীব্র পারিবারিক অশান্তি বা মানসিক অবসাদ) সমাধান এখানে সম্ভব হয় না।

      •গোপনীয়তার অভাবঃদলের সামনে সবাই নিজের মনের সব কথা বা দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না। গোপনীয়তা রক্ষা করা এখানে কঠিন।

      •সব শিক্ষার্থীর সমান অংশগ্রহণ নয়ঃদলের মধ্যে যারা অন্তর্মুখী (Introvert) বা লাজুক, তারা অনেক সময় চুপচাপ থেকে যায় এবং বহির্মুখী (Extrovert) শিক্ষার্থীরাই পুরো আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করে।

      পরিশেষে বলা যায় যছ,আধুনিক বিপুল ছাত্রসংখ্যা বিশিষ্ট ভারতীয় বিদ্যালয়গুলোতে দলগত নির্দেশনা একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও অপরিহার্য পদ্ধতি। তবে এটি ব্যক্তিগত নির্দেশনার (Individual Guidance) বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। প্রথমে দলগত নির্দেশনার মাধ্যমে সাধারণ সমস্যাগুলো সমাধান করার পর, যে সমস্ত শিক্ষার্থীর আরও গভীর বা বিশেষ সমস্যা থেকে যায়, তাদের জন্য পরবর্তীতে ব্যক্তিগত নির্দেশনার ব্যবস্থা করাই হলো বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...