Skip to main content

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো।

সমস্যামূলক আচরণ বলতে কি বোঝায়?শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকদের ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।

      •সমস্যামূলক আচরণঃ শিক্ষার্থীর বা শিশুর যে সমস্ত আচরণ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের পরিপন্থী এবং যা তার নিজের এবং আশেপাশের অন্য সবার স্বাভাবিক বিকাশ বা শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে সমস্যামূলক আচরণ বলা হয়। আরোও সহজ কথায়, 

      সমস্যা মূলক আচরণ এমন এক ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ যা সাধারণ নিয়মকানুন ভেঙে ফেলে এবং ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট করে।উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি-অতিরিক্ত রাগ বা হিংস্রতা, ক্লাসে মনোযোগ না দেওয়া, অবাধ্যতা, স্কুল পালানো, মিথ্যা বলা, চুরি করা, ক্লাসের মাঝপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা অতিরিক্ত গুটিয়ে থাকা (উদাসীনতা)।

শিক্ষার্থীর সমস্যামূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকের ভূমিকা-

         শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে একজন শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা কেবল কঠোর প্রশাসক নন, বরং একজন পথপ্রদর্শক, বন্ধু এবং ফিলোসফার হিসেবে নিচে উল্লিখিত ভূমিকাগুলো পালন করতে পারেন। যেখানে-

       ১)  আচরণের মূল কারণ অনুসন্ধান করাঃএকটি শিশু জন্ম থেকেই সমস্যামূলক আচরণ নিয়ে বড় হয় না। এর পেছনে পারিবারিক অশান্তি, অবহেলা, শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা, কিংবা হীনম্মন্যতা থাকতে পারে। শিক্ষককে সবার আগে সহানুভূতিশীল হয়ে এই আচরণের পেছনের আসল কারণটি খুঁজে বের করতে হবে।

       ২) বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ভয়ের পাত্র না হয়ে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু হতে পারেন, তবে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের দ্বিধা ও সমস্যাগুলো শিক্ষকের সাথে শেয়ার করার সাহস পায়। ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে শান্ত করা গেলেও মনের ক্ষোভ দূর করা যায় না; ভালোবাসা ও ধৈর্যই এখানে মূল চাবিকাঠি।

       ৩) আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক পাঠদানঃ অনেক সময় ক্লাসের পাঠদান একঘেয়ে বা কঠিন লাগলে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারিয়ে দুষ্টুমি বা বিশৃঙ্খলা শুরু করে। শিক্ষক যদি বিভিন্ন খেলাধুলা, গল্প বা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠকে আকর্ষণীয় করে তোলেন, তবে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্লাসে ব্যস্ত থাকবে এবং সমস্যামূলক আচরণের সুযোগ কমে যাবে।

       ৪) শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক অনুপ্রেরণাঃ ভুল বা নেতিবাচক আচরণের জন্য শারীরিক বা মানসিক শাস্তি দিলে শিক্ষার্থীর মনে ক্ষোভ ও জেদ আরও বেড়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীর যেকোনো ছোট ভালো কাজের প্রশংসা করা বা ক্লাসের সামনে তাকে পুরস্কৃত করলে সে ভালো আচরণ করতে উৎসাহিত হবে।

​      ৫) সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যকলাপে যুক্ত করাঃ অতিরিক্ত চঞ্চল বা উগ্র স্বভাবের শিক্ষার্থীদের শক্তিকে ইতিবাচক দিকে চালিত করতে খেলাধুলা, নাটক, বিতর্ক, ছবি আঁকা বা স্কাউটের মতো সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যকলাপে যুক্ত করা উচিত। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়।

       ৬)অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ ও সহযোগিতাঃ শিক্ষার্থীর আচরণগত পরিবর্তনের জন্য বিদ্যালয় ও পরিবার-উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষক নিয়মিত অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, শিক্ষার্থীর আচরণগত পরিবর্তন বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ঘরেও যেন তার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে, সেই পরামর্শ দেবেন।

     ৭)ব্যক্তিগত পরামর্শদান বা কাউন্সেলিংঃ গুরুতর সমস্যামূলক আচরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে একান্তে ডেকে নিয়ে বুঝিয়ে বলতে পারেন। যদি সমস্যাটি গভীর হয়, তবে পেশাদার চাইল্ড কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়ার জন্য অভিভাবককে সুপারিশ করতে পারেন।আসলে মূল কথা হলো-

         শাসন বা শাস্তি সমস্যামূলক আচরণের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ধৈর্য, ভালোবাসা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষকের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে একজন সমস্যামূলক শিক্ষার্থীকে একজন আদর্শ ও স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •





Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...