‘বলাই’ গল্পের মূল বিষয়বস্তু হলো প্রকৃতিপ্রেমী এক অবুঝ বালকের সাথে প্রকৃতির নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক এবং মানুষের নির্মম বাস্তবতাবোধের কারণে সৃষ্ট তার করুণ পরিণতি। একদম সংক্ষেপে গল্পটি নিচে তুলে ধরা হলো:
* **বলাইয়ের প্রকৃতিপ্রেম:** গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাতৃহীন বালক বলাই। সাধারণ মানুষের মতো সে প্রকৃতিকে উপযোগিতার চোখে দেখত না। ঘাস, লতা-পাতা, গাছপালার সুখ-দুঃখ সে নিজের মন দিয়ে অনুভব করত।
* **শিমুল গাছের বন্ধুত্ব:** একদিন বাগানের রাস্তার মাঝে একটি শিমুল গাছ গজিয়ে ওঠে। বলাইয়ের কাকাবাবু গাছটিকে "অনাবশ্যক" মনে করে কেটে ফেলতে চাইলে বলাই তার কাকীমার কাছে কেঁদে পড়ে। বলাইয়ের টানে কাকীমা গাছটিকে কাটতে দেন না। গাছটি দিনে দিনে বলাইয়ের পরম বন্ধু হয়ে ওঠে।
* **বিচ্ছেদ ও করুণ পরিণতি:** পরবর্তীতে বলাইকে পড়াশোনার জন্য বিলাতে (লন্ডনে) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বলাই চলে যাওয়ার পর, কাকাবাবু তাঁর চিরন্তন বাস্তববাদী মানসিকতার কারণে শিমুল গাছটি কেটে ফেলেন।
* **আর্তির সমাপ্তি:** বিলাত থেকে বলাই চিঠি লিখে তার প্রিয় শিমুল গাছটির একটি ছবি তুলে পাঠাতে বলে। তখন কাকীমা জানতে পারেন যে গাছটি আর নেই।
কাকীমার কাছে শিমুল গাছটি ছিল বলাইয়েরই প্রতিরূপ। গাছটি কেটে ফেলার মাধ্যমে বলাইয়ের স্মৃতিকে চিরতরে ধ্বংস করা হলো—এই তীব্র শোকে কাকীমা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েন, যা গল্পের এক করুণ অন্তিম পরিণতি ডেকে আনে।
Comments
Post a Comment