•হাওয়ায় মুখে ছুটল ভাঙ্গা কুঁড়ের চাল
শিকল ছেঁড়া কয়েদি ডাকাতের মত।
• চোখে চোখে কথা নয় গো বন্ধু আগুনে আগুনে কথা।
• স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে
কে বাঁচিতে চায়?
• এখনো খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে; আয়,আয় আয়।
• আবরিছে দিননাথে ঘন ঘনরূপে।
• ডুব দে রে মন কালী বলে
হৃদি রত্নাকরের অগাধ জলে।
• এ পুরীর পথমাঝে যত আছে শিলা
কঠিন শ্যামার মত কেহ নাহি আর।
• বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি সে আমার নয়
অসংখ্য বন্ধন মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ।
• এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
• কালো জল ঢালতে সই কালা পড়ে মনে।
• তাহার দুটি পালন করা ভেড়া
চড়ে বেড়ায় মোদের বটমূলে
যদি ভাঙ্গে আমার ক্ষেতের বেড়া
কোলের পরে নিই তাহারে তুলে।
• লুটায় মেঘলাখানি ত্যাজি কটিদেশ
মৌন অপমানে।
• লঙ্কার পঙ্কজ রবি গেলা অস্তাচলে।
দুই ধারে এ কি প্রাসাদের সারি? অথবা তরুর মূল?
অথবা এ শুধু আকাশ জুড়িয়া আমারি মনের ভুল?
• এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা।
• বসুন্ধরা, দিবসের কর্ম-অবসানে,
দিনান্তের বেড়াটি ধরিয়া আছে চাহি
দিগন্তের পানে।
• মেঘ নাই তবু অঝোরে ঝরিল জল,
ফুল ফুটিল না আপনি ধরিল ফল;
স্বপনেও কভু ভাবি নাই, প্রিয়তম,
এমনি করিয়া সহসা আসিয়া নয়ন জুড়াবে মম।
• নবদূব্বাদলশ্যাম রামে নিরখিয়া
ময়ূর নীরদ ভ্রমে উঠিল নাচিয়া।
++++++########+++++++++++##₹₹₹₹₹₹₹₹
পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) চতুর্থ সেমিস্টারের বাংলা মেজর (Major) কোর্সের অলংকার শাস্ত্রের অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোর পরীক্ষায় অলংকার নির্ণয়ের জন্য মূলত সুপরিচিত কিছু কবিতার পংক্তিই বারবার ঘুরেফিরে আসে।
আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে বিগত বছরের পরীক্ষায় আসা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কবিতার পংক্তি, তাদের অলংকার নির্ণয় ও কারণসহ নিচে দেওয়া হলো। এগুলো ভালো করে অনুশীলন করলে পরীক্ষায় অলংকার নির্ণয় করা অনেক সহজ হবে।
### ১. অনুপ্রাস অলংকার (Alliteration)
> **পংক্তি:** "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা"
>
* **নির্ণয়:** বৃত্ত্যনুপ্রাস অলংকার।
* **কারণ:** এখানে 'র' এবং 'শ' (ষ/স) ধ্বনি বারবার ধ্বনিত হয়ে একটি সুন্দর শ্রুতিমাধুর্য তৈরি করেছে।
> **পংক্তি:** "গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি গরজে গগনে গগনে"
>
* **নির্ণয়:** বৃত্ত্যনুপ্রাস অলংকার।
* **কারণ:** এখানে 'গ' এবং 'র' ধ্বনি বহুবার আবৃত্ত হয়েছে।
### ২. যমক অলংকার (Pun/Yamaka)
> **পংক্তি:** "আনাগোনা করো না লো সজনী লো, আর তো আনা গো না।"
>
* **নির্ণয়:** সার্থক যমক অলংকার।
* **কারণ:** প্রথম 'আনাগোনা' শব্দের অর্থ যাতায়াত করা, আর দ্বিতীয় 'আনা গো না' শব্দের অর্থ আনা আনা (টাকা) আর হবে না। একই শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
> **পংক্তি:** "ভারত ভারত-খ্যাত আপনার গুণে।"
>
* **নির্ণয়:** যমক অলংকার।
* **কারণ:** প্রথম 'ভারত' শব্দের অর্থ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর এবং দ্বিতীয় 'ভারত' শব্দের অর্থ ভারতবর্ষ।
### ৩. শ্লেষ অলংকার (Paronomasia/Slesha)
> **পংক্তি:** "কে বলে ঈশ্বরগুপ্ত অদ্বৈতবাদী সে তো নয়, / ঈশ্বরের গুপ্তভাব তিনিও তো প্রকাশ করেন।"
>
* **নির্ণয়:** সভঙ্গ শ্লেষ অলংকার।
* **কারণ:** 'ঈশ্বরগুপ্ত' শব্দটিকে একবার কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং অন্যবার ঈশ্বরের গোপন বা গুপ্ত ভাব—এই দুই অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
> **পংক্তি:** "আছিল সে ললিতা লবঙ্গলতা।"
>
* **নির্ণয়:** অভঙ্গ শ্লেষ অলংকার।
* **কারণ:** 'ললিতা লবঙ্গলতা' বলতে রাধার সখী ললিতা ও লবঙ্গলতা নামের লতা—দুটি অর্থই শব্দটিকে না ভেঙে পাওয়া যায়।
### ৪. উপমা অলংকার (Simile)
> **পংক্তি:** "মহাভারতের কথা অমৃত সমান।"
>
* **নির্ণয়:** পূর্ণোপমা অলংকার।
* **কারণ:** এখানে উপমেয় (মহাভারতের কথা), উপমান (অমৃত), সাধারণ ধর্ম (মধুরতা/শ্রবণযোগ্যতা - যা এখানে উজ্জ্ব বা অন্তর্নিহিত) এবং উপমাবাচক শব্দ (সমান) — সবকটি উপাদানই স্পষ্ট।
> **পংক্তি:** "পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"
>
* **নির্ণয়:** পূর্ণোপমা অলংকার।
* **কারণ:** এখানে উপমেয় চোখের সঙ্গে উপমান পাখির নীড়ের তুলনা করা হয়েছে 'মতো' উপমাবাচক শব্দের দ্বারা।
### ৫. রূপক অলংকার (Metaphor)
> **পংক্তি:** "জীবন-নদীতে কত তরঙ্গ ওঠে।"
>
* **নির্ণয়:** নিরঙ্গ রূপক অলংকার।
* **কারণ:** উপমেয় 'জীবন'-এর ওপর উপমান 'নদী'-র অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
> **পংক্তি:** "মন-মাঝি তোর বৈঠা নেরে, আমি আর বাইতে পারলাম না।"
>
* **নির্ণয়:** রূপক অলংকার।
* **কারণ:** উপমেয় 'মন'-এর সাথে উপমান 'মাঝি'-র অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
### ৬. ব্যতিরেক অলংকার (Hyperbole of Comparison)
> **পংক্তি:** "মুখের হাসিতে তার মুক্তা ঝরে পড়ে, / মুক্তার শকতি কোথা ও হাসির লড়ে।"
>
* **নির্ণয়:** ব্যতিরেক অলংকার।
* **কারণ:** উপমান (মুক্তা) অপেক্ষা উপমেয় (মুখের হাসি)-এর শ্রেষ্ঠত্ব বা আধিক্য দেখানো হয়েছে।
### ৭. সমাসোক্তি অলংকার (Personification)
> **পংক্তি:** "কেঁদে চলে অবিরত ঝরনার জল।"
>
* **নির্ণয়:** সমাসোক্তি অলংকার।
* **কারণ:** অচেতন বা জড় পদার্থ 'ঝরনার জল'-এর ওপর চেতন মানুষের 'কাঁদা'র ধর্ম বা আচরণ আরোপ করা হয়েছে।
### পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস:
* অলংকার নির্ণয় করার সময় শুধু অলংকারের নাম লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায় না।
* **সঠিক নিয়ম:** প্রথমে পংক্তিটি লিখে অলংকারের নাম চিহ্নিত করতে হবে। এরপর **উপমেয়**, **উপমান**, **সাধারণ ধর্ম** এবং **সাদৃশ্যবাচক শব্দ** (যদি থাকে) আলাদা করে দেখিয়ে সংজ্ঞার সাথে মিলিয়ে ২-৩ লাইনে যুক্তি বা কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে।
####### ########### ########₹২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (WBSU) সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষানীতি (CCF/NEP) ও বর্তমান প্রশ্নপদ্ধতি মাথায় রেখে চতুর্থ সেমিস্টারের বাংলা মেজরের জন্য অলংকার নির্ণয়ের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাব্য কবিতার পংক্তি নিচে দেওয়া হলো।
চার লাইনের ও দুই লাইনের—উভয় ধরনের সম্ভাব্য পংক্তিগুলো অলংকার চিহ্নিতকরণ ও কারণসহ সাজানো হয়েছে, যা আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সরাসরি সাহায্য করবে।
### ১. শব্দালংকার (Sabdalankar) থেকে সম্ভাব্য নমুনা
> **পংক্তি:**
> "কূজন কুহূ গুঞ্জরে কুঞ্জে কুঞ্জে,
> ভ্রমর গুঞ্জরি গুঞ্জরি উঠে গুঞ্জে;
> বন বনান্তে পবন বহিছে মন্দ,
> ছড়ালো গগনে চম্পক-পরিমল-গন্ধ।"
>
* **নির্ণয়:** **বৃত্ত্যনুপ্রাস অলংকার**।
* **কারণ:** এখানে 'ক', 'জ', 'ঞ', 'র' এবং 'ন' ধ্বনিগুলো প্রতিটি চরণে বারবার উচ্চারিত হয়ে একটি ধ্বনিমাধুর্য ও তরঙ্গ তৈরি করেছে। পরীক্ষায় অনুপ্রাসের এই ধরনের বড় পংক্তি আসার সম্ভাবনা প্রবল।
> **পংক্তি:**
> "কৈলাসের শিখরী, মহিষাসুরমর্দন-কারী,
> তুমিই তো জগত-জননী ভবতারিণী ভারি;
> দাও মা পদে স্থান, করি হে পুণ্য দান,
> ঘুচাও মনের কালি, ওগো মা ত্রিপুরারি।"
>
* **নির্ণয়:** **অন্ত্যানুপ্রাস অলংকার**।
* **কারণ:** কবিতাটির প্রথম লাইনের শেষে 'কারী' শব্দের সাথে দ্বিতীয় লাইনের শেষে 'ভারি' এবং তৃতীয় লাইনের শেষে 'দান' শব্দের সাথে চতুর্থ লাইনের শেষে 'ত্রিপুরারি' শব্দের অন্ত্যমিল (ছন্দ ও ধ্বনির মিল) ঘটেছে।
> **পংক্তি:**
> "আছিল সে ললিতা লবঙ্গলতা,
> কুঞ্জবনে ফুটিত কতশত কথা।"
>
* **নির্ণয়:** **শ্লেষ অলংকার** (সভঙ্গ ও অভঙ্গ মিশ্রিত)।
* **কারণ:** এখানে 'ললিতা লবঙ্গলতা' কথাটি একই সাথে রাধার সখী 'ললিতা' ও 'লবঙ্গলতা' এবং অন্য অর্থে সুন্দরী লবঙ্গলতার গাছকে বোঝাচ্ছে। শব্দকে না ভেঙে এবং ভেঙে দুইভাবেই একাধিক অর্থ প্রকাশ পাওয়ায় এটি শ্লেষ।
### ২. অর্থালংকার (Arthalankar) থেকে সম্ভাব্য নমুনা
> **পংক্তি:**
> "তোমার মুখের মধুর হাসির আগে,
> শরতের জোছনা মলিন হইয়া ভাগে;
> চাঁদেরও রূপের দেমাক টুটিয়া যায়,
> যদি সে একবার তোমার ও মুখ চায়।"
>
* **নির্ণয়:** **ব্যতিরেক অলংকার**।
* **কারণ:** এখানে উপমেয় হলো 'তোমার মুখ' বা 'মুখের হাসি' এবং উপমান হলো 'শরতের জোছনা' বা 'চাঁদ'। কবি এখানে উপমান (চাঁদ বা জোছনা) অপেক্ষা উপমেয় (মুখের হাসি)-এর উৎকর্ষ বা শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন (চাঁদ মলিন হয় ও তার দেমাক টুটে যায়)। তাই এটি ব্যতিরেক।
> **পংক্তি:**
> "সোনার তরীখানি বেয়ে আসে কে?
> ভরা পালে চলে যায়, কোনো দিকে নাহি চায়,
> তরঙ্গে হেলেদুলে নদী-বক্ষ চিরি যায়;
> মন-মাঝি আজ তাহার পানেই চেয়ে রয়।"
>
* **নির্ণয়:** **রূপক অলংকার** (বিশেষত নিরঙ্গ বা সাঙ্গ রূপকের ছোঁয়া)।
* **কারণ:** রবীন্দ্রনাথের কবিতার এই অংশটিতে 'মন-মাঝি' (মন রূপ মাঝি) শব্দবন্ধে উপমেয় 'মন'-এর ওপর উপমান 'মাঝি'-র অভেদ কল্পনা করা হয়েছে। একই সাথে সমগ্র পংক্তিটিতে 'জীবন'-এর সাথে 'নদী' ও 'সোনার তরী'-র একটি অন্তর্নিহিত রূপক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
> **পংক্তি:**
> "ধরণী ধরিল নীরব মৌন ব্রত,
> আকাশ চাহিল সুনীল নয়নে চেয়ে;
> বাতাস ফেলিল দীর্ঘশ্বাস সতত,
> বিদায়বেলায় সেই চঞ্চলা মেয়ে।"
>
* **নির্ণয়:** **সমাসোক্তি অলংকার** (Personification)।
* **কারণ:** এখানে জড় ও অচেতন প্রকৃতি বা বস্তু—যেমন 'ধরণী' (পৃথিবী), 'আকাশ' এবং 'বাতাস'-এর ওপর যথাক্রমে মানুষের মতো 'মৌন ব্রত ধরা', 'নয়নে চাওয়া' এবং 'দীর্ঘশ্বাস ফেলা'-র মতো চেতন মানবিক আচরণ ও ধর্ম আরোপ করা হয়েছে।
> **পংক্তি:**
> "নয়ন সম্মুখে তুমি নাই,
> নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই;
> বিরহেও তুমি আছ জড়াইয়া বুক,
> এ কেমন বেদনা, এ কি মহা সুখ!"
>
* **নির্ণয়:** **বিরোধাভাস অলংকার**।
* **কারণ:** শেষ চরণে 'বেদনা' এবং 'মহা সুখ'—এই দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ধারণাকে একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে বেদনা কীভাবে সুখ হতে পারে তা নিয়ে বিরোধ তৈরি হলেও, প্রেমের গভীর ব্যাকুলতা ও বিরহের আনন্দের দিক থেকে বিচার করলে এই বিরোধ মিটে যায়। তাই এটি বিরোধাভাস।
### পরীক্ষা হলের জন্য একটি জরুরি পরামর্শ:
২০check সালে নতুন পরীক্ষা কাঠামোয় অলংকার নির্ণয়ে **১০ নম্বরের বড় প্রশ্ন** অথবা **৫ নম্বরের মাঝারি প্রশ্ন** আসতে পারে। প্রশ্নে যদি চার লাইনের কবিতা থাকে, তবে উত্তর লেখার সময় খাতার মাঝখানে অলংকারের নামটি **বোল্ড** করে লিখবে। এরপর নিচের ছকটি অনুসরণ করে কারণ দর্শাবে:
১. **উদ্ধৃতি:** (পংক্তিটি উল্লেখ করা)
২. **উপমেয় ও উপমান চিহ্নিতকরণ:** (কোনটির সাথে কোনটির তুলনা বা অভেদ তা পরিষ্কার করা)
৩. **সিদ্ধান্ত ও অলংকারের সূত্র:** (অলংকারের সংজ্ঞাটি সংক্ষেপে লিখে পংক্তির সাথে তার মিল বুঝিয়ে দেওয়া)
Comments
Post a Comment