Skip to main content

গীতিনাট্য।।গীতিনাট্যের স্বরূপ আলোচনা করো এবং বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক গীতিনাট্যের পরিচয় দাও।

গীতিনাট্য।।গীতিনাট্যের স্বরূপ আলোচনা করো এবং বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক গীতিনাট্যের পরিচয় দাও। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।

      আমরা জানি যে,নাটকের যে রূপভেদটিতে সংলাপের চেয়ে গান ও সুরের প্রাধান্য থাকে এবং সঙ্গীতের মাধ্যমেই নাটকের কাহিনী, চরিত্র ও আবেগ প্রকাশিত হয়-তাকে গীতিনাট্য বলা হয়।আসলে এটি সাহিত্যের একটি বিশেষ মিশ্র রূপ, যেখানে দৃশ্যকাব্য এবং শ্রব্যকাব্যের (নাটক ও সংগীত) অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই-

       •গীতিনাট্যের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য।গীতিনাট্য কেবল সুরযুক্ত নাটক নয়, এর নিজস্ব কিছু নান্দনিক গঠনরীি রয়েছে-

      •সংলাপের পরিপূরক হিসেবে সংগীত।গীতিনাট্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গদ্য সংলাপ নামমাত্র থাকে বা একেবারেই থাকে না। চরিত্রের মনের ভাব, দ্বন্দ্ব, রাগ ও অনুরাগ গানের সুরের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়।

      •ভাব বা আবেগের প্রাধান্য।গীতিনাট্যে জটিল ঘটনাক্রম বা বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক আবেগ ও ভাবের রূপায়ণ বেশি প্রাধান্য পায়।

       •সুরের মাধ্যমে নাট্যরস সৃষ্টি। সাধারণ নাটকে অভিনেতা অভিনয় ও কথার মাধ্যমে রস সৃষ্টি করেন, কিন্তু গীতিনাট্যে সুরের ওঠানামা এবং তাল-লয়ের মাধ্যমেই নাট্যমুহূর্ত বা ড্রামাটিক ক্লাইম্যাক্স তৈরি হয়।

      •সংক্ষিপ্ত ও সংহত কাহিনী। দীর্ঘ ও জটিল কাহিনী গীতিনাট্যের উপযোগী নয়। এখানে সহজ-সরল ও রূপকধর্মী কাহিনী গ্রহণ করা হয়, যাতে গানের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।

      •নাটকীয়তা ও গীতিময়তার ভারসাম্য। গীতিনাট্যকে একদিকে যেমন সংগীত হতে হয়, অন্যদিকে তাতে নাটকের মতো সংঘাত, উৎকণ্ঠা ও পরিণতি থাকতে হয়।

২. বাংলা সাহিত্যের একটি সার্থক গীতিনাট্য: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’ (১৮৮১)

      বাংলা সাহিত্যে গীতিনাট্যের প্রকৃত প্রবর্তক এবং শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে রচিত ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ সার্থক গীতিনাট্য। আর সেই গীতিনাট্যের-

     ক) বিষয়বস্তুঃ কৃত্তিবাসী 'রামায়ণ'-এর উত্তরাকাণ্ড থেকে সংগৃহীত ডাকাত রত্নাকরের বাল্মীকি মুনিতে রূপান্তরিত হওয়ার পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে এটি রচিত। হিংস্র দস্যুপতি রত্নাকর এক বালিকাকে বলি দিতে গিয়ে তাঁর করুণ আকুতিতে বিচলিত হন। হৃদয়ে দয়ার সঞ্চার হওয়ায় তিনি দস্যুবৃত্তি ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে দেবী সরস্বতীর বরদানে আদি কবি বাল্মীকিতে পরিণত হন।

খ) গীতিনাট্য হিসেবে সার্থকতা

     ১)গানের মাধ্যমে ভাবান্তর। রত্নাকরের হিংস্রতা থেকে দয়ায় রূপান্তর-এই গভীর আত্মিক পরিবর্তনটি পুরোপুরি প্রকাশ পেয়েছে গানের সুরের মাধ্যমে। বনের ছায়ায় বালিকার কান্নার গান এবং রত্নাকরের বিবেকের দ্বন্দ্বমূলক গানগুলো এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

    ২) সঙ্গীতের বৈচিত্র্য ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। রবীন্দ্রনাথ এই গীতিনাট্যে কেবল ভারতীয় শাস্ত্রীয় রাগ-সংগীত ব্যবহার করেননি, বরং তার সাথে বিলাতী (পাশ্চাত্য) সুর এবং দেশীয় লোকসুরের (যেমন—ব্যাধদের গান) অভূতপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।

     ৩) সংলাপহীন সংগীতাশ্রয়ী নাটক। নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো গদ্য সংলাপ নেই। চরিত্রদের কথোপকথন, আনন্দ, ভয়, করুণা-সবকিছুই গানের মালায় গাঁথা।

    ৪)নাটকীয় উৎকণ্ঠা। কেবলমাত্র সংগীত দিয়ে যে নাটকের তীব্র সংঘাত ও কৌতূহল ধরে রাখা যায়, তা ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’য় স্পষ্ট। বিশেষ করে দস্যুদের তান্ডব নাচ-গান এবং দেবীর আবির্ভাবের দৃশ্য নাট্যগুণে অনন্য।

       পরিশেষে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি-‘বাল্মীকি-প্রতিভা’য় কাব্য, সংগীত এবং নাট্যরসের যে অপূর্ব ত্রিবেনী সংগম ঘটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে অনন্য। নাটকের মতো ঘটনাগতি এবং সংগীতের মাধ্যমে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরকে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণেই এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও কালজয়ী সার্থক গীতিনাট্য।


বাংলা সাহিত্য ও নাটকের ইতিহাসে গীতিনাট্য (Opera/Musical Drama) এক অনন্য ও শিল্পমণ্ডিত রূপ। নিচে ১০ নম্বরের উপযোগী করে একটি সার্থক গীতিনাট্য হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের **‘বাল্মীকি-প্রতিভা’**-র একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রস্তুত করে দেওয়া হলো:

## ভূমিকা

যে নাটক সংলাপের চেয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে বেশি প্রকাশিত হয় এবং যেখানে চরিত্রের সংলাপ, আবেগ ও নাট্যিক দ্বন্দ্ব গানের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়, তাকে **গীতিনাট্য** বা **অফেরা (Opera)** বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে গীতিনাট্যের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর রচিত **‘বাল্মীকি-প্রতিভা’ (১২৮৭ বঙ্গাব্দ / ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দ)** বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও কালজয়ী গীতিনাট্য।

## ১. ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’র মূল উপজীব্য ও কাহিনীসংক্ষেপ

মহর্ষি বাল্মীকি ও রামায়ণের উৎপত্তি কাহিনীকে কেন্দ্র করে এই গীতিনাট্যটি রচিত।

 * **কাহিনীর সূচনা:** দস্যুপতি বাল্মীকি বনের মধ্যে নরবলির জন্য এক বালিকাকে ধরে আনে। কিন্তু বালিকার করুণ আর্তনাদ ও ভয় দেখে কঠোর হৃদয় বাল্মীকের মনে প্রথম দয়া ও করুণার উদ্রেক ঘটে। তিনি বালিকাকে মুক্ত করে দেন।

 * **মানসিক রূপান্তর:** দস্যুবৃত্তির নৃশংসতার প্রতি বাল্মীকের তীব্র বিতৃষ্ণা জন্মায়। তিনি দস্যুদল ত্যাগ করে প্রকৃতির কোলে ঘুরে বেড়ান।

 * **রামায়ণের জন্ম:** একদিন বনে ব্যাধ কর্তৃক ক্রৌঞ্চমিথুনের (পাখি) পুরুষটিকে বধ করতে দেখে বাল্মীকের মুখ দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিঃসৃত হয় প্রথম শ্লোক—*“মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ...”*।

 * **উপসংহার:** অবশেষ দেবী সরস্বতী প্রকাশ পেয়ে জানান, বাল্মীকের হৃদয়ে করুণা জাগাতে তিনিই দেবী হয়েও সেই ছোট বালিকার রূপ ধরেছিলেন। বাল্মীকি দস্যুপতি থেকে রূপান্তরিত হন 'আদিকবি'-তে।

## ২. সার্থক গীতিনাট্য হিসেবে ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’র মূল্যায়ন

একটি গীতিনাট্য সার্থক হতে হলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো প্রয়োজন, ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’য় তার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে:

### (ক) সংলাপের বদলে সঙ্গীতের প্রাধান্য

গীতিনাট্যের প্রধান শর্ত হলো এতে কোনো গদ্য সংলাপ থাকবে না; চরিত্রগুলোর প্রকাশ ঘটবে সুর ও গানে। ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’য় কোনো পাত্র-পাত্রী গদ্যে কথা বলে না। করুণা, ক্রোধ, বিস্ময় বা দেবী স্তুতি—সবই গানের সুরের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

### (খ) সঙ্গীতের সাহায্যে নাট্যিক দ্বন্দ্ব ও ভাবের বিকাশ

নাটকে দস্যুপতি বাল্মীকের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর কেবল কথাসাহিত্যে নয়, সঙ্গীতের মূর্ছনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 * রক্তপিপাসু দস্যুদের উদণ্ড নাচ ও সুর—*“রক্ত মেখে জয় মা বলে নাচ রে তোরা ধেই ধেই”*।

 * তার বিপরীতে অপহৃত বালিকার আকুল কান্নার সুর হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

 * বাল্মীকের করুণার প্রকাশ ও অনুশোচনা—*“এ কী এ! করুণা এ কার!”*—এই গানের মধ্য দিয়ে তাঁর ভেতরের নাট্যিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ ধরা পড়ে।

### (গ) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সুরের অভিনব মিশ্রণ (Melody Synthesis)

রবীন্দ্রনাথ এই গীতিনাট্যে ভারতীয় মার্গ সঙ্গীত (রাগসঙ্গীত), দেশীয় লোকসুর এবং বিলাতি (আইরিশ ও স্কটিশ) সুরের এক অপূর্ব মিলন ঘটিয়েছেন।

 * দস্যুদের উদ্দামতা বোঝাতে তিনি বিলাতি গানের সুর (যেমন- *Go where glory waits thee*) ব্যবহার করেছেন।

 * বাল্মীকের অনুশোচনা ও করুণ রসে ব্যবহার করেছেন ইমন, ভৈরবী বা কাফি রাগের সুর।

### (ঘ) চরিত্র সৃষ্টি ও রস নিষ্পত্তি

নাটকটিতে মূল রস হলো **'করুণ রস'** এবং তার পরিণতিতে **'শান্ত রস'**। বাল্মীকের মতো এক রূঢ় চরিত্রের ভেতরে কোমল মানবীয় অনুভূতি ও কবিসত্তার জাগরণ সঙ্গীতের মেলবন্ধনে অসাধারণ গতি পেয়েছে।

## ৩. সীমাবদ্ধতা (যদি থাকে)

রবীন্দ্রনাথ নিজে স্বীকার করেছেন যে, ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’ কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল নাট্যরস পরিবেশন করে না; এটি মূলত একটি 'ভাবের গান' বা গীতি-উৎসব। তবে বাংলা ভাষায় প্রথম প্রয়াস হিসেবে এর গঠনশৈলী অত্যন্ত সংহত।

## উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’ কেবল রবীন্দ্রনাথের প্রথম নাট্যপ্রয়াসই নয়, এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সম্পূর্ণ এবং সফল গীতিনাট্য। সুরের সাহায্যে চরিত্রের আত্মিক পরিবর্তন ও নাট্যিক কাহিনীকে গতিশীল করার যে বিরল দক্ষতা এতে দেখা যায়, তা বাংলা নাট্যসাহিত্যে একে কালজয়ী ও সার্থক গীতিনাট্যের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...