Skip to main content

 

প্রথাগত শিক্ষা (Formal) ও প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষার (Non-Formal Education) মধ্যে ৫টি প্রধান পার্থক্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের **Education Minor** পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই ৫ নম্বরের বা ১০ নম্বরের প্রশ্নের অংশ হিসেবে আসে।

নিচে প্রথাগত শিক্ষা (Formal Education) এবং প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষার (Non-Formal Education) মধ্যে ৫টি প্রধান পার্থক্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

## প্রথাগত ও প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষার ৫টি প্রধান পার্থক্য


| পার্থক্যের বিষয় | প্রথাগত শিক্ষা (Formal Education) | প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা (Non-Formal Education) |

| :--- | :--- | :--- |

| **১. গঠন ও নিয়মকানুন (Structure & Rules)** | এই শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর, সুনির্দিষ্ট এবং সুসংগঠিত নিয়মনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভর্তি, উপস্থিতি ও ক্লাসের সময়সূচির কড়াকড়ি থাকে। | এটি একটি নমনীয় (Flexible) শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের সুবিধা অনুযায়ী পাঠদান ও শেখার সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়। |

| **২. সময়সীমা ও বয়স (Age Limit & Duration)** | নির্দিষ্ট বয়সে (যেমন: ৫-৬ বছর বয়সে) এই শিক্ষা শুরু হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (যেমন: ১০ বা ১২ বছর) মধ্যে শেষ করতে হয়। | এতে অংশগ্রহণের জন্য বয়সের কোনো কঠোর বাধ্যবাধকতা থাকে না। যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থী যেকোনো সময় এই শিক্ষায় যুক্ত হতে পারে। |

| **৩. স্থান ও পরিকাঠামো (Institutional Setup)** | চার দেয়ালের নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো অর্থাৎ বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এই শিক্ষা দেওয়া হয়। | নির্দিষ্ট কোনো স্কুল বা কলেজের প্রয়োজন হয় না। দূরশিক্ষণ (Distance Learning), মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, নৈশ বিদ্যালয় বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই শিক্ষা পরিচালিত হয়। |

| **৪. পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন (Curriculum & Evaluation)** | এর পাঠ্যক্রম আগে থেকেই নির্ধারিত ও অপরিবর্তনীয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর লিখিত পরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে গ্রেড বা ডিগ্রি দেওয়া হয়। | পাঠ্যক্রম জীবনমুখী, বাস্তবসম্মত ও কিছুটা পরিবর্তনশীল। মূল্যায়ন পদ্ধতি তুলনামূলক শিথিল এবং স্ব-মূল্যায়নের (Self-assessment) সুযোগ থাকে। |

| **৫. উদ্দেশ্য ওTarget Group (Objective & Audience)** | এর মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে জ্ঞান দান করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। | মূল উদ্দেশ্য হলো যারা অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে (Drop-out), তাদের পুনর্বাসিত করা। |


> **সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:**

> প্রথাগত শিক্ষা যেখানে **শৃঙ্খলিত ও কঠোর কাঠামোর** ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা সেখানে **নমনীয়তা ও সুযোগের সমতা** নিশ্চিত করে। যেমন: সাধারণ স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা হলো *প্রথাগত শিক্ষা*, আর ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) বা নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (NSOU) মাধ্যমে ডিগ্রি অর্জন হলো *প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা*।

>

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...