Skip to main content

 রাধাকৃষ্ণাণের মতে শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ উল্লেখ করো।




স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন — **বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন (১৯৪৮–৪৯)**-এর সভাপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর মতে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জন বা কিছু তথ্য মুখস্থ করা নয়; শিক্ষার প্রকৃত কাজ হলো মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো।

## ড. রাধাকৃষ্ণানের মতে শিক্ষার মূল লক্ষ্যসমূহ

### ১. আত্মিক ও নৈতিক বিকাশ (Spiritual and Moral Development)

রাধাকৃষ্ণান মনে করতেন, নীতিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক। শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের হৃদয়ের পরিশীলন ঘটিয়ে তার মধ্যে সত্য, দয়া, সততা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

### ২. গণতান্ত্রিক সুনাগরিক গঠন (Democratic Values and Citizenship)

স্বাধীন ভারতের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার একটি প্রধান কাজ হলো যোগ্য সুনাগরিক তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের মনে স্বাধীনতা, সমতা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা শিক্ষার লক্ষ্য।

### ৩. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও নবায়ন (Preservation and Renewal of Culture)

শিক্ষার কাজ কেবল অতীত সংস্কৃতিকে রক্ষা করা নয়, বরং আধুনিক যুগোপযোগী চিন্তার মাধ্যমে সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তোলা।

### ৪. বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সমৃদ্ধি (Scientific and Technical Skill)

তিনি কেবল ভাববাদী শিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন না। দেশের আর্থিক প্রগতি ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য বিজ্ঞান, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানোকে তিনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।

### ৫. বিশ্বমানবিকতা ও আন্তর্জাতিকতাবোধ (International Understanding)

তাঁর মতে, শিক্ষা মানুষকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ বা ভেদাভেদ থেকে মুক্ত করে। শিক্ষার লক্ষ্য হলো মানুষকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করা।

### ৬. সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ (Self-Realization)

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কিছু বিশেষ সম্ভাবনা বা প্রতিভা সুপ্ত থাকে। শিক্ষকের সাহায্যে সেই সুপ্ত প্রতিভাকে উন্মোচিত করে ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ আত্মবিকাশ ঘটানো শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য।

> **ড. রাধাকৃষ্ণানের একটি স্মরণীয় বক্তব্য:**

> *"Education to be complete must be humane, it must include quality and sense of values."*

> (শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ হতে হলে তাকে মানবিক হতে হবে এবং এতে গুণের বিকাশ ও মূল্যবোধের অনুভূতি থাকা আবশ্যিক।)


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...