Skip to main content

ইতিহাস মাইনর প্রথম সেমিস্টার সাজেশন 2026 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

ইতিহাস মাইনর প্রথম সেমিস্টার সাজেশন 2026  পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

      প্রাচীন ভারতের ইতিহাস: প্রশ্ন ও উত্তর

১. রাজতরঙ্গিনী কে লিখেছিলেন? এটি কোন রাজ্যের সম্পর্কে আলোকপাত করেছিল?

     • রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর কাশ্মীরি পণ্ডিত কলহন। গ্রন্থটি মূলত প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাশ্মীর রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস ও রাজবংশগুলির উপর আলোকপাত করে।

২. হরপ্পা সভ্যতার দুটি প্রত্নকেন্দ্রের নাম করো যেগুলি প্রমাণ করে যে অধিবাসীরা ধান উৎপন্ন করত।

      •গুজরাটের লোথাল এবং রংপুর।এই দুটি প্রত্নকেন্দ্র থেকে ধানের তুষ ও অবশেষ পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে হরপ্পার অধিবাসীরা ধান চাষ জানত।

৩. মহেঞ্জোদারোর প্রাপ্ত ব্রঞ্জের নর্তকী মূর্তির তাৎপর্য কী?

        •মহেঞ্জোদারোর এই মূর্তিটি সিন্ধু সভ্যতার উন্নত ধাতুশিল্প ও ক্ষয়িষ্ণু মোম পদ্ধতি (Lost Wax Process) সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটি তৎকালীন সমাজের বিনোদন প্রিয়তা এবং নারীশক্তির অলঙ্কৃত রূপটি প্রকাশ করে।

৪. ঋক বৈদিক যুগের দুটি মুদ্রার নাম লেখো।

      • ঋক বৈদিক যুগে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মূলত নিষ্ক (Nishka) এবং মনা (Mana) নামক স্বর্ণপিণ্ড বা অলঙ্কার ব্যবহৃত হতো (পরবর্তীকালে এগুলি মুদ্রার রূপ পায়)।

৫. কৃষিকাজের উল্লেখ আছে এমন দুটি বৈদিক গ্রন্থের নাম উল্লেখ করো।

       • ঋগ্বেদ এবং শতপথ ব্রাহ্মণ। (এছাড়া অথর্ববেদেও কৃষিকাজের বিস্তারিত উল্লেখ পাওয়া যায়)।

৬. অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলতে তুমি কী বোঝো?

      •গৌতম বুদ্ধ দুঃখ নিবৃত্তির জন্য আটটি পথের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা অষ্টাঙ্গিক মার্গ নামে পরিচিত। এগুলি হলো—সদ্বাক্য, সৎকাজ, সজ্জীবিকা, সৎচেষ্টা, স্মৃতি, সম্যক সমাধি, সম্যক দৃষ্টি ও সম্যক সংকল্প।

৭. আলেকজান্ডার কখন ভারত আক্রমণ করেন? ভারত ইতিহাসে তার আক্রমণের তাৎপর্য কী?

      • গ্রিক বীর আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-৩২৬ অব্দে ভারত আক্রমণ করেন। তাঁর আক্রমণের ফলে ভারতের সঙ্গে গ্রিসের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় শিল্পকলায় গ্রিক প্রভাব (গান্ধার শিল্প) দেখা দেয়। এছাড়া ছোট ছোট রাজ্যগুলি দুর্বল হওয়ায় মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

৮. মেগাস্থিনিস কে ছিলেন? তাঁর গ্রন্থের নাম কী?

        • মেগাস্থিনিস ছিলেন গ্রিক সম্রাট সেলুকাসের দূত, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় এসেছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হলো 'ইন্ডিকা'।

৯. কোন পণ্ডিত ব্যক্তি সর্বপ্রথম অশোকের লেখ পাঠ করেন? অশোকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লেখর নাম উল্লেখ করো।

        • ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে জেমস প্রিন্সেপ সর্বপ্রথম অশোকের লিপির পাঠোদ্ধার করেন।কলিঙ্গ লিপি (১৩শ শিলালিপি) এবং রুন্মিনদেই স্তম্ভলিপি।

১০. জুনাগড় লিপিতে কার কৃতিত্বের কথা বর্ণনা রয়েছে?

        •জুনাগড় বা গিরনার লিপিতে শক রাজা প্রথম রুদ্রদামনের কৃতিত্ব ও সুদর্শন হ্রদ সংস্কারের কথা বর্ণিত রয়েছে।

১১. মহেঞ্জোদারোতে বৃহৎ স্নানাগারটি কী ছিল?

         •মহেঞ্জোদারোর দুর্গাঞ্চলে (Citadel) অবস্থিত ৩৯ ফুট লম্বা ও ২৩ ফুট চওড়া একটি বিশাল জলাশয়। এটি মূলত ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো গণস্নানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয়।

১২. ত্রিরত্ন বলতে কী বোঝায়?

          • জৈন ধর্ম অনুসারে মোক্ষ লাভের জন্য তিনটি আবশ্যিক পথ হলো ত্রিরত্ন-এগুলি হলো সৎ বিশ্বাস, সৎ জ্ঞান এবং সৎ আচরণ। (বৌদ্ধ ধর্মেও বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘকে ত্রিরত্ন বলা হয়)।

১৩. মৌর্যযুগে ধর্মমহামাত্রদের কাজ কী ছিল?

          • সম্রাট অশোক নিযুক্ত এই কর্মচারীদের প্রধান কাজ ছিল সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে 'ধম্ম' প্রচার করা, জনকল্যাণমূলক কাজ করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।

১৪. বানভট্ট কে ছিলেন? তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম উল্লেখ করো।

          •বানভট্ট ছিলেন সম্রাট হর্ষবর্ধনের সভাকবি। তাঁর রচিত প্রধান দুটি গ্রন্থ হলো 'হর্ষচরিত' এবং 'কাদম্বরী'।

১৫. কে কখন শক যুগের সূচনা করেছিলেন?

         •কুশান সম্রাট কনিষ্ক ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর সিংহাসন আরোহণ উপলক্ষে শকাব্দ বা শক যুগের সূচনা করেছিলেন।

১৬. সাতবাহন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

       •সাতবাহন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শিমুক।

১৭. ভারতবর্ষের দুটি প্রত্নক্ষেত্রের নাম করো যেখান থেকে পুরাপ্রস্তর যুগের প্রস্তরচিত্র পাওয়া গেছে।

      •মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকা এবং কর্ণাটকের পিকলিহাল।

১৮. চারটি আর্যসত্য বলতে তুমি কী বোঝো?

        • গৌতম বুদ্ধ প্রচারিত চারটি সত্য হলো: ১. দুঃখ আছে, ২. দুঃখের কারণ আছে, ৩. দুঃখ নিবৃত্তি সম্ভব এবং ৪. দুঃখ নিবৃত্তির পথ (অষ্টাঙ্গিক মার্গ) আছে।

১৯. প্রাচীন ভারতের অন্তত দুটি গণরাজ্যের নাম লেখো

      •প্রাচীন ভারতের দুটি গণ রাজ্যের নাম হলো- বৃজি (লিচ্ছবি) এবং মল্ল।

২০. কে কখন মৌর্য সাম্রাজ্যের ধ্বংস সাধন করেছিলেন? শেষ মৌর্য সম্রাট কে ছিলেন?

         •১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্য সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ মৌর্য সাম্রাজ্যের ধ্বংস সাধন করেন। শেষ মৌর্য সম্রাট ছিলেন বৃহদ্রথ।

২১. চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কোন রাজা কেন আহ্বান করেছিলেন?

          •কুশান সম্রাট কনিষ্ক কাশ্মীর বা জলন্ধরে এটি আহ্বান করেন।বৌদ্ধ শাস্ত্রের জটিলতা দূর করা, বিভাস শাস্ত্র সংকলন এবং বৌদ্ধ ধর্মের সংহতি বজায় রাখার জন্য এটি অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই বৌদ্ধ ধর্ম হীনযান ও মহাযান-এই দুই ভাগে ভাগ হয়।

২২. প্রাচীন ভারতের দুটি বন্দরের নাম লেখো।

      •পশ্চিম উপকূলের ভৃগুচ্ছ বা ব্রোচ এবং পূর্ব উপকূলের তাম্রলিপ্ত।

২৩. সাতবাহন বংশের প্রথম শাসক কে ছিলেন? সাতবাহনরা কি অন্ধ্র নামেও পরিচিত ছিলেন?

        •প্রথম শাসক হলেন শিমুক। হ্যাঁ, পুরাণ এবং ঐতিহাসিকদের মতে সাতবাহনরা 'অন্ধ্র' বা 'অন্ধ্রভৃত্য' নামেও পরিচিত ছিলেন।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...