১) বিদ্যালয় পত্রিকায় প্রথম তোমার লেখা মুদ্রিত হওয়ার অভিজ্ঞতা।
“আঁকর কাটা হরফগুলি যখন নিজের নাম বহন করে আনে, তখন মনে হয় যেন এক টুকরো আকাশ নিজের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।”
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমরা রিলস বা স্ক্রিনের দুনিয়ায় স্ক্রোল করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মেদহীন ছাপার হরফে নিজের নাম দেখার যে আদিম আর অমলিন আনন্দ, তার কোনো বিকল্প আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। আমার জীবনের অন্যতম সেই ম্যাজিক-মুহূর্তটি এসেছিল গত মাসে, যখন আমাদের বিদ্যালয়ের বার্ষিক পত্রিকা ‘অন্বেষণ’-এ আমার লেখা প্রথম কবিতাটি মুদ্রিত আকারে আমার হাতে এসে পৌঁছায়।
বাংলা ক্লাসের শিক্ষিকা( ) মহাশয়া যখন ঘোষণা করেছিলেন যে বার্ষিক পত্রিকার জন্য লেখা জমা নেওয়া হচ্ছে, তখনই মনের কোণে একটা সুপ্ত ইচ্ছা জেগে ওঠে। ডায়েরির পাতা থেকে কাটাকুটি করে একটা ছোট কবিতা লিখে প্রধান শিক্ষকের ঘরের ড্রপ-বক্সে ফেলে এসেছিলাম। তখন মনে ভয় আর সংশয় ছিল-এত এত বড় ক্লাসের দিদিমণি আর দিদিদের লেখার ভিড়ে আমার এই সাধারণ লেখাটি কি আদৌ স্থান পাবে?
পত্রিকা প্রকাশের দিন যখন আমাদের হাতে একটি করে নতুন কাগজের গন্ধ ছড়ানো বই তুলে দেওয়া হলো, উত্তেজনায় আমার হাত কাঁপছিল। সূচিপত্র খুলে যখন দেখলাম সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ঠিক পাশেই আমার নাম আর কবিতার শিরোনাম জ্বলজ্বল করছে, মুহূর্তের জন্য আমার চারপাশটা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। পাতাসংখ্যা উল্টে নিজের লেখাটি ছড়ার আকারে, সুন্দর ইলাস্ট্রেশন সহ ছাপা হতে দেখে বুকের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগার ঢেউ খেলে গেল।
টিফিনের সময় বন্ধুরা এসে পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানাল। ক্লাসের বাংলা দিদিমণি যখন সবার সামনে ডেকে বললেন, "তোমার লেখার ছন্দটা বেশ মিষ্টি হয়েছে, এভাবেই লিখে যাও", সেই প্রশংসা আমার জীবনের সেরা পুরস্কারের মতো মনে হয়েছিল। বাড়িতে বাবা-মা লেখাটি দেখে এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তখনই দাদু-ঠাকুমাকে ফোন করে খবরটা দিলেন।
প্রথম লেখা প্রকাশের এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি আনন্দের স্মৃতি নয়, এটি আমার আত্মবিশ্বাসকে এক লাফে অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিবোর্ডের যুগে টাইপ করা টেক্সটের চেয়ে এই মুদ্রিত কাগজের গন্ধ আর নিজের নাম খোদাই হওয়া পাতাটি আমার কাছে চিরকাল এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। এটিই হয়তো আমার ভবিষ্যতের কোনো বড় সাহিত্যিক সফরের প্রথম ছোট পদক্ষেপ।
২) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা
“আমরাই তো আগামী, আমাদেরই হাতে এই পৃথিবীর সবুজ ও নীলকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব।”
গ্লোবাল ওয়ার্মিং, প্লাস্টিক দূষণ আর অসময়ের খামখেয়ালি বৃষ্টি-আজ আমাদের চেনা পৃথিবী এক মহাসংকটের মুখোমুখি। বড়রা যখন শুধু সেমিনার আর দীর্ঘ আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ, তখন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৃত 'চেঞ্জমেকার' বা পরিবর্তনের দূত হয়ে উঠতে পারে ছাত্রছাত্রীরা। কারণ যুবশক্তির সদিচ্ছাই পারে মৃতপ্রায় প্রকৃতিকে আবার সতেজ করে তুলতে।
ছাত্রছাত্রীদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের শিক্ষাঙ্গনকে প্লাস্টিকমুক্ত করা। 'সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক' বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের জলের বোতল ও টিফিন বক্স বর্জন করে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করার অভ্যাস আমাদেরই তৈরি করতে হবে। পেন বা পেনসিলের মতো শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পর যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট রিসাইকেল বিনে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
"একটি গাছ, একটি প্রাণ"-এই স্লোগানকে শুধু পরীক্ষার খাতায় না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে পারে ছাত্ররা। নিজের জন্মদিন বা বিশেষ কোনো দিনে অন্তত একটি করে চারাগাছ রোপণ করা এবং তার পরিচর্যা করার দায়িত্ব আমাদের নেওয়া উচিত। বিদ্যালয়ের ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট ভেষজ বাগান বা ফুলের বাগান তৈরি করে আমরা পরিবেশকে অক্সিজেন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলতে পারি।
প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্পদ বাঁচানো অন্যতম প্রধান শর্ত। ক্লাস শেষে ঘরের পাখা ও আলো বন্ধ করা, স্কুলের জলের কল অকারণে খুলে না রাখা-এই ছোট ছোট অভ্যাস বিপুল পরিমাণ শক্তি ও জলের অপচয় রোধ করে। এছাড়া আধুনিক ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বা পোস্টার মেকিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা সমাজের কোণায় কোণায় পৌঁছে দিতে পারি।
আসলে পরিবেশ রক্ষা কোনো একদিনের আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, এটি একটি জীবনশৈলী। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় এই বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাওয়ার অঙ্গীকার আমাদেরই পূরণ করতে হবে। ছাত্রসমাজ যদি আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, তবেই আগামী পৃথিবী আবার দূষণমুক্ত, সবুজ এবং সুন্দর হয়ে উঠবে।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •
Comments
Post a Comment