Skip to main content

শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থ ও ব্যাপক অর্থ ব্যাখ্যা করো। উভয় অর্থের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।

শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থ ও ব্যাপক অর্থ ব্যাখ্যা করো। উভয় অর্থের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টারের 'এডুকেশন মাইনর' সিলেবাস অনুযায়ী।

         আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,শিক্ষার ধারণা অত্যন্ত ব্যাপক এবং বহুমুখী। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার অর্থ দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনা করা হয়—সংকীর্ণ অর্থ (Narrow Meaning) এবং ব্যাপক অর্থ (Wider Meaning)। এই দুটি অর্থই শিক্ষার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বুঝতে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে।আসলে Education is a lifelong process"। আর সেখানে-

 ১) শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থ (Narrow Meaning of Education)ঃ শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থ বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে পরিকল্পিত শিক্ষাদান ব্যবস্থা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

      • শিক্ষালয়কেন্দ্রিকঃএই শিক্ষা মূলত স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

      •নিয়ন্ত্রিতঃএটি পাঠ্যপুস্তক, নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম এবং পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

      •শিক্ষককেন্দ্রিকঃ এখানে শিক্ষকই প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান গ্রহণ করে।

     •সময়াবদ্ধঃ শিক্ষা একটি নির্দিষ্ট বয়সে শুরু হয় এবং ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট পাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।

      • লক্ষ্য্ঃ এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞানার্জন এবং নির্দিষ্ট পেশার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

 ২) শিক্ষার ব্যাপক অর্থ (Wider Meaning of Education)ঃ শিক্ষার ব্যাপক অর্থ বলতে বোঝায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের নিরন্তর অভিজ্ঞতালব্ধ শিখন প্রক্রিয়া। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

 জীবনব্যাপী প্রক্রিয়াঃএটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষ সারাজীবন শিখতে থাকে।

 অভিজ্ঞতাভিত্তিকঃ জীবনযাত্রার প্রতিটি ঘটনা, সাফল্য বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণই হলো ব্যাপক অর্থের শিক্ষার মূল কথা।

 শিক্ষার্থীকেন্দ্রিকঃ এখানে শিক্ষার্থীর চাহিদা, আগ্রহ ও বিকাশই মুখ্য। শিক্ষক এখানে একজন পথপ্রদর্শক বা বন্ধুর ভূমিকা পালন করেন।

 অব্যাহতঃ এই শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ নেই। মানুষ তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিখতে থাকে।

 লক্ষ্যঃএর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলির পূর্ণ বিকাশ এবং জীবনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

          •শিক্ষার সংকীর্ণ ও ব্যাপক অর্থের পার্থক্য•

১. শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষার পরিধি অত্যন্ত সীমিত এবং বিদ্যালয় বা নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ।কিন্তু-

     •শিক্ষার ব্যাপক অর্থে এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক; ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ও স্থানই শিক্ষার ক্ষেত্র।

২. শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থে এর সময়কাল একটি নির্দিষ্ট বয়সে শুরু হয় এবং ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়।কিন্তু-

     •শিক্ষার ব্যাপক অর্থে শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, যা জন্ম থেকে শুরু হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত নিরন্তর চলতে থাকে।

৩. শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থে এর পাঠ্যক্রম একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।কিন্তু-

    •শিক্ষার ব্যাপক অর্থে শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম নেই; জীবনের সকল অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতিই শিক্ষার উপাদান।

৪. শিক্ষার সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষকের ভূমিকা শিক্ষকই প্রধান নিয়ন্ত্রক এবং শিক্ষার্থীর ওপর জ্ঞান চাপিয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু-

       • শিক্ষার ব্যাপক অর্থে শিক্ষক একজন বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

৫. সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষার উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য হলো পুঁথিগত জ্ঞান অর্জন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পেশাগত যোগ্যতা লাভ।কিন্তু-

      •ব্যাপক অর্থে শিক্ষার  মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং জীবনের উপযোগী ব্যক্তিত্ব গঠন।

৬. সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষার পদ্ধতি মূলত মুখস্থ বিদ্যা ও কঠোর অনুশাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।কিন্তু-

        • ব্যাপক অর্থে শিক্ষা মূলত স্বতঃস্ফূর্ত অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও হাতে-কলমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

        পরিশেষে বলা যায় যে, শিক্ষার এই দুটি অর্থ একে অপরের পরিপূরক। সংকীর্ণ অর্থ যেমন ব্যক্তিকে জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে সমাজ ও কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলে, তেমনি ব্যাপক অর্থ মানুষকে একজন সুশৃঙ্খল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। বর্তমান আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় এই উভয় ধারণার সমন্বয় ঘটিয়েই শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশ নিশ্চিত করা হয়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ব্যাখ্যা, টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং "Shesher Kabita Sundorbon" YouTube channel SAMARESH SIR 




**পরীক্ষার জন্য টিপস:**

১. উত্তরটি লেখার সময় পার্থক্য দেখানোর জন্য অবশ্যই **ছক (Table)** ব্যবহার করবে, এতে পরীক্ষকের নজর কাড়ে।

২. "Education is a lifelong process"—এই উক্তিটি ভূমিকা বা উপসংহারে যোগ করলে উত্তরের মান বাড়বে।

৩. উত্তরটি দীর্ঘ করার জন্য পয়েন্টগুলো ছোট ছোট অনুচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারো।

এই নোটটি কি আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত, নাকি কোনো পয়েন্টে আরও উদাহরণের প্রয়োজন আছে?

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...