Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বি.এ. বাংলা অনার্স (মেজর) চতুর্থ সেমিস্টারের ১০ নম্বর মানের প্রশ্নের উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাঞ্জল উত্তর নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

## "সৌন্দর্যই সাহিত্যের চরম লক্ষ্য।"— 'সাহিত্য ও সৌন্দর্য' এবং 'সাহিত্যের উদ্দেশ্য' প্রবন্ধ দুটির প্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্যতত্ত্ব ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা।

### ভূমিকা

বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন সাহিত্যস্রষ্টা নন, তিনি এক মহান রসবেত্তা ও নন্দনতাত্ত্বিক। তাঁর ‘সাহিত্য’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত **‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য’** (১২৯৬ বঙ্গাব্দ) এবং **‘সাহিত্য ও সৌন্দর্য’** প্রবন্ধ দুটিতে সাহিত্যের মূল সুর ও রূপ নির্ণয় করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে সাহিত্যের নানান উদ্দেশ্য বা উপযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মতে—সাহিত্য কোনো প্রচারপত্র নয়, নীতির পাঠশালা নয়, কিংবা কোনো বস্তুগত প্রয়োজন মেটানোর হাতিয়ার নয়। সাহিত্য হলো আনন্দের প্রকাশ এবং **"সৌন্দর্যই সাহিত্যের চরম লক্ষ্য।"**

### ১. ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য’: অহেতুক আনন্দ ও নিরাসক্ত প্রকাশ

‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের প্রয়োজন বা উদ্দেশ্য সংক্রান্ত প্রচলিত ধারণাকে খণ্ডন করেছেন:

 * **প্রয়োজনহীনতাই সাহিত্যের শক্তি:** সংসারী মানুষ সবকিছুর মধ্যেই একটি লৌকিক ‘উদ্দেশ্য’ বা ‘উপযোগিতা’ খোঁজে। কিন্তু বিশুদ্ধ সাহিত্যের কোনো বাহ্যিক উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা থাকে না। নদী যেমন তার প্রবহমানতা দিয়ে মনকে আনন্দ দেয়, কিন্তু জল ফুটিয়ে বাস্প করার মতো সংকীর্ণ কাজের জন্য নদী তৈরি হয়নি—সাহিত্যও ঠিক তেমনই।

 * **আনন্দই মূল কথা:** সাহিত্য হলো হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগের মাধ্যম। সাহিত্য সৃষ্টি এবং সাহিত্য আস্বাদনের মূলে থাকে এক অনাবিল আনন্দ। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, সাহিত্য সৃষ্টি হলো অহেতুক ও লীলাচ্ছল, যেখানে আনন্দই তার আদি, আনন্দই তার অন্ত।

### ২. ‘সাহিত্য ও সৌন্দর্য’: সৌন্দর্যতত্ত্বের স্বরূপ

‘সাহিত্য ও সৌন্দর্য’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ সৌন্দর্যকে সাহিত্যের একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন:

```

[বস্তুজগৎ ও অভিজ্ঞতা] 

         ↓

[হৃদয়ের স্পর্শ ও প্রেম/আনন্দ] 

         ↓

   [নান্দনিক সৌন্দর্য] 

         ↓

  [সাহিত্যের পরম লক্ষ্য]

```

 * **সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক রূপ নয়:** রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্যভাবনা কেবল বাহ্যিক রূপ-সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, যা কিছু মানুষকে সংকীর্ণ 'আমি'-র গণ্ডি থেকে মুক্ত করে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে, তা-ই সুন্দর।

 * **সত্য ও সৌন্দর্যের অভেদত্ব:** উপনিষদের ‘সত্যং শিবং সুন্দরম্’ দর্শনে বিশ্বাসী রবীন্দ্রনাথের কাছে যা সত্য, তা-ই সুন্দর; আর যা সুন্দর, তা-ই সাহিত্যের উপজীব্য। কুৎসিত বা অশুভ বস্তুও যখন শিল্পীর হৃদয়-রসে শোধিত হয়ে নিখুঁত ভাবরূপে প্রকাশিত হয়, তখন তা-ই সাহিত্যে 'সৌন্দর্য' হয়ে ওঠে।

### ৩. রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্যতত্ত্ব ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যের মূল দিকসমূহ

রবীন্দ্রনাথের এই দুই প্রবন্ধের আলোকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও সৌন্দর্যতত্ত্বের প্রধান দিকগুলোকে নিচে ভাগ করে আলোচনা করা হলো:

 1. **উপযোগিতাবাদ (Utility) বনাম নান্দনিকতা (Aesthetics):**

   নীতি শিক্ষা দেওয়া, সমাজ সংস্কার করা বা তত্ত্ব প্রচার করা সাহিত্যের গৌণ বা আকস্মিক ফল হতে পারে, কিন্তু তা মূল উদ্দেশ্য নয়। উপযোগিতাবাদ সাহিত্যকে খর্ব করে; সৌন্দর্য ও রস পরিবেশনই সাহিত্যের একমাত্র প্রধান কাজ।

 2. **হৃদয়ের প্রকাশ ও বিশ্বযোগ:**

   বিজ্ঞান ও দর্শন মানুষের বুদ্ধি বা যুক্তির সঙ্গে কথা বলে, কিন্তু সাহিত্য কথা বলে মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে। হৃদয়ের এই আবেগকে যখন সুষম রূপ ও সুষম ছন্দ দান করা হয়, তখনই তা সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।

 3. **সীমা ও অসীমের মিলন:**

   কবির সৌন্দর্যভাবনা কেবল পার্থিব রূপের বর্ণনায় ক্ষান্ত হয় না। রূপের সীমার মধ্য দিয়ে অরূপের অসীম আনন্দকে ফুটিয়ে তোলাই রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্যতত্ত্বের প্রাণ।

### উপসংহার

সংক্ষেপে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথের মতে সাহিত্য কোনো কাজ উদ্ধার করার যন্ত্র নয়। বস্তুজগতকে যখন মানুষের হৃদয় নিজের ভালোলাগা ও ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করে, তখন সেই হৃদয়ের অনুভূতিই নান্দনিক রূপ পেয়ে রূপায়িত হয়। 'সাহিত্যের উদ্দেশ্য' ও 'সাহিত্য ও সৌন্দর্য'—উভয় প্রবন্ধেই রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট করেছেন যে, সাহিত্য কোনো প্রয়োজন সাধনের দাস নয়, সাহিত্য তার নিজের আনন্দের জন্য এবং সেই আনন্দই সৌন্দর্যের উৎস। তাই নিছক তত্ত্ব প্রচার বা উদ্দেশ্যসর্বস্বতা নয়, **সৌন্দর্য সৃষ্টি ও তা আস্বাদন করাই সাহিত্যের চরম ও পরম লক্ষ্য**।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৌন্দর্যভাবনা এবং সাহিত্যতত্ত্ব তাঁর নানা প্রবন্ধে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। "সৌন্দর্যই সাহিত্যের চরম লক্ষ্য"— এই বক্তব্যটি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচিন্তার একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। 'সাহিত্য ও সৌন্দর্য' এবং 'সাহিত্যের উদ্দেশ্য' প্রবন্ধ দুটির আলোকেই রবীন্দ্রনাথ কীভাবে সাহিত্য, সৌন্দর্য এবং মানুষের আত্মার সম্পর্ককে দেখেছেন, তা সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে নিচে আলোচনা করা হলো:

## ১. 'সাহিত্য ও সৌন্দর্য': সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক সাজ নয়, তা সত্যের প্রকাশ

'সাহিত্য ও সৌন্দর্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট করেছেন যে, সৌন্দর্য সাহিত্যের কোনো উপরি পাওনা বা আলংকারিক জিনিস নয়; সৌন্দর্য হলো সাহিত্যের আসল প্রাণ।

 * **সত্য ও সৌন্দর্যের মিল:** রবীন্দ্রনাথের মতে, জগতে যা সত্য, তা যখন আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং আনন্দ দান করে, তখনই তা 'সুন্দর' হয়ে ওঠে। সাহিত্যিক এই সত্য ও সুন্দরের মেলবন্ধন ঘটান।

 * **উপযোগিতার উর্ধ্বে স্থান:** সৌন্দর্য কোনো বস্তুগত প্রয়োজন মেটায় না। রুটি আমাদের পেট ভরায়, কিন্তু ফুল বা সূর্যাস্ত আমাদের মনকে এক অনাবিল আনন্দ দেয়। সাহিত্যও কোনো বাহ্যিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য রচিত হয় না; তা মানুষের আত্মাকে প্রকাশ করে সৌন্দর্য সৃষ্টির মাধ্যমে।

> **মূল সারকথা:** সুন্দর যা, তা-ই মানবহৃদয়কে আনন্দ দেয় এবং সেই আনন্দকে রূপ দেওয়াই সাহিত্যের কাজ।

## ২. 'সাহিত্যের উদ্দেশ্য': আনন্দের প্রকাশ ও নিত্যতার সন্ধান

'সাহিত্যের উদ্দেশ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের আসল কাজ বা উদ্দেশ্য কী, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

 * **আত্মপ্রকাশের আনন্দ:** মানুষ কেবল বেঁচে থাকার জন্যই বাঁচে না। বৈষয়িক বা জাগতিক প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পরও মানুষের ভেতরে এক বিরাট উদ্বৃত্ত অংশ (surplus value) থেকে যায়। এই উদ্বৃত্ত অংশই হলো তার আবেগ, অনুভূতি ও সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সাহিত্য হলো মানুষের এই অন্তর্নিহিত আনন্দেরই অবিনশ্বর প্রকাশ।

 * **নিত্যতার স্পর্শ:** যা ক্ষণস্থায়ী বা কেবল দৈনন্দিন দরকারী, সাহিত্য তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সাহিত্য ক্ষণকালের অনুভূতিকে চিরকালের রূপ দেয়। জীবনের সাধারণ ঘটনাও যখন কবির সৌন্দর্যবোধের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়, তখন তা সর্বজনীন ও নিত্য হয়ে ওঠে।

## ৩. "সৌন্দর্যই সাহিত্যের চরম লক্ষ্য"— উক্তিটির তাৎপর্য

রবীন্দ্রনাথের মতে, সাহিত্য কোনো নীতিশিক্ষা দেওয়ার পাঠশালা নয়, কিংবা কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমও নয়।


| দিক | প্রচার বা তথ্যকেন্দ্রিক সাহিত্য | সৌন্দর্যকেন্দ্রিক সাহিত্য (রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে) |

| :--- | :--- | :--- |

| **উদ্দেশ্য** | তাৎক্ষণিক কোনো শিক্ষা বা সামাজিক সংস্কারের প্রচার। | হৃদয়কে আনন্দ দেওয়া এবং সুন্দরের অনুভূতি জাগানো। |

| **স্থায়িত্ব** | সময় পার হলে তার আবেদন কমে যায়। | যুগ অতিক্রম করেও এর আনন্দ আবেদন চিরন্তন থাকে। |

| **মূল্য** | বাহ্যিক উপযোগিতা। | আত্মিক আনন্দ ও নান্দনিক রূপ। |


রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য যদি নীতি উপদেশ দিতে যায়, তবে তা তার মূল ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়। কিন্তু সাহিত্য যখন নিখাদ সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে, তখন তা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানুষের মনকে উন্নত, মার্জিত ও সংবেদনশীল করে তোলে। অর্থাৎ, **সৌন্দর্য পরিবেশনের মাধ্যমেই সাহিত্য তার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব পরোক্ষভাবে পালন করে।**

## উপসংহার

'সাহিত্য ও সৌন্দর্য' এবং 'সাহিত্যের উদ্দেশ্য' প্রবন্ধ দুটির সম্মিলিত বার্তা হলো: **সাহিত্য হলো মানুষের হৃদয়ের সাথে বিশ্বজগতের সৌন্দর্যময় যোগসূত্র।**

রবীন্দ্রনাথের কাছে সৌন্দর্য মানে কেবল মনোরম কোনো দৃশ্যের বর্ণনা নয়; সৌন্দর্য হলো সত্যের সেই রূপ, যা আমাদের হৃদয়কে আনন্দিত করে এবং সংকুচিত অহং থেকে মুক্ত করে বিশাল বিশ্বের সাথে যুক্ত করে। তাই, বাহ্যিক কোনো উদ্দেশ্য নয়— সুন্দরকে সৃষ্টি করা এবং সেই সুন্দরের আনন্দকে প্রকাশ করাই সাহিত্যের চরম ও পরম লক্ষ্য।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...