Skip to main content

 আধুনিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার সংজ্ঞা দাও। শিক্ষা সংগঠনের বিভিন্ন প্রকার গুলি কি? বিস্তারিত আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (West Bengal State University) প্রথম সেমিস্টারের **Education Minor** পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এই উত্তরটি সাজানো হলো। এটি পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলার উপযোগী একটি গুছোনো ও স্পষ্ট আলোচনা।

## ১. আধুনিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার সংজ্ঞা (Definition of Education in Modern Concept)

প্রাচীনকালে শিক্ষাকে কেবল জ্ঞান অর্জন বা মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানে শিক্ষা একটি **শিশুকেন্দ্রিক, জীবনব্যাপী এবং গতিশীল প্রক্রিয়া**।

আধুনিক ধারণা অনুযায়ী, **"শিক্ষা হলো ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে তাকে সমাজের উপযোগী একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।"**

### আধুনিক শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি:

 * **শিশুকেন্দ্রিকতা (Child-Centric):** শিক্ষার কেন্দ্রে থাকে শিক্ষার্থী। তার চাহিদা, আগ্রহ, বুদ্ধিমত্তা ও সামর্থ্য অনুযায়ী পাঠ্যক্রম তৈরি হয়।

 * **সর্বাঙ্গীণ বিকাশ (Holistic Development):** কেবল মানসিক বৃদ্ধি নয়—শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক (emotional) ও নৈতিক—সবদিকের বিকাশ ঘটানোই আধুনিক শিক্ষার কাজ।

 * **অভিযোজন ও পরিবর্তন:** পরিবেশ ও পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

 * **জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া (Lifelong Process):** শিক্ষা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অবিরত চলতে থাকে।

> **বিখ্যাত শিক্ষাবিদদের মতে আধুনিক শিক্ষা:**

> * **জন ডিউই (John Dewey):** *"Education is not preparation for life; education is life itself."* (শিক্ষা জীবনের প্রস্তুতি নয়, শিক্ষাই স্বয়ং জীবন।)

> * **স্বামী বিবেকানন্দ:** *"Education is the manifestation of the perfection already in man."* (মানুষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান পূর্ণতার বিকাশই হলো শিক্ষা।)

## ২. শিক্ষা সংগঠনের বিভিন্ন প্রকারভেদ (Types of Educational Organizations/Agencies)

শিক্ষার্থীর সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ কীভাবে ও কোথায় ঘটছে—তার উপর ভিত্তি করে শিক্ষা সংগঠন বা শিক্ষাদানের মাধ্যমগুলোকে মূলত **তিনটি প্রধান ভাগে** ভাগ করা হয়:

```

                  ┌──────────────────────────────┐

                  │ শিক্ষা সংগঠনের প্রকারভেদ │

                  └──────────────┬───────────────┘

                                 │

     ┌───────────────────────────┼───────────────────────────┐

     ▼ ▼ ▼

১. প্রথাগত শিক্ষা ২. প্রথাযুক্ত/অনিয়ন্ত্রিত ৩. প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা

 (Formal Education) (Informal Education) (Non-Formal Education)

```

### (ক) প্রথাগত শিক্ষা সংগঠন (Formal Educational Organization)

যে শিক্ষা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন, পূর্বনির্ধারিত পাঠ্যক্রম, সময়সীমা এবং পেশাদার শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাকে প্রথাগত শিক্ষা বলা হয়।

 * **প্রধান সংস্থা:** বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় (College), বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।

 * **বৈশিষ্ট্য:**

   * একটি নির্দিষ্ট **পাঠ্যক্রম (Curriculum)** ও সময়সূচি থাকে।

   * নির্দিষ্ট বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি হতে হয়।

   * ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

   * এখানে পরীক্ষা ব্যবস্থা ও মূল্যায়ন বাধ্যবাধকতামূলক।

### (খ) প্রথাযুক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সংগঠন (Informal Educational Organization)

কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা, নিয়মকানুন বা পরীক্ষা ছাড়াই ব্যক্তি যখন দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করে, তাকে অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বলে।

 * **প্রধান সংস্থা:** পরিবার, সমাজ, খেলার মাঠ, গণমাধ্যম (সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট), ক্লাব ইত্যাদি।

 * **বৈশিষ্ট্য:**

   * কোনো নির্দিষ্ট স্থান, সময় বা বয়সসীমা নেই।

   * জীবনযাত্রার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই শিক্ষা ঘটে।

   * এতে কোনো শংসাপত্র বা পরীক্ষা থাকে না।

   * সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতিশিক্ষা অর্জনে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

### (গ) প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা সংগঠন (Non-Formal Educational Organization)

প্রথাগত শিক্ষার সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার নমনীয়তার সংমিশ্রণে গঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা বলা হয়। যারা কোনো কারণে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষায় যোগ দিতে পারেনি, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা।

 * **প্রধান সংস্থা:** মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (Open University, যেমন IGNOU, NSOU), নৈশ বিদ্যালয়, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, দূরশিক্ষণ (Distance Education)।

 * **বৈশিষ্ট্য:**

   * নিয়মকানুন অত্যন্ত নমনীয় (Flexible)।

   * নির্দিষ্ট বয়সের বা সময়ের কঠোরতা থাকে না।

   * চাকরি বা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই শিক্ষায় যুক্ত হওয়া যায়।

   * আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও অনলাইন মাধ্যমের সাহায্যে বেশি পরিচালিত হয়।

### সংক্ষেপে তুলনা


| বৈশিষ্ট্য | প্রথাগত (Formal) | অনিয়ন্ত্রিত (Informal) | প্রথাগত-বহির্ভূত (Non-Formal) |

| :--- | :--- | :--- | :--- |

| **স্থান** | স্কুল/কলেজ | পরিবার/সমাজ | মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/অনলাইন |

| **পাঠ্যক্রম** | কঠোর ও নির্দিষ্ট | নেই | নমনীয় |

| **পরীক্ষা ও ডিগ্রি** | আছে | নেই | আছে |

| **বয়সসীমা** | নির্দিষ্ট | জন্ম থেকে মৃত্যু | শিথিলযোগ্য |

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...