অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন।।অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন মতে নির্গুণ ব্রহ্ম ও সগুণ ব্রহ্মের পার্থক্য লেখো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।
আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে শঙ্করাচার্য হলেন বিশুদ্ধ অদ্বৈতবাদের প্রধান প্রবর্তক। আর তিনি দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করেছেন,যার একটি হল ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গি আর অপরটি হল পারমার্থিক দৃষ্টিভঙ্গি।আসলে অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনে আচার্য শংকর পরম সত্তা হিসেবে ব্রহ্ম-কে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে-
সত্তা মূলত একটিই, কিন্তু দৃষ্টিকোণ বা বিচারপদ্ধতির পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ব্রহ্মের দুটি রূপ নির্দেশ করা হয়েছে: নির্গুণ ব্রহ্ম যাকে পরব্রহ্ম বলা হয় এবং সগুণ ব্রহ্ম যাকে অপরব্রহ্ম বা ঈশ্বর বলা হয়। আর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে তিনি নির্গুণ ব্রহ্ম ও সগুণ ব্রহ্মের পার্থক্য করেছেন। সেখানে আমরা দেখি-
১) মৌলিক স্বরূপগতভাবে নির্গুণ ব্রহ্ম হলেন উপাধিহীন, বিশুদ্ধ ও পরম সত্তা। ইনি কোনো প্রকার গুণ বা বৈশিষ্ট্যের দ্বারা সীমাবদ্ধ নন।কিন্তু -
•সগুণ ব্রহ্ম হলেন মায়া-উপাধিবিশিষ্ট বা মায়াসংযুক্ত ব্রহ্ম। ইনিই জগত সংসারের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা। |
২) সত্তার স্তর হিসেবে অদ্বৈত বেদান্তে নির্গুণ ব্রহ্মকে পারমার্থিক সত্য বলা হয়।কিন্তু-
•সগুণ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর হলেন ব্যবহারিক সত্য।
৩)রূপ ও গুণাবলী দিক থেকে তিনি বলেন ব্রহ্ম নিরাকার, নির্বিশেষ, অতীন্দ্রিয় এবং সর্বপ্রকার ত্রাবিধ ভেদ (স্বগত, স্বজাতীয়, বিজাতীয়) মুক্ত।কিন্তু-
•ব্রহ্ম সাকার বা সবিশেষ রূপ গ্রহণ করতে পারেন এবং সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের গুণ ধারণ করেন।
৪)মায়ার সঙ্গে সম্পর্ক বিচারে তিনি বলেন,ব্রহ্ম মায়ার অতীত বা মায়াতীত। যেখানে মায়া ব্রহ্মকে স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু -
•সগুণ ব্রহ্ম মায়ার অধিপতি। মায়ার মাধ্যমেই তিনি জগৎ সৃষ্টি করেন।
৫) উপলব্ধি বা সাধনার পথ নিরিখে নির্গুণ ব্রহ্মের জ্ঞান লাভের একমাত্র পথ হলো জ্ঞানমার্গ এবং উপনিষদের "নেতি নেতি" (এটি নয়, এটি নয়) বিচারধারা।কিন্তু -
•সগুণ ব্রহ্মের উপাসনার প্রধান পথ হলো **ভক্তিমার্গ**, ধ্যান ও উপাসনা। |
৬. মোক্ষ বা মুক্তি হয় নির্গুণ ব্রহ্মের জ্ঞান লাভ হলে। অতঃপর জীব পরম মুক্তি বা 'সদ্যোমুক্তি' (ব্রহ্মভাব) লাভ করে।কিন্তু -
•সগুণ ব্রহ্মের উপাসনার মাধ্যমে সাধক ক্রমমুক্তি (ব্রহ্মলোক প্রাপ্তি) লাভ করে।
অদ্বৈত বেদান্ত মতে নির্গুণ ব্রহ্মই একমাত্র পারমার্থিক সত্য। যখন পরম নির্গুণ ব্রহ্ম মায়ার দ্বারা আবৃত বা উপাধিসম্পন্ন বলে প্রতীয়মান হন, তখনই তাঁকে আমরা সগুণ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর বলি।আসলে-
নির্গুণ ব্রহ্মকে কেবল "সচ্চিদানন্দ" (সৎ, চিত ও আনন্দ) স্বরূপ হিসেবে বর্ণনা করা যায়, যেখানে সগুণ ব্রহ্ম হলেন নিখিল জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা।তবে-
শংকরের মতে নির্গুণ ব্রহ্ম ও সগুণ ব্রহ্ম বস্তুত ভিন্ন দুটি সত্তা নয়; একই পরম সত্তা পারমার্থিক দৃষ্টিতে নির্গুণ ব্রহ্ম এবং মায়ার মধ্য দিয়ে ব্যবহারিক দৃষ্টিতে সগুণ ব্রহ্ম।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •
Comments
Post a Comment