Skip to main content

শারীর শিক্ষার আধুনিক ধারণা।

শারীর শিক্ষার আধুনিক ধারণা (Modern Concept)পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ১ম সেমিস্টার শারীর শিক্ষা (Physical Education Minor - Unit 1)

        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,প্রাচীনকালে শারীর শিক্ষাকে কেবল পিটি (PT), কুচকাওয়াজ, ড্রিল বা শুধুমাত্র শারীরিক কসরত হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শারীর শিক্ষার ধারণায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।আসলেআধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী,-

"শারীর শিক্ষা হলো সাধারণ শিক্ষারই একটি অপরিহার্য অঙ্গ, যা সুনির্দিষ্ট শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও প্রাক্ষোভিক সার্বিক বিকাশ ঘটায়।"

       •শারীর শিক্ষার আধুনিক ধারণার মূল বৈশিষ্ট্য•

 ১)সর্বাঙ্গীন বিকাশ।আধুনিক শারীর শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য কেবল শারীরিক শক্তিবৃদ্ধি নয়, বরং এটি মানুষের ব্যক্তিত্বের চারটি প্রধান দিকের সুষম বিকাশ ঘটায়:

       •শারীরিক বিকাশঃ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশীর সহনশীলতা গড়ে তোলা।

      •মানসিক বিকাশঃ খেলাধুলো ও শারীরচর্চার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, একাগ্রতা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ।

        •সামাজিক বিকাশঃ দলগত খেলার মাধ্যমে সামাজিক মেলবন্ধন, সহমর্মিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষালাভ।

       প্রাক্ষোভিক বিকাশঃআবেগ বা প্রক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা—যেমন জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া, রাগ ও হতাশা নিয়ন্ত্রণ করা।

২) বিজ্ঞানভিত্তিক শাখা।আধুনিক শারীর শিক্ষা কোনো আনুমানিক বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান নির্ভর। এতে একাধিক বৈজ্ঞানিক শাখার প্রয়োগ ঘটে, যেমন-শারীরস্থান ও শারীরবিদ্যা, মানবদেহের গঠন ও কার্যপ্রণালী বোঝার জন্য।

     •বায়োমেকানিক্স ও কাইনেসিওলজি (Biomechanics & Kinesiology) হিসাবে পেশী ও অঙ্গ সঞ্চালনের সঠিক বৈজ্ঞানিক নিয়ম জানার জন্য।

      •ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান (Sports Psychology)হিসাবে অ্যাথলেটদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য।

       •ক্রীড়া পুষ্টিবিজ্ঞান (Sports Nutrition) হিসাবে খাদ্যের সঠিক উপাদানের মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।

  ৩)জীবনব্যাপী সুস্থতা (Lifelong Wellness)।আধুনিক শারীর শিক্ষার পরিধি কেবল স্কুল বা কলেজের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষকে সারাজীবন সুস্থ থাকার পথ দেখায়। অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে আধুনিক সমাজে দেখা দেওয়া নানাবিধ রোগ—যেমন স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ প্রতিরোধে জীবনব্যাপী শারীরচর্চার বার্তা দেয় আধুনিক শারীর শিক্ষা।

৪)মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপ নিয়ন্ত্রণ (Mental Health & Stress Management)।আধুনিক শারীর শিক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত শারীরিক শারীরিক ক্রিয়াকলাপ মস্তিষ্কে *এন্ডোরফিন* হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা দূর করে মনকে সতেজ রাখে।

৫)চরিত্র গঠন ও নেতৃত্ব (Leadership & Character Building)।মাঠের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে। আধুনিক শারীর শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী, দায়িত্ববোধ, আনুগত্য এবং সার্বিকভাবে 'স্পোর্টসম্যানশিপ' বা ক্রীড়াসুলভ মনোভাব গড়ে ওঠে।

     ৬) বিনোদন ও শারীরিক দক্ষতা অর্জন (Recreation & Motor Skill)।আধুনিক শারীর শিক্ষা একদিকে যেমন অবসাদ দূর করে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে এটি গতি, চপলতা (Agility), ভারসাম্য (Balance) এবং সমন্বয়সাধনের (Coordination) মতো মৌলিক শারীরিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

         •প্রাচীন ও আধুনিক ধারণার পার্থক্য•

      ১)শারীরশিক্ষার প্রাচীন ধারণা অনুসারে বিষয়ের ক্ষেত্র হলো- প্রাচীন বা সংকীর্ণ ধারণা।কিন্তু-

       •আধুনিক শারীরশিক্ষার অনুসারে এর আধুনিক বা ব্যাপক ধারণা |

      ২) শারীরশিক্ষার প্রাচীন ধারণা অনুসারে এর মূল পরিচয় হলো কেবল পিটি, ড্রিল বা শারীরিক কসরত করা। কিন্তু-

    আধুনিক শারীরশিক্ষার অনুসারে এর শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সর্বাঙ্গীন বিকাশ হওয়া সম্ভব।

    ৩) শারীরশিক্ষার প্রাচীন ধারণা অনুসারে এর পরিধি খেলার মাঠ বা শারীরিক গঠন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কিন্তু-

    আধুনিক শারীরশিক্ষার অনুসারে এর পরিধি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও বিজ্ঞানের সমন্বয়।

     ৪) শারীরশিক্ষার প্রাচীন ধারণা অনুসারে কেবল শক্তি প্রদর্শন বা খেলায় জয়লাভ করা লক্ষ্য । কিন্তু-

         •সমগ্র জীবনের জন্য স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিত্ব গঠন করা হলো আধুনিক শারীরশিক্ষার লক্ষ্য।

    পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, আধুনিক শারীর শিক্ষা কোনো বিচ্ছিন্ন শারীরিক অভ্যাস নয়; বরং এটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে একজন মানুষকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক দিক থেকে সুস্থ, সক্ষম এবং সমাজ উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...