Skip to main content

 শিক্ষার গতানুগতিক ও আধুনিক ধারণার মধ্যে পার্থক্যগুলি কী কী?




শিক্ষার গতানুগতিক (Traditional Concept) ও আধুনিক (Modern Concept) ধারণার মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রাচীনকালে শিক্ষাকে কেবল জ্ঞান দান বা মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানে এটি একটি বহুমুখী ও গতিশীল প্রক্রিয়া।

নিচে শিক্ষার এই দুই ধরনের ধারণার প্রধান পার্থক্যগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

## শিক্ষার গতানুগতিক ও আধুনিক ধারণার প্রধান পার্থক্যসমূহ


| পার্থক্যের বিষয় | গতানুগতিক ধারণা (Traditional Concept) | আধুনিক ধারণা (Modern Concept) |

| :--- | :--- | :--- |

| **১. শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু** | এটি মূলত **শিক্ষককেন্দ্রিক** বা বিষয়বস্তুকেন্দ্রিক। শিক্ষকের ভূমিকা প্রধান, শিক্ষার্থী নিষ্ক্রিয় শ্রোতা। | এটি সম্পূর্ণ **শিশুকেন্দ্রিক** বা শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীর চাহিদা, আগ্রহ ও সামর্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। |

| **২. প্রকৃতির দিক থেকে** | শিক্ষা হলো কেবল নির্দিষ্ট বয়সে কিছু তথ্য বা **জ্ঞান অর্জনের একটি মাধ্যম**। | শিক্ষা একটি **গতিশীল ও জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া** (Lifelong Process), যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে। |

| **৩. মূল উদ্দেশ্য** | পরীক্ষার পাস করা, ডিগ্রি লাভ করা এবং প্রথাগত জ্ঞান অর্জনই মূল লক্ষ্য। | শিক্ষার্থীর সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশ এবং **সর্বাঙ্গীণ বিকাশ** (শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক) ঘটানো। |

| **৪. পাঠ্যক্রম** | পাঠ্যক্রম ছিল সংকীর্ণ, কঠোর এবং কেবল **বইকেন্দ্রিক**। | পাঠ্যক্রম অত্যন্ত ব্যাপক, নমনীয় এবং পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি **সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী** অন্তর্ভুক্ত। |

| **৫. অনুশাসনের প্রকৃতি** | এখানে কঠোর এবং প্রয়োগভিত্তিক **বাহ্যিক শৃঙ্খলা** বা শাসন মানা হতো। | এখানে আত্ম-শৃঙ্খলা (Self-discipline) বা **মুক্ত শৃঙ্খলার** ওপর জোর দেওয়া হয়। |

| **৬. শিক্ষকের ভূমিকা** | শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানের একমাত্র উৎস এবং কড়া অভিভাবক বা শাসকস্বরূপ। | শিক্ষক হলেন বন্ধুর মতো, পথপ্রদর্শক এবং কাজের সুবিধার সৃষ্টিকর্তা (**Friend, Philosopher & Guide**)। |

| **৭. মূল্যায়নের পদ্ধতি** | নির্দিষ্ট সময় অন্তর লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর **স্মৃতিশক্তির মূল্যায়ন** করা হতো। | ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Comprehensive Evaluation) ও **দক্ষতার মূল্যায়নের** ওপর জোর দেওয়া হয়। |


> **এক নজরে পার্থক্য:**

> গতানুগতিক শিক্ষা ছিল *‘বই ও শিক্ষক নির্ভর জ্ঞান চর্চা’*, আর আধুনিক শিক্ষা হলো *‘শিক্ষার্থীর জীবনের জন্য প্রস্তুতি ও সর্বাঙ্গীণ আত্মবিকাশ’*।

>

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...