Skip to main content

উদাহরণসহ মিশ্র কলাবৃত্ত বা দলবৃত্ত ছন্দের সংজ্ঞা ও স্বরূপ আলোচনা করো।

উদাহরণসহ মিশ্র কলাবৃত্ত বা দলবৃত্ত ছন্দের সংজ্ঞা ও স্বরূপ আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার, বাংলা মেজর।

    •মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দঃযে ছন্দে মূল পর্ব সাধারণত ৮ বা ১০ মাত্রার হয় এবং রুদ্ধদলের অবস্থানভেদে মাত্রাসংখ্যা পরিবর্তিত হয় (অর্থাৎ আদিতে বা মাঝে থাকলে ১ মাত্রা, কিন্তু শেষে বা এককভাবে থাকলে ২ মাত্রা হয়), তাকে মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দ বলে।

      ছান্দসিক প্রবোধচন্দ্র সেন একে ‘মিশ্র কলাবৃত্ত’, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘অক্ষরবৃত্ত’ বা ‘সাধু ছন্দ’ এবং অন্য অনেকে একে ‘যৌগিক ছন্দ’ বা ‘তানপ্রধান ছন্দ’ নামে অভিহিত করেছেন।

        •মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য•

  মুক্তদলঃ শব্দের যেকোনো স্থানে বসুক না কেন, তা সর্বদা ১ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।

   •রুদ্ধদলঃশব্দের আদিতে বা মাঝে বসলে১ মাত্রা, কিন্তু শব্দের শেষে বা এককভাবে বসলে ২ মাত্রা হিসেবে গণ্য হয়।

   •ধীর ও প্রবহমান লয় (তানপ্রধান চাল):দলবৃত্ত ছন্দের মতো এর পাঠরীতি দ্রুত বা চপল নয়। এতে একটি গম্ভীর তান বা টান থাকে, তাই একে তানপ্রধান ছন্দ বলা হয়।

    •পর্বের দীর্ঘতা: এই ছন্দের মূল পর্ব সাধারণত ৮ বা ১০ মাত্রার হয়ে থাকে। সঙ্গে একটি অপূর্ণ পর্ব (সাধারণত ২, ৪ বা ৬ মাত্রার) যুক্ত থাকে।

     •যুক্তবর্ণ ও গাম্ভীর্য: এই ছন্দে বিস্তৃত শব্দ, সংস্কৃত/তৎসম শব্দ এবং যুক্তবর্ণের ব্যবহার সহজে খাপ খায়। এটি মহাকাব্য বা গম্ভীর কাব্য রচনার উপযোগী।

     •রূপভেদ:প্রাচীন পয়ার (৮+৬ = ১৪ মাত্রা) এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ মূলত এই মিশ্র কলাবৃত্ত ছন্দেরই বিভিন্ন রূপ।

উদাহরণসহ মাত্রাগণনা ও বিশ্লেষণ

মহাভারতের কথা অমৃত সমান।/কাশীরাম দাস কহে শোনে পুণ্যবান।।

     •প্রথম চরণের মাত্রাগণনা ও বিশ্লেষণ: পর্ব ১ (পূর্ণ পর্ব = ৮ মাত্রা), পর্ব ২ (অপূর্ণ পর্ব = ৬ মাত্রা)।

          ম-হা-ভা-র-তে-র|ক-থা

| ম (মুক্ত = ১) + হা (মুক্ত = ১) + ভা (মুক্ত = ১) + র (মুক্ত = ১) + তে (মুক্ত = ১) + র্ (রুদ্ধদল শেষে = ২)| ক (মুক্ত = ১) + থা (মুক্ত = ১) |

      মোট = ৮ মাত্রা/মোট = ২ মাত্রা।

দ্বিতীয়াংশ: অ-মৃ-ত(১+১+১ = ৩ মাত্রা) + স-মা-ন্(১+১+২, রুদ্ধদল শেষে) = ৪ মাত্রা।

   রুদ্ধদলের অবস্থানের প্রভাব (সংক্ষিপ্ত উদাহরণ): 'কমল' (ক-ম-ল্) 'ম ল্' রুদ্ধদলটি শেষে থাকায় মাত্রা হবে: ১ + ১ + ২= ৪ মাত্রা।

 'কমলদিঘি'(ক-মল্-দি-ঘি)- 'মল্' রুদ্ধদলটি শব্দের মাঝে থাকায় মাত্রা হবে: ১ + ১ + ১ + ১ = ৪ মাত্রা।

      অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে, শব্দে রুদ্ধদলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মাত্রাসংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে—যা মিশ্র কলাবৃত্তের প্রধান স্বরূপ।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...