Skip to main content

ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।ইউরোপীয় ইতিহাস।

ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।ইউরোপীয় ইতিহাস

১. বিসমার্কের রক্ত ও লৌহ নীতি এবং জার্মানির একত্রীকরণ

'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy)।১৮৬২ সালে প্রুশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অটো ফন বিসমার্ক উপলব্ধি করেছিলেন যে, কেবল বক্তৃতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাব দিয়ে জার্মানির একত্রীকরণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামরিক শক্তি ও কঠোর সিদ্ধান্ত। ১৮৬২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রুশিয়ান পার্লামেন্টের বাজেট কমিটির সামনে তিনি তাঁর বিখ্যাত ঘোষণাটি দেন-

"আমাদের যুগের মহান সমস্যাগুলো বিতর্ক বা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাবের মাধ্যমে সমাধান হবে না... বরং তা সমাধান করতে হবে রক্ত ও লৌহ (Blut und Eisen) দিয়ে।"

       এখানে 'লৌহ' বলতে সামরিক শক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র এবং 'রক্ত'বলতে যুদ্ধ ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে বোঝানো হয়েছে। বিসমার্ক গণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে সম্পূর্ণ রাজতান্ত্রিক ও সামরিক শক্তির জোরে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে নীতি গ্রহণ করেন, তাই 'রক্ত ও লৌহ নীতি' নামে পরিচিত।

 এই নীতি যেভাবে জার্মানির একত্রীকরণে সাহায্য করেছিল?

বিসমার্কের এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রুশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয় এবং তিনটি সুপরিকল্পিত যুদ্ধের মাধ্যমে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়। আর সেখানে-

 ১. ডেনমার্কের সাথে যুদ্ধ (১৮৬৪)।শ্লেসউইগ (Schleswig) ও হোলস্টাইন (Holstein) নামক দুটি জার্মান-অধ্যুষিত ডাচি উদ্ধার করার জন্য বিসমার্ক অস্ট্রিয়াকে সাথে নিয়ে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং জয়ী হন। গ্যাস্টিনের চুক্তি অনুযায়ী শ্লেসউইগ পায় প্রুশিয়া এবং হোলস্টাইন পায় অস্ট্রিয়া।

 ২. অস্ট্রো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ বা স্যাডোয়ার যুদ্ধ (১৮৬৬)। অস্ট্রিয়াকে জার্মান ইউনিয়ন থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বিসমার্ক কূটনীতির মাধ্যমে তাকে বন্ধুহীন করেন। এরপর হোলস্টাইন নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে অস্ট্রিয়াকে আক্রমণ করেন। মাত্র ৭ সপ্তাহের এই যুদ্ধে অস্ট্রিয়া পরাজিত হয়। এর ফলে উত্তর জার্মান কনফেডারেশন গঠিত হয় এবং অস্ট্রিয়া জার্মানি থেকে চিরতরে বহিষ্কৃত হয়।

 ৩. ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ বা সেডানের যুদ্ধ (১৮৭০-৭১)। দক্ষিণ জার্মানির রাজ্যগুলোকে একত্রিত করতে ফ্রান্সকে পরাজিত করা আবশ্যক ছিল। বিসমার্ক 'এমস টেলিগ্রাফ' (Ems Telegram) নামক একটি ঘটনাকে বিকৃত করে ফরাসিদের উস্কে দেন, যার ফলে ফ্রান্স প্রুশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৮৭০ সালের সেডানের যুদ্ধে ফ্রান্সের সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও বন্দি হন।

       চূড়ান্ত পরিণতি।এই বিজয়ের পর, ১৮৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদের 'হল অব মিররস'-এ প্রুশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়ামকে সমগ্র জার্মানির সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এভাবেই বিসমার্কের রক্ত ও লৌহ নীতির হাত ধরে একটি শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ জার্মান সাম্রাজ্যের জন্ম হয়।

 ২. ১৮১৫ সালের ভিয়েনা সম্মেলন: মূলনীতি, উদ্দেশ্য ও সাফল্য

       ১৮১৪-১৫ সালে নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপের মানচিত্রের পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মূল উদ্দেশ্যসমূহ-

       •ইউরোপের পুনর্গঠনঃনেপোলিয়নীয় যুদ্ধের ফলে ইউরোপের সীমানার যে ব্যাপক ওলটপালট হয়েছিল, তা পুনর্নির্ধারণ করা।

       শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষাঃভবিষ্যতে যাতে ফ্রান্স বা অন্য কোনো দেশ এককভাবে ইউরোপের শান্তি নষ্ট করতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা।

      বিপ্লবী ভাবধারার অবদমনঃ ফরাসি বিপ্লবের ফলে ছড়িয়ে পড়া জাতীয়তাবাদ ও উদারতাবাদের বিস্তার রোধ করে পুরাতন রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

 ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান তিনটি মূলনীতি:

১. বৈধ অধিকার নীতি।ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়নের কারণে যেসব রাজবংশ ক্ষমতা হারিয়েছিল, তাদের পুনরায় সিংহাসনে ফিরিয়ে দেওয়া। যেমন—ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজবংশকে পুনরায় ক্ষমতায় আনা হয়। 

২. ক্ষতিপূরণ নীতি।নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের জমি বা এলাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা।

৩. শক্তিসাম্য নীতিঃ ইউরোপের কোনো একটি রাষ্ট্র যাতে বাকিদের চেয়ে অতিরিক্ত শক্তিশালী না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করা। ফ্রান্সের চারপাশে শক্তিশালী সীমানা প্রাচীর বা বাফার স্টেট (Buffer States) তৈরি করা হয় যাতে তারা ভবিষ্যতে আক্রমণ করতে না পারে। |


ইউরোপ পুনর্গঠনে এই নীতি কতটা সফল হয়েছিল?

ভিয়েনা সম্মেলনের সাফল্যকে দুটি দিক থেকে বিচার করা যায়-

•সাফল্যের দিক•

       •দীর্ঘস্থায়ী শান্তিঃ এই সম্মেলন ইউরোপে প্রায় ৪০ বছর (ক্রিমিয়ার যুদ্ধ পর্যন্ত) কোনো বড় যুদ্ধ হতে দেয়নি এবং প্রায় ১০০ বছর (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত) বড় কোনো সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে সাহায্য করেছিল।

       •কূটনৈতিক সহযোগিতাঃ ইউরোপীয় কনসার্ট (Concert of Europe) বা যৌথ ব্যবস্থার সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীকালে জাতিসংঘ বা লিগ অব নেশনস-এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের পথ তৈরি করে।

•ব্যর্থতার দিক•

        •ভিয়েনা সম্মেলনের নেতারা উদীয়মান জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন। তাঁরা কৃত্রিমভাবে মানচিত্র ভাগ করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে বেলজিয়াম, ইতালি ও জার্মানির বিপ্লব ও আন্দোলনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘোরানোর এই চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হয়েছিল।

 ৩. মেটারনিক ব্যবস্থা (Metternich System) কী?

      অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর প্রিন্স ক্লিমেন্স ফন মেটারনিক (Klemens von Metternich) ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গৃহীত রক্ষণশীল নীতিই **'মেটারনিক ব্যবস্থা'** নামে পরিচিত।

     •মূল কথাঃ ফরাসি বিপ্লবপ্রসূত উদারতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করে ইউরোপে প্রাক-বিপ্লব যুগের (১৮৭৯ পূর্ববর্তী) চরমপন্থী রাজতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

    • মেটারনিক ব্যবস্থার মূল হাতিয়ারসমূহ:

      •কঠোর সেন্সরশিপঃসংবাদপত্র, বইপত্র ও নাটকের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হতো যাতে বিপ্লবী ধারণার প্রচার না ঘটে।

       •গুপ্তচর বাহিনীঃরাজনৈতিক আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নজর রাখতে বিশাল গুপ্তচর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।

       •কার্লসবাড ডিক্রি (১৮১৯)।এই ডিক্রির মাধ্যমে জার্মান ছাত্র সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া হয়।

      •হস্তক্ষেপের নীতিঃইউরোপের যেকোনো দেশে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দিলে সামরিক শক্তি দিয়ে তা দমন করা হতো।

    •পতনঃ ১৮৪৮ সালের 'ফেব্রুয়ারি বিপ্লব'-এর ধাক্কায় মেটারনিক ব্যবস্থার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অস্ট্রিয়ার জনগণ মেটারনিকের প্রাসাদের সামনে বিদ্রোহ করলে তিনি ছদ্মবেশে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান এবং এই ব্যবস্থার অবসান ঘটে।

৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ (১৯৩৯-১৯৪৫)

     দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের পেছনে মূলত ভার্সাই চুক্তির ত্রুটি এবং একনায়কতন্ত্রের উত্থান দায়ী ছিল। কারণগুলো নিচে বিশদে আলোচনা করা হলো:

      ১. ভার্সাই চুক্তির অপমান ও ত্রুটি (১৯১৯)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর অত্যন্ত অপমানজনক ভার্সাই চুক্তি চাপিয়ে দেয়। জার্মানির বিশাল ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয়, তার ওপর বিশাল যুদ্ধক্ষতিপূরণ চাপানো হয় এবং সামরিক শক্তি পঙ্গু করে দেওয়া হয়। এই চুক্তি জার্মানদের মনে তীব্র প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, যা হিটলার কাজে লাগান।

 ২. ফ্যাসিবাদের উত্থান (ইতালি ও জার্মানি)।ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি (১৯২২) এবং জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের (১৯৩৩) নেতৃত্বে চরম উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সামরিক একনায়কতন্ত্রের উত্থান ঘটে। তাঁরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ বেছে নেন।

      ৩. তোষণ নীতি (Appeasement Policy)। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৎকালীন নেতারা (বিশেষ করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইন) যুদ্ধ এড়ানোর জন্য হিটলারের একটার পর একটা অন্যায় আবদার মেনে নেন। হিটলার যখন অস্ট্রিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া দখল করেন, তখনও তাঁরা কঠোর পদক্ষেপ নেননি। এই তোষণ নীতি হিটলারের দুঃসাহস আরও বাড়িয়ে দেয়।

     ৪. লিগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য 'লিগ অব নেশনস' গঠিত হলেও এটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। শক্তিশালী দেশগুলোর আগ্রাসন (যেমন—জাপানের মাঞ্চুরিয়া দখল, ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ) থামাতে এটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

 ৫. অক্ষচুক্তি গঠন (Rome-Berlin-Tokyo Axis)। বিশ্ব আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জার্মানি, ইতালি এবং জাপান একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গড়ে তোলে, যা বিশ্বকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

   ৬. প্রত্যক্ষ কারণ - পোল্যান্ড আক্রমণঃহিটলার পোল্যান্ডের কাছে 'ডানজিগ বন্দর' দাবি করেন। পোল্যান্ড তা প্রত্যাখ্যান করলে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর জবাবে ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

 ৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ (১৯১৪-১৯১৮)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হঠাৎ করে শুরু হওয়া কোনো ঘটনা ছিল না, বরং দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। এর প্রধান কারণগুলোকে সংক্ষেপে **M-A-I-N সূত্র দিয়ে মনে রাখা যায়-

 ১. সামরিকবাদ (M - Militarism)। ইউরোপের পরাশক্তিগুলো (বিশেষ করে জার্মানি ও ব্রিটেন) নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য এক বিশাল অস্ত্র প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। প্রত্যেকেই তাদের সৈন্য সংখ্যা এবং নৌবহর বাড়াতে থাকে, যা যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করে।

 ২. গুপ্ত সামরিক জোট (A - Alliances)। ইউরোপীয় দেশগুলো গোপনে একে অপরের সাথে সামরিক জোটে আবদ্ধ হয়েছিল। এর ফলে দুটি প্রধান শিবির তৈরি হয়:

   ত্রিপাক্ষিক চুক্তি (Triple Entente)। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া।

   ত্রিপাক্ষিক শক্তি জোট (Triple Alliance)। জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং ইতালি।

     এই জোটগুলোর কারণে যেকোনো দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাকি দেশগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

 ৩. সাম্রাজ্যবাদঃ এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের জন্য ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। জার্মানি দেরিতে শিল্পোন্নত হওয়ায় তারা উপনিবেশ বিস্তারে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।

 ৪. উগ্র জাতীয়তাবাদ (N - Nationalism)।বলকান অঞ্চলে স্লাভ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। সার্বিয়া চেয়েছিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা স্লাভ অঞ্চলগুলোকে মুক্ত করে একটি 'বৃহৎ সার্বিয়া' গঠন করতে। অন্যদিকে জার্মানির প্যান-জার্মানবাদ এবং রাশিয়ার প্যান-স্লাভবাদ উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

 ৫. প্রত্যক্ষ কারণ - সারায়েভো হত্যাকাণ্ড (Serajevo Assassination)।১৯১৪ সালের ২৮ জুন** অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফি বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে এক সার্বীয় আততায়ী (গাভরিলো প্রিন্সিপ) কর্তৃক নিহত হন। অস্ট্রিয়া এর জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে চরমপত্র দেয়। সার্বিয়া তা পুরোপুরি মানতে অস্বীকার করলে, ২৮ জুলাই ১৯১৪ অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর সাথে সাথেই জোট ব্যবস্থার কারণে রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন একে একে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...