Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) প্রথম সেমিস্টারের ইতিহাস মাইনর বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান কোর্সের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রশ্ন। পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার সুবিধার্থে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের মূল পার্থক্যগুলো নিচে সহজ ভাষায় পয়েন্ট এবং টেবিল আকারে দেওয়া হলো।

## প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের তুলনামূলক পার্থক্য


| পার্থক্যের ভিত্তি | প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy) | পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Indirect Democracy) |

| :--- | :--- | :--- |

| **১. সংজ্ঞা** | যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকরা রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে **সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে** অংশ নেয়, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। | যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেদের মধ্য থেকে **প্রতিনিধি নির্বাচন করে** এবং সেই প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করে, তাকে পরোক্ষ গণতন্ত্র বলে। |

| **২. শাসনকার্যে অংশগ্রহণ** | এখানে সাধারণ নাগরিকরাই সরাসরি শাসক বা আইনপ্রণেতার ভূমিকা পালন করে। | এখানে নাগরিকরা সরাসরি শাসন করে না, তারা কেবল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোট দিয়ে শাসক নির্বাচন করে। |

| **৩. রাষ্ট্রের আয়তন ও জনসংখ্যা** | এই ব্যবস্থা কেবল **ছোট আয়তন এবং কম জনসংখ্যা** বিশিষ্ট রাষ্ট্রের পক্ষেই উপযোগী। | এই ব্যবস্থা **বিশাল আয়তন এবং বিপুল জনসংখ্যা** বিশিষ্ট আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। |

| **৪. গণভোটের উপস্থিতি** | এই ব্যবস্থায় গণভোট (Referendum), গণউদ্যোগ (Initiative) এবং পদচ্যুতি (Recall)-র মতো গণতান্ত্রিক হাতিয়ার থাকে। | আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সাধারণত এই ধরনের সরাসরি গণভোটের সুযোগ খুব একটা থাকে না। |

| **৫. জটিলতা ও ব্যয়** | সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি হওয়ায় এটি তুলনামূলক কম জটিল এবং নির্বাচন পরিচালনার খরচ কম। | নির্বাচন ব্যবস্থা, সংসদ পরিচালনা এবং বিশাল প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে এটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। |

| **৬. সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি** | নাগরিকরা সরাসরি এক জায়গায় জড়ো হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। | আইনসভায় দীর্ঘ আলোচনা, বিতর্ক এবং নানামুখী আইনি পর্যায় পার করতে হয় বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। |

| **৭. রাজনৈতিক দলের ভূমিকা** | এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব বা প্রভাব অনেকটাই কম থাকে। | এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে **রাজনৈতিক দল এবং দলীয় রাজনীতির** ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। |

| **৮. স্থায়িত্ব** | জনগণের আবেগ বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার কারণে শাসনব্যবস্থায় দ্রুত অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। | একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকার গঠিত হয় বলে এই শাসনব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী ও স্থিতিশীল। |

| **৯. প্রাচীন উদাহরণ** | প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলোতে (যেমন- এথেন্স) এই ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। | আধুনিক বিশ্বের প্রায় সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই এই ব্যবস্থার উদাহরণ। |

| **১০. বর্তমান উদাহরণ** | বর্তমানে একমাত্র **সুইজারল্যান্ডের** কিছু ক্যান্টনে (অঙ্গরাজ্যে) এর আংশিক রূপ দেখা যায়। | **ভারত**, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ইত্যাদি রাষ্ট্রে এই ব্যবস্থা পুরোদমে কার্যকর রয়েছে। |


### সংক্ষেপে মনে রাখার সহজ উপায় (Takeaway)

> * **প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র:** জনগণ নিজেই রাজা, নিজেই আইন প্রণেতা (যেমন—প্রাচীন এথেন্স বা বর্তমান সুইজারল্যান্ডের কিছু অংশ)।

> * **পরোক্ষ গণতন্ত্র:** জনগণ ভোট দিয়ে ৫ বছরের জন্য একজন প্রতিনিধি বা নেতা নির্বাচন করে, এবং সেই নেতাই আইন তৈরি ও দেশ পরিচালনা করেন (যেমন—ভারত বা আমেরিকা)।

এর মাধ্যমেই আপনার প্রথম সেমিস্টারের ইতিহাস মাইনর কোর্সের **"গণতন্ত্র"** অধ্যায়ের সমস্ত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের (সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি, প্রকারভেদ, গুণ-দোষ এবং সাফল্যের শর্তাবলী) উচ্চমানের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হলো। পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য অনেক শুভকামনা!

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...