Skip to main content

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা মাইনর সাজেশন ২০২৬।

 বাংলা নাটক ও কথা সাহিত্যের পাঠ 

Unit-1( বিশ শতকের বাংলা নাটকের ইতিহাস)

​*** ১. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: ঐতিহাসিক নাটক রচনায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান আলোচনা করো। ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বা ‘শাহজাহান’ নাটকের বিশেষত্বের দিকে আলোকপাত করো।

** ২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাট্যভাবনা ও তাঁর রূপক-সাংকেতিক নাটকের বৈশিষ্ট্যগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।

*** ৩. বিজন ভট্টাচার্য ও গণনাট্য আন্দোলন: বাংলা নাটকের ইতিহাসে গণনাট্য আন্দোলনের প্রভাব এবং বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’ নাটকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

*** ৪. উৎপল দত্ত: রাজনৈতিক নাটক রচনায় উৎপল দত্তের অবদান আলোচনা করো। ‘টিনের তলোয়ার’ বা তাঁর অন্য কোনো নাটকের আলোকে তাঁর নাট্যশৈলী বিশ্লেষণ করো।

** ৫. বাদল সরকার: বাংলা নাটকের আঙ্গিক পরিবর্তনে বাদল সরকারের ভূমিকা ও তাঁর ‘তৃতীয় নাট্যধারা’ (Third Theatre)-এর ধারণাটি আলোচনা করো।

​৫ নম্বরের প্রশ্ন (সংক্ষিপ্ত আলোচনা)

​মন্মথ রায়: পৌরাণিক ও সামাজিক নাটক রচনায় মন্মথ রায়ের অবদান সংক্ষেপে লেখো।

​*** তুলসী লাহিড়ী: তুলসী লাহিড়ীর নাটকে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র কতটা ফুটে উঠেছে? ‘পথিক’ বা ‘ছেঁড়াতার’ নাটকের প্রেক্ষিতে আলোচনা করো।

​** মনোজ বসু: মনোজ বসুর নাট্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।

​** রবীন্দ্রনাথের নাটক: রবীন্দ্র-নাটকের শ্রেণিবিভাগ করে যেকোনো একটি ধারার পরিচয় দাও।

      •Unit-2,চন্দ্রগুপ্ত, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।•

*** ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে সার্থকতা: "ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের সার্থকতা বিচার করো।" (এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)।

*** চাণক্য চরিত্র: "চাণক্য চরিত্রের বহুমুখী বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।" অথবা, "চাণক্যের প্রতিহিংসা কীভাবে দেশপ্রেমে রূপান্তরিত হয়েছে তা দেখাও।"

*** সেকেন্দার-পুরু সংবাদ: "সেকেন্দার ও পুরু-র কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সেকেন্দারের মহানুভবতা কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?"

*** নাটকের নামকরণের সার্থকতা: "নাটকটির নাম 'চন্দ্রগুপ্ত' রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা আলোচনা করো।"

** হেলেন চরিত্র: "নাটকটিতে হেলেন চরিত্রের গুরুত্ব এবং তাঁর অন্তদ্বন্দ্ব সংক্ষেপে লেখো।"

** জাতীয়তাবাদ: "'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকে দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবোধের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখো।"

•টীকা•

*** "একি চমৎকার দেশ!" — কার উক্তি? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?

*** "বড় বিচিত্র এই দেশ সেলুকাস!" — উক্তিটির প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।

* "সম্রাট, মহানুভবতা শিখতে হয় আর্যের কাছে।" — বক্তা কে? কার উদ্দেশ্যে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য কী?

*** "প্রতিহিংসাই আমার জীবনের একমাত্র ব্রত।" — কার কথা? তাঁর এই প্রতিহিংসার কারণ কী ছিল?

*** "মগধের সিংহাসন তোমারই প্রতীক্ষায় চন্দ্রগুপ্ত।" — উক্তিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

Unit3(বিশ শতকের কথা সাহিত্য)

​*** ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে সমকালীন গ্রামীণ সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

​*** ২. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজবাস্তবতা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' বা 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে তাঁর উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বৈশিষ্ট্যগুলি উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো।

​*** ৩. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঞ্চলিকতা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে আঞ্চলিক জীবনের রূপায়ণ এবং গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে ধারা পরিলক্ষিত হয়, তা আলোচনা করো।

***​৪. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃতি ও জীবন: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাসাহিত্যে প্রকৃতিচেতনা কীভাবে জীবনদর্শনের সঙ্গে মিশে গেছে, তা তাঁর উপন্যাসের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

​** ৫. মহাশ্বেতা দেবীর প্রতিবাদী চেতনা: মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষ, বিশেষত আদিবাসী সমাজের বঞ্চনা ও তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা কীভাবে ফুটে উঠেছে, তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

Unit-4 (বিশ শতকের কথা সাহিত্য)•

ক) বিশ শতকের কথা সাহিত্যঃ রবীন্দ্র ছোটগল্প।

*** 'স্ত্রীর পত্র': মৃণালিনী চরিত্রটির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রতিবাদী সত্তাকে তুলে ধরেছেন, তা আলোচনা করো।

​*** 'তোতা কাহিনী': তোতা কাহিনী গল্পটি একটি ব্যঙ্গাত্মক রূপক। এই রূপকের আড়ালে রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থার কোন ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছেন?

*** ​'বলাই': 'বলাই' গল্পটিতে প্রকৃতি ও মানুষের যে সম্পর্ক এবং তার করুণ পরিণতি ফুটে উঠেছে, তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

​** 'পণরক্ষা': 'পণরক্ষা' গল্পে সামাজিক প্রথা ও ব্যক্তিগত আবেগের যে দ্বন্দ্ব, তার পরিচয় দাও।

​রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পকার সত্তা: উপরের গল্পগুলোর আলোকে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের বিশেষ শৈলী বা বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

​•টীকা• (সংক্ষিপ্ত/ব্যাখ্যামূলক)

​'পরীর পরিচয়': গল্পটির মূল সুর বা জীবনদর্শনের পরিচয় দাও।

​'স্ত্রীর পত্র': মৃণালের চিঠিতে ফুটে ওঠা আত্মোপলব্ধির জায়গাগুলো চিহ্নিত করো।

​'তোতা কাহিনী': তোতা পাখিটির করুণ পরিণতির পেছনে রাজার আদেশের ভূমিকা কতটুকু ছিল?

​'বলাই': বলাইয়ের প্রকৃতিপ্রেম ও তার চারিত্রিক সরলতা আলোচনা করো।

​'পণরক্ষা': গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

•খ) উপন্যাসঃ হাজার চুরাশির মা।মহাশ্বেতা দেবী•

*** মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসটি সত্তর দশকের নকশালবাড়ি আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।আলোচনা করো।•• হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসে সত্তর দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নকশাল আন্দোলনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সংক্ষেপে লেখো।

*** ১)নামকরণ ও সার্থকতা।​'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। এই নামকরণের মাধ্যমে লেখিকা কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?

*** একজন মা কীভাবে কেবল একটি শনাক্তকরণ নম্বরের (১০৮৪) মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠলেন? উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে এর মর্মার্থ আলোচনা করো।

*** সুজাতা। 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুজাতার বিবর্তন আলোচনা করো। একজন নির্বাক গৃহবধূ থেকে সচেতন জননী হয়ে ওঠার পথটি বর্ণনা করো।

ব্রতী।ব্রতী চরিত্রটি সত্তর দশকের যুবসমাজের কোন আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে? সুজাতার স্মৃতিচারণায় ব্রতীর যে রূপটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

*** দিব্যনাথ চ্যাটার্জি: ব্রতীর পিতা দিব্যনাথ চ্যাটার্জি চরিত্রটির মাধ্যমে মধ্যবিত্ত সমাজের যে সুবিধাবাদী ও রক্ষণশীল রূপ প্রকাশ পেয়েছে, তা বিশ্লেষণ করো।

** সুজাতা ও সৌমুর মা: সুজাতা ও সৌমুর মায়ের কথোপকথনের মাধ্যমে শ্রেণিগত অবস্থান নির্বিশেষে মাতৃত্বের যে অখণ্ড রূপ ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।


​•সুজাতার পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের ভণ্ডামি ও নৈতিক অবক্ষয় কীভাবে উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছে?

•• উপন্যাসে 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস' ও সাধারণ মানুষের অসহায়তা কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা আলোচনা করো।

••উপন্যাসের শেষে সুজাতার যে 'আর্তনাদ' বা 'চিৎকার' বর্ণিত হয়েছে, তার প্রতীকী গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

••এই উপন্যাসটি কি কেবল রাজনৈতিক উপন্যাস, নাকি মাতৃত্বের এক অনন্য দলিল? যুক্তিসহ আলোচনা করো।

•••সুজাতা কেন মনে করেছিলেন যে ব্রতী মরেনি, বরং তিনি নিজে এবং তাঁর চারপাশের সমাজ মৃত? এই দার্শনিক উপলব্ধিটি ব্যাখ্যা করো।


​• ছোট উদ্ধৃতিভিত্তিক বড় প্রশ্ন•

••• "জ্যান্ত ব্রতীকে ওরা কেউ সহ্য করতে পারেনি, মরা ব্রতীকে ওরা ভয় পায়।"— মন্তব্যটির আলোকে ব্রতীর পরিবারের সদস্যদের মানসিকতা বিশ্লেষণ করো।

••• "হাজার চুরাশির মা হয়েই ও বাঁচবে।"— কে কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? সুজাতার জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী এই সিদ্ধান্তটি আলোচনা করো।

 •চরিত্র বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন

     •• •সুজাতা চরিত্রঃ 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে সুজাতার বিবর্তন আলোচনা করো। একজন সাধারণ ঘরোয়া মা থেকে কীভাবে তিনি এক বিপ্লবী সত্তার জননী হয়ে উঠলেন?

  •ব্রতী চরিত্রঃ ব্রতী এই উপন্যাসে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে সমস্ত কাহিনীর চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে?

   • বিপা বা দিব্যনাথঃ সুজাতার স্বামী দিব্যনাথের মধ্যবিত্ত মানসিকতা বা ব্রতীর প্রেমিকা বিপার আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ছোট প্রশ্ন হতে পারে।

•মহাশ্বেতা হাজার চুরাশির মা উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা ও বিষয়বস্তু

  •নামকরণের সার্থকতাঃ উপন্যাসের নাম 'হাজার চুরাশির মা' কেন রাখা হয়েছে? ১০৮৪ সংখ্যাটির তাৎপর্য কী?

  •মায়ের উপলব্ধি: "ব্রতী কোনো অন্যায় করেনি"—সুজাতার এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

•• • রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ সত্তরের দশকের নকশাল আন্দোলন কীভাবে একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, তা উপন্যাসের আলোকে লেখো।


       •গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্ন (ব্যাখ্যামূলক)•

•"ব্রতী মরে গিয়েও বেঁচে আছে, আর আমরা যারা বেঁচে আছি তারা আসলে মৃত।"

• "পঁচিশ বছর আগে ব্রতী জন্মেছিল, আর দু-বছর আগে ব্রতী মরল।"—এই দুই সময়ের মাঝখানের সুজাতার মানসিক দ্বন্দ্ব ব্যাখ্যা করো।

• "ওরা ব্রতীকে মরে যেতে দেয়নি, ওকে মেরে ফেলেছে।"—কারা কেন ব্রতীকে হত্যা করেছিল?


•শিল্পমূল্য ও আঙ্গিক•

 * লিখনশৈলী: মহাশ্বেতা দেবীর ছোট ছোট বাক্য এবং তীক্ষ্ণ শ্লেষ কীভাবে উপন্যাসটিকে সার্থক করে তুলেছে?

* প্রতিবাদ: এই উপন্যাসটি কি কেবল একটি শোকাতুর মায়ের কাহিনী, নাকি এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ?

পরীক্ষার জন্য কিছু জরুরি টিপস:

 * সত্তরের দশক: উত্তর লেখার সময় তৎকালীন কলকাতার রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রাখবেন।

 * সুজাতার বিবর্তন: সুজাতার ব্যক্তিজীবন বনাম সামাজিক জীবনের সংঘাত পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলবেন।

* শব্দ চয়ন: মহাশ্বেতা দেবীর উপন্যাসে ব্যবহৃত রূঢ় বাস্তববাদী শব্দগুলো উত্তরের ভেতরে ব্যবহার করলে নম্বর ভালো পাওয়া যায়।





মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' উপন্যাসে চরিত্রগুলোকে প্রধানত দুটি শিবিরে ভাগ করা যায়—একদিকে উচ্চবিত্ত শোষক ও সুবিধাবাদী সমাজ (চ্যাটার্জি পরিবার), অন্যদিকে আদর্শবাদী বিপ্লবী তরুণ প্রজন্ম।

১. কেন্দ্রীয় চরিত্র

 *** সুজাতা চ্যাটার্জি: উপন্যাসের নামচরিত্র বা 'হাজার চুরাশির মা'। ব্রতীর মা, যিনি ছেলের মৃত্যুর দুই বছর পর তার আদর্শ ও জীবনকে নতুন করে আবিষ্কার করেন।

* ব্রতী চ্যাটার্জি: সুজাতার কনিষ্ঠ ও প্রিয় সন্তান। মেধাবী ছাত্র যে নকশাল আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় (তার লাশের নম্বর ছিল ১০৮৪)।

২. চ্যাটার্জি পরিবারের সদস্য (বিপক্ষ শক্তি)

*** দিব্যনাথ চ্যাটার্জি: সুজাতার স্বামী। অত্যন্ত ভোগবাদী, নীতিহীন এবং আভিজাত্যের মোহে অন্ধ। ছেলের আদর্শের চেয়ে পরিবারের 'সম্মান' তার কাছে বড়।

* জ্যোতি: সুজাতার বড় ছেলে। সেও তার বাবার মতোই সুবিধাবাদী এবং প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থার অংশ।

 * নীপা: সুজাতার বড় মেয়ে। সে তার নিজের বৈবাহিক জীবন ও উচ্চবিত্ত আমোদ-প্রমোদ নিয়ে ব্যস্ত।


 * টনি: নীপার স্বামী (সুজাতার জামাই)।


 * সোমনাথ: সুজাতার মেজ ছেলে। সে ভোগবিলাসে মত্ত এবং ব্রতীর আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী।


 * লতিকা: সোমনাথের স্ত্রী।


৩. ব্রতীর আদর্শিক জগতের চরিত্র


 * নন্দিনী: ব্রতীর প্রেমিকা এবং সহযোদ্ধা। আন্দোলনের কারণে সে কারাবরণ করে এবং অমানুষিক অত্যাচারের শিকার হয় (তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়)। সে সুজাতাকে ব্রতীর প্রকৃত সত্তা বুঝতে সাহায্য করে।


 * সোমু, লুকু, বিজিত ও পার্থ: এরা ব্রতীর বন্ধু ও সহযোদ্ধা, যারা ব্রতীর সাথেই পুলিশের হাতে নিহত হয়েছিল।


৪. নিম্নবিত্ত ও অন্যান্য চরিত্র


 * সোমুর মা: সোমুর মা এবং সুজাতা—দুজনেই সন্তানহারা। তাদের কথোপকথনের মাধ্যমে সুজাতা সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের কথা জানতে পারেন।


 * কাপুর সাহেব: সুজাতার অফিসের বস বা সহকর্মী।


 * হীরা সিং: পুলিশের ইনফরমার বা নিচুতলার কর্মচারী।


 * সরোজ পাল: পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার, যিনি ব্রতীদের মতো বিপ্লবীদের দমনে অত্যন্ত নৃশংস ভূমিকা পালন করেছিলেন।


একটি জরুরি টিপস:


পরীক্ষায় প্রশ্ন এলে মনে রাখবেন, সুজাতা এবং ব্রতী হলো উপন্যাসের মূল স্তম্ভ। বাকি চরিত্রগুলো হয় সুজাতার একাকীত্ব বোঝাতে (দিব্যনাথ, জ্যোতি), না হয় ব্রতীর বিপ্লবকে ফুটিয়ে তুলতে (নন্দিনী, সোমুর মা) ব্যবহৃত হয়েছে।


আপনি কি এই চরিত্রগুলোর মধ্য থেকে সুজাতা বা নন্দিনীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোনো নোট তৈরি করতে চান?









Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...