Skip to main content

 

তোর আসল লজ্জা জ্বলে, আসল গর্বও জ্বলে" — উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ক্ষিতীশ কেন কোনিকে এই কথা বলেছিলেন?

একজন প্রকৃত খেলোয়াড়ের কাছে শরীরের পোশাক বা সামাজিক দারিদ্র্য বড় কথা নয়, তার প্রধান ক্ষেত্র হলো খেলার মাঠ। এখানে 'জল' বলতে সাঁতারের পুকুর বা প্রতিযোগিতার ট্র্যাককে বোঝানো হয়েছে। ক্ষিতীশ কোনিকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে:

​আসল লজ্জা: গরিব হওয়া বা সাধারণ পোশাক পরা লজ্জার বিষয় নয়। লজ্জার বিষয় হলো প্রতিযোগিতায় অন্যের কাছে হেরে যাওয়া বা নিজের সেরাটা দিতে না পারা।

​আসল গর্ব: দামি পোশাকে বা সচ্ছলতায় কোনো খেলোয়াড়ের গর্ব নেই। তার আসল গর্ব হলো জলের মধ্যে রেকর্ড গড়া এবং জয়ী হওয়া।

​এককথায়, ক্ষিতীশ কোনিকে বস্তুবাদী জগতের মোহ থেকে সরিয়ে এনে খেলোয়াড়োচিত মানসিকতা (Sportsman Spirit) তৈরিতে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।

​ক্ষিতীশ কেন কোনিকে এই কথা বলেছিলেন?

​ক্ষিতীশ সিংহ এই কথাটি কোনিকে বলেছিলেন তার মনের হীনম্মন্যতা দূর করার জন্য। এর কারণগুলি হলো:

​১. দারিদ্র্য ও সংকোচ: কোনি ছিল অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। জুপিটার বা অ্যাপোলোর মতো ক্লাবে সচ্ছল ঘরের ছেলেমেয়েদের মাঝে নিজেকে খাপ খাওয়াতে তার খুব লজ্জা ও সংকোচ হতো।

২. মানসিক বাধা: কোনি নিজের ছেঁড়া পোশাক বা অভাব নিয়ে সবসময় কুণ্ঠিত থাকত। এই মানসিক দুর্বলতা তার সাঁতারের একাগ্রতা নষ্ট করছিল।

৩. লক্ষ্য স্থির করা: ক্ষিতীশ চেয়েছিলেন কোনি যেন বাইরের পৃথিবীর তুচ্ছ লজ্জা-শরম ভুলে গিয়ে শুধু নিজের লক্ষ্য অর্থাৎ 'সাঁতার' এবং 'জয়ে'র দিকে মনোযোগ দেয়।

৪. জেদ জাগানো: কোনির ভেতরে একটি জেদ তৈরি করার প্রয়োজন ছিল। ক্ষিতীশ তাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, সে যদি জলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে, তবেই তার সমস্ত অভাব ও অপমানের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...