Skip to main content

গৃহদাহ

অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরএকটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজ-সমালোচনামূলক উপন্যাস, যা ১৯২০ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। অচলা, মহিম ও সুরেশের জটিল মনস্তত্ত্ব এবং তৎকালীন হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের সামাজিক দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের মূল বিষয়।

'বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা' – শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়: বাংলা উপন্যাসের সমালোচনায় এটি একটি মাইলফলক গ্রন্থ। এই বইটিতে শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের শ্রেণিবিভাগ এবং বিশেষভাবে 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্রগুলোর (বিশেষ করে অচলার সিদ্ধান্তহীনতা ও সুরেশের আবেগ) মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত গভীর আলোচনা রয়েছে।

 •'শরৎচন্দ্র' – ড. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত:শরৎ-সাহিত্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই বইটি অত্যন্ত প্রামাণ্য। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের গঠনশৈলী এবং তাঁর উপন্যাসে বাস্তবতাবোধ ও ভাবালুতার যে মিশ্রণ ঘটেছে, তা বুঝতে এটি দারুণ সাহায্য করবে।

     •'শরৎ-চেতনা' – শ্যামসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায়:শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে সামাজিক মূল্যবোধ, প্রগতিশীলতা ও পারিবারিক সংহতির যে দ্বন্দ্ব দেখা যায়, তা এই বইটিতে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

      •'শরৎচন্দ্রের উপন্যাস: বিষয় ও বিন্যাস' – অশ্রুকুমার সিকদার:উপন্যাসের প্লট নির্মাণ এবং চরিত্রগুলোর ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বুঝতে এই আধুনিক সমালোচনা গ্রন্থটি বেশ সহায়ক।

     •'শরৎচন্দ্র ও মানবতাবাদ' – আবদুল হালিম:** 'গৃহদাহ'-এর মতো উপন্যাসে শরৎচন্দ্র যেভাবে প্রচলিত সমাজ কাঠামোর ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ভেতরের মানবিক সত্ত্বা ও সমাজ-সংস্কৃতির লড়াইকে দেখিয়েছেন, তার একটি সুন্দর বিশ্লেষণ এখানে পাওয়া যাবে।

       বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংকলিত 'শরৎ-স্মারক গ্রন্থ'বা 'শরৎ-সাহিত্য পরিক্রমা'-র মতো প্রবন্ধ সংকলনগুলো দেখতে পারেন। এ


     •শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা'এবং সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্তের 'শরৎচন্দ্র বই দুটি দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে ভালো হবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...