শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত বা পরিবর্তনশীল ধারণা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,ফিজিক্যাল এডুকেশন মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ১।
আমরা জানি যে,শারীর শিক্ষার প্রথাগত ধারণা দেশকাল পরম্পরায় সাধারণ জনসমাজে আজও প্রবাহমান। যা কিন্তু প্রকৃত অর্থে শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত ধারণা। প্রথাগত ধারণা গুলি শিক্ষার কয়েকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বা শারীরশিক্ষার সমার্থক শব্দ অথবা পরিবর্তিত শব্দ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে প্রথাগত ধারণায়। যেমন শারীরিক প্রশিক্ষণ হল শারীরশিক্ষা, play game sports হল শারীরশিক্ষা,জিমন্যাস্টিক হলো শারীরশিক্ষা, বিনোদন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি হল শারীরশিক্ষা।কিন্তু প্রথাগত ধারনাগুলি এককভাবে কোনোটিই শারীরিক শিক্ষার বিকল্প শব্দ নয়, প্রত্যেকটি শারীরিক শিক্ষার অন্তর্গত একটি অংশমাত্র। আর সেখানে প্রচলিত শারীরশিক্ষার ভ্রান্ত বা পরিবর্তনশীল ধারণা গুলি হলো-
১) শরীরচর্চাঃ শরীরচর্চার একমাত্র লক্ষ্য হলো শক্তির বৃদ্ধির মাধ্যমে দেহ-শ্রস্ত গড়ে তোলা। এজন্য বিশেষ বিশেষ পেশী সমূহের বৃদ্ধির জন্য সরঞ্জামসহ অথবা সরঞ্জাম ছাড়া শরীর গঠনকারী ব্যায়াম অভ্যাস করা হয়। যেমন- যোগব্যায়াম, বডি বিল্ডিং প্রভৃতি। শারীর শিক্ষা কার্যক্রমে উক্ত অনুশীলনগুলি একটি অংশ মাত্র।সুতরাং শরীরচর্চা, শারীরশিক্ষার সমর্থক নয়।
২) কেবল পিটি বা ড্রিলঃ অনেকে মনে করেন শারীর শিক্ষা মানেই সারিবদ্ধভাবে কিছু পিটি (PT), কুচকাওয়াজ বা ড্রিল করা। কিন্তু ড্রিল হলো শারীর শিক্ষার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
৩) নিছক খেলাধুলো বা বিনোদনঃএকটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা হলো-মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট বা ভলিবল খেলাটাই শারীর শিক্ষা। খেলাধুলো শারীর শিক্ষার একটি মাধ্যম, কিন্তু সেটাই শারীর শিক্ষার পুরো পরিচয় নয়।
৪)শুধুই পেশীবহুল শরীর গঠনঃব্যায়ামাগারে গিয়ে পেশীবহুল বা শক্তপোক্ত শরীর তৈরি করাই শারীর শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য-এই ধারণাও ভুল। এটি শরীরের ভেতরের সার্বিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতার ওপর বেশি জোর দেয়।
৫). কম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিষয়ঃ প্রচলিত ধারণা ছিল যারা পড়াশোনায় দুর্বল, তারা মাঠে খেলতে যায় বা শারীর শিক্ষা নিয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে শারীর শিক্ষার তত্ত্বীয় অংশে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি (Physiology), বায়োমেকানিক্স এবং স্পোর্টস সাইকোলজির মতো বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় গভীরভাবে পড়ানো হয়।
৬) সময়ের অপচয়ঃ অনেক অভিভাবক মনে করেন খেলার মাঠে বা ব্যায়ামে সময় দিলে মূল পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীর চর্চা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৭) স্বাস্থ্য শিক্ষাঃ স্বাস্থ্য শিক্ষার মধ্যে কেবলমাত্র দৈহিক স্বাস্থ্য শিক্ষাই নয়, এর সাথে আছে মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য। শারীরশিক্ষার মাধ্যমে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত হলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অভ্যাস ও নিয়মকানুন সম্পর্কে অবহিত হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষাও শারীরশিক্ষার একটি অংশ মাত্র।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,বর্তমানে বিজ্ঞান গবেষণালব্ধ ধারণা থেকে শারীরশিক্ষার পঠন-পাঠনের ও কার্যকলাপে নীতিগত কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।যেখানে মনোবিদ্যা, ক্রিয়া শারীরবিদ্যা,জীববলবিদ্যা, সমাজবিদ্যা,ক্রীড়া চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়গুলি থেকে নিঃসৃত সূত্রগুলিকে শারীরশিক্ষা শিক্ষণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে প্রচলিত ধ্যান ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।
Comments
Post a Comment