Skip to main content

 সুকান্ত ভট্টাচার্যের **'চিরদিনের'** কবিতাটি বাংলার গ্রামীণ জীবন, সেখানকার সাধারণ মানুষের সংগ্রাম এবং তাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা অপরাজেয় শক্তিকে কেন্দ্র করে লেখা। সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্য হিসেবে কবিতাটির মূল ভাববস্তু নিচে সহজ কথায় বুঝিয়ে দেওয়া হলো:

### কবিতার মূল বিষয়বস্তু:

 * **বাংলার শান্ত রূপ:** কবিতার শুরুতেই কবি বাংলার একটি চিরপরিচিত, শান্ত ও স্নিগ্ধ গ্রামের ছবি এঁকেছেন। যেখানে পাখির ডাক, সবুজ মাঠ, জোড়াদিঘি আর বাঁশঝাড়ের ছায়ায় মানুষের জীবন এক চেনা ছন্দে এগিয়ে চলে। এখানে কোনো কোলাহল নেই, আছে শুধু এক শান্ত স্থিরতা।

 * **দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের আঘাত:** এই শান্ত গ্রামেই হানা দেয় দুর্ভিক্ষ (১৩৫০ সালের তেসরা পঞ্চাশের মন্বন্তর বা আকাল)। মাঠের ফসল শুকিয়ে যায়, ঘরে ঘরে দেখা দেয় চরম অন্নকষ্ট। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে, গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে চলে যায় অনেকে। চারিদিকে নেমে আসে এক মরণ দশা।

 * **জীবনসংগ্রাম ও পুনরুত্থান:** কিন্তু এখানেই কবিতাটি থেমে থাকে না। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও বাংলার গ্রামীণ সমাজ কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। বেঁচে থাকা মানুষগুলো আবার রুখে দাঁড়িয়েছে। কাদা-মাটি মাখা কৃষক বুক বেঁধে আবার লাঙল হাতে মাঠে নেমেছে, চাষ করেছে, ফসল ফলিয়েছে।

 * **যৌথ জীবনের শক্তি:** গ্রামের মানুষ আবার একসঙ্গে মিলেমিশে জীবনের গান গায়। সকালের নতুন সূর্য তাদের মনে নতুন আশা জাগায়। হাটবারে সবাই একসঙ্গে হাটে যায়। তারা প্রমাণ করে যে, চরম অত্যাচার বা দুর্ভিক্ষও বাংলার সাধারণ মানুষের প্রাণশক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করতে পারে না।তাই সবাই মিলে সমস্ত দুঃখকষ্ট জয় করে পুনরায় সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

> **এককথায় মূল কথা:**

> 'চিরদিনের' কবিতাটি আসলে বাংলার পল্লীপ্রকৃতির সৌন্দর্য, দুর্ভিক্ষের এক চরম বাস্তব ও নিষ্ঠুর রূপ এবং সবশেষে জীবনসংগ্রামে সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ী হওয়ার এক অসাধারণ আখ্যান। বাংলার এই জীবনযাত্রা কোনো সাময়িক আঘাতে শেষ হয়ে যায় না—এটি চিরন্তন, তাই এর নাম 'চিরদিনের'।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...