Skip to main content

 মাইকেল মধুসূদন দত্তের **'অভিষেক'** কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য **'মেঘনাদবধ কাব্য'**-এর প্রথম সর্গ ('অভিষেক') থেকে সংকলিত হয়েছে। দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে ও সহজভাবে আলোচনা করা হলো:

## ১. লঙ্কা যুদ্ধ ও মেঘনাদের সংবাদ প্রাপ্তি

রামচন্দ্রের সাথে যুদ্ধে লঙ্কাপুরী তখন বিপর্যস্ত। যুদ্ধে রাবণের বীরপুত্র বীরবাহু নিহত হয়েছেন। কিন্তু এই ভয়াবহ সংবাদ প্রমোদ উদ্যানে (প্রমোদবনে) বিলাসিতায় মগ্ন মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) জানতেন না।

## ২. ছদ্মবেশী দেবী লক্ষ্মীর আগমন

মেঘনাদকে যুদ্ধের খবর দেওয়ার জন্য দেবী লক্ষ্মী মেঘনাদের ধাত্রী মাতা **প্রমীলা/প্রভাতার** ছদ্মবেশে প্রমোদ উদ্যানে উপস্থিত হন। তিনি মেঘনাদকে বীরবাহুর মৃত্যু এবং রাবণের পুনরায় যুদ্ধযাত্রার আয়োজনের খবর জানান।

## ৩. মেঘনাদের আত্মগ্লানি ও ক্রোধ

প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যু এবং লঙ্কাপুরীর এই বিপদের কথা শুনে মেঘনাদ অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্রুদ্ধ হন। লঙ্কা যখন শত্রুবেষ্টিত, তখন তিনি প্রমোদবনে নারীসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—এই ভেবে তিনি নিজেকে ধিক্কার দেন। তিনি মুহূর্তের মধ্যে তাঁর ভূষণ ও ফুলমালা খুলে ফেলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।

## ৪. প্রমীলার বিদায় সংবর্ধনা

যুদ্ধে যাত্রার পূর্বে মেঘনাদের স্ত্রী **প্রমীলা** অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে স্বামী মেঘনাদের পথ রোধ করেন। মেঘনাদ প্রমীলাকে সান্ত্বনা দিয়ে বোঝান যে তিনি শীঘ্রই রামচন্দ্রকে পরাজিত করে ফিরে আসবেন।

## ৫. রাবণের কাছে আগমন ও সেনাপতি পদে অভিষেক

মেঘনাদ দ্রুতার গতিতে রথে চড়ে লঙ্কাপুরীতে পৌঁছান। সেখানে পিতা রাবণকে প্রণাম জানিয়ে তিনি যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চান। রাবণ প্রথমে প্রিয় পুত্রকে যুদ্ধে পাঠাতে অনিচ্ছুক হলেও মেঘনাদের দৃঢ়তা দেখে সম্মতি দেন।

যেহেতু সূর্যাস্তের পর যুদ্ধ করার নিয়ম নেই, তাই রাবণ মেঘনাদকে পরদিন প্রাতে (সকালে) যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তার আগে, শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পিতা রাবণ মেঘনাদকে **রাক্ষস সেনাদলের সেনাপতি** পদে 'অভিষেক' (অভিষিক্ত) করেন।

> **মূল ভাব:** 'অভিষেক' কবিতাটিতে মেঘনাদের তীব্র দেশপ্রেম, ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার আকুলতা, বীরত্ব এবং পিতা ও জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর কর্তব্যের পরিচয় ফুটে উঠেছে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...