Skip to main content

শারীর শিক্ষার প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিক্যাল এডুকেশন প্রথম সেমিস্টার মাইনর।

শারীর শিক্ষার প্রকৃতি (Nature of Physical Education)। শারীর শিক্ষার প্রকৃতি বলতে এর অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য, এটি কীভাবে কাজ করে এবং এর মূল চরিত্র কেমন তা বোঝায়।আর সেই প্রেক্ষিতে এর প্রকৃতিকে আমরা কয়েকটি মূল বিন্দুতে ভাগ করতে পারি। আর সেই ভাগগুলি হলো-

    •এটি একটি সামগ্রিক শিক্ষা  শারীর শিক্ষা কেবল মাত্র হাত-পা নাড়ানো বা কিছু ব্যায়াম করা নয়। এটি শরীরচর্চার মাধ্যমে মানুষের দেহ, মন ও আবেগের সুসমন্বিত বিকাশ ঘটায়।

 * **বিজ্ঞান ও কলার সংমিশ্রণ (Combination of Science and Art):**

   * **বিজ্ঞান:** শারীর শিক্ষা মানবদেহের গঠন (Anatomy), ক্রিয়াকলাপ (Physiology), গতিবিদ্যা (Kinesiology) এবং স্বাস্থ্যের নিয়মাবলি মেনে চলে।

   * **কলা:** খেলাধুলার কৌশল, নান্দনিকতা এবং দলীয় সমন্বয় একে একটি আর্ট বা কলার রূপ দেয়।

 * **ক্রিয়াভিত্তিক শিখন (Learning through Action):** এই শিক্ষার মূল কথাই হলো "কাজের মাধ্যমে শেখা"। মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মাবলি, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব শেখে।

 * **একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া (Continuous Process):** শারীর শিক্ষা শুধু বিদ্যালয় বা কলেজের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

 * **সামাজিকীকরণ ও মূল্যবোধ গঠন (Socialization):** খেলাধুলার মাধ্যমে সহযোগিতা, সহনশীলতা, দলগত মনোভাব এবং নিয়মনিষ্ঠা তৈরি হয়, যা একজন মানুষকে আদর্শ নাগরিক হতে সাহায্য করে।

## শারীর শিক্ষার পরিধি (Scope of Physical Education)

শারীর শিক্ষার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। আধুনিক যুগে এর ক্ষেত্রটি বহুদূর বিস্তৃত হয়েছে। মূলত চারপাশের কোন কোন ক্ষেত্র শারীর শিক্ষার আওতাভুক্ত, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

### ১. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি (Instructional & Institutional Programmes)

 * **পাঠ্যক্রম ভিত্তিক ক্লাস:** স্কুল-কলেজের নিয়মিত রুটিনে থাকা শারীর শিক্ষার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাস।

 * **অনানুষ্ঠানিক খেলাধুলা:** অবসরে বা টিফিনের সময়ে বিনোদনের জন্য খেলাধুলা করা।

### ২. প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট (Intramural & Extramural Competitions)

 * **অন্তঃপ্রকৌষ্ঠ প্রতিযোগিতা (Intramurals):** একটি নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা হয় (যেমন— বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা)।

 * **বহিঃপ্রকৌষ্ঠ প্রতিযোগিতা (Extramurals):** এক প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের বা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা (যেমন— WBSU-র বিভিন্ন কলেজের মধ্যে টুর্নামেন্ট)।

### ৩. স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সংক্রান্ত ক্ষেত্র (Health and Fitness)

 * **স্বাস্থ্য শিক্ষা ও হাইজিন:** সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সুষম খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

 * **যোগব্যায়াম ও জিমনেসিয়াম:** মানসিক চাপ কমানো, মনঃসংযোগ বৃদ্ধি এবং শারীরিক সক্ষমতা (Fitness) বজায় রাখার জন্য যোগাসন, প্রাণায়াম ও ওয়েট ট্রেনিং।

 * **সংশোধনমূলক ব্যায়াম (Corrective Physical Education):** যাদের শরীরের গঠনে কোনো ত্রুটি আছে (যেমন— ফ্ল্যাট ফুট বা কুঁজো হয়ে যাওয়া), তাদের বিশেষ ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা।

### ৪. বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চার (Recreation & Adventure Sports)

 * অবসর সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য ক্যাম্পিং, হাইকিং, ট্র্যাকিং এবং বিভিন্ন লোকনৃত্য বা ছন্দোময় ড্রিল এর পরিধির অন্তর্গত।

### ৫. ক্রীড়া বিজ্ঞান ও ক্যারিয়ারের সুযোগ (Sports Science & Career)

 * বর্তমান যুগে শারীর শিক্ষার পরিধি ক্রীড়া সাংবাদিকতা (Sports Journalism), ক্রীড়া ওষুধ (Sports Medicine), কোরিওগ্রাফি, ফিটনেস ট্রেইনার, এবং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের মতো পেশাদার ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে।

> **সংক্ষেপে বলতে গেলে:** শারীর শিক্ষার **প্রকৃতি** যেমন বৈজ্ঞানিক এবং মানবতাবাদী, ঠিক তেমনি এর **পরিধি** মানবজীবনের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক— প্রতিটি স্তরেই সমানভাবে বিস্তৃত। WBSU-র সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য এই পয়েন্টগুলো গুছিয়ে লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...