Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (West Bengal State University - WBSU) **1st Semester Education Minor** (Paper: *Philosophical Foundation of Education*) সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত সম্ভাব্য ৫টি **৫ নম্বরের প্রশ্ন ও তাদের আদর্শ উত্তর** নিচে উপস্থাপন করা হলো।

### প্রশ্ন ১: শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের মধ্যে ৫টি মূল পার্থক্য লেখো।

**উত্তর:**

শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়— ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য এবং সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য। এদের প্রধান ৫টি পার্থক্য নিম্নরূপ:

 1. **মূল দর্শন:** ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য মনে করে সমাজ ব্যক্তির বিকাশের জন্য; তাই ব্যক্তির স্বাধীন বিকাশই প্রধান। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য মনে করে সমাজই প্রধান এবং ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমাজস্বার্থ বড়।

 2. **শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু:** ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য শিক্ষার্থীর স্বাতন্ত্র্য, আগ্রহ, রুচি ও স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়। সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার ভাব গড়ে তোলে।

 3. **প্রতিনিধি শিক্ষাবিদ:** ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের প্রধান সমর্থক হলেন রূশো, টি. পি. নান প্রমুখ। সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের সমর্থক হলেন জন ডিউই, প্যাটেল প্রমুখ।

 4. **পাঠ্যক্রম:** ব্যক্তিতান্ত্রিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর পছন্দভিত্তিক পাঠ্যক্রম থাকে। সমাজতান্ত্রিক শিক্ষায় সমাজ-উপযোগী ও ভোকেশনাল বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।

 5. **সমাজ গঠনে ভূমিকা:** ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য আত্মবিকাশ ঘটায়, আর সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য একজন সুনাগরিক তৈরি করে সমাজকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করে।

### প্রশ্ন ২: শিক্ষার উপাদান হিসেবে 'শিক্ষক'-এর ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

**উত্তর:**

শিক্ষা একটি দ্বি-মেরু বা ত্রি-মেরু প্রক্রিয়া, যার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেন শিক্ষক। আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা নিম্নরূপ:

 * **বন্ধু ও পথপ্রদর্শক (Friend, Philosopher and Guide):** আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষক কেবল জ্ঞান দান করেন না, তিনি শিক্ষার্থীর শেখার গতিকে ত্বরান্বিত করতে বন্ধুর মতো নির্দেশনা প্রদান করেন।

 * **অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিকর্তা:** শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীরা যাতে মুক্ত মনে প্রশ্ন করতে পারে এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, শিক্ষক সেই পরিবেশ তৈরি করেন।

 * **ব্যক্তিত্বের বিকাশক:** শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভাকে চিনতে পেরে তাকে সঠিক দিকে বিকশিত করতে শিক্ষক উৎসাহ যোগান।

 * **সমস্যা সমাধানকারী:** শিক্ষার্থীর মানসিক, সামাজিক বা শিখনসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় প্রাক-পরামর্শদাতা (Counselor) হিসেবে কাজ করেন।

### প্রশ্ন ৩: পাঠ্যক্রম (Curriculum) কাকে বলে? এর দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

**উত্তর:**

**সংজ্ঞা:** 'Curriculum' শব্দটি লাতিন শব্দ *'Currere'* থেকে এসেছে, যার অর্থ 'দৌড়ের পথ' (Course to run)। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষার্থী যে সমস্ত নির্ধারিত ও অনিয়মিত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তার সামগ্রিক রূপই হলো পাঠ্যক্রম।

**প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য:**

 1. **গতিশীলতা (Dynamism):** যুগের পরিবর্তন, সমাজ ও সংস্কৃতির চাহিদার সাথে সাথে পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত হয়। এটি কখনো স্থির বা অনমনীয় হতে পারে না।

 2. **ব্যাপকতা ও সার্বিকতা:** আধুনিক পাঠ্যক্রম কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান বা পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এতে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী (যেমন: খেলাধুলা, বিতর্ক, সামাজিক সেবা) অন্তর্ভুক্ত থাকে।

### প্রশ্ন ৪: শিক্ষার একটি উপাদান হিসেবে 'পরিবেশ'-এর গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।

**উত্তর:**

শিক্ষার্থী তার চারপাশের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সংস্পর্শে এসেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে। পরিবেশের গুরুত্ব প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে দেখা যায়:

 * **প্রাকৃতিক পরিবেশ:** শিশু যেখানে বড় হয়, সেখানকার জলবায়ু, প্রকৃতি তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির সাহচর্যে শিশু কৌতূহলী ও বাস্তববাদী হতে শেখে।

 * **সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ:** পরিবার, প্রতিবেশী, বিদ্যালয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানসমূহ শিশুকে সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও আচার-ব্যবহার শেখায়।

> **উপসংহার:** বিখ্যাত শিক্ষাবিদদের মতে, বংশগতি (Heredity) যদি বীজের কাজ করে, তবে পরিবেশ (Environment) হলো মাটি ও জলের মতো, যা ব্যতীত শিক্ষা রূপ বীজ অঙ্কুরিত হতে পারে না।

### প্রশ্ন ৫: শিক্ষায় সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর (Co-curricular Activities) গুরুত্ব আলোচনা করো।

**উত্তর:**

প্রথাগত শ্রেণি-পঠনপাঠনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য যে সমস্ত কার্যাবলী (যেমন— খেলাধুলা, নাটক, এন.সি.সি., সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) আয়োজন করা হয়, সেগুলোকে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী বলা হয়।

**গুরুত্ব:**

 1. **সর্বাঙ্গীণ বিকাশ:** এটি শিক্ষার্থীর শারীরিক গঠন, মানসিক সুস্থতা এবং প্রাক্ষোভিক (Emotional) ভারসাম্য বজায় রাখে।

 2. **সামাজিক গুণাবলির বিকাশ:** খেলাধুলা বা দলগত কাজের মাধ্যমে সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, নিয়মকানুন মানা এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে।

 3. **মানসিক ক্লান্তি দূরীকরণ:** একঘেয়ে পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার মাঝখানে সহ-পাঠ্যক্রমিক কাজ শিক্ষার্থীদের আনন্দ দেয় ও কাজের উদ্দীপনা বাড়ায়।

শিক্ষার এই ধরণের প্রস্তুতিমূলক সাজেশন সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য WBSU 1st Sem Education Minor Suggestion Video-টি দেখতে পারেন, যা প্রশ্নগুলোর ধারণা আরও স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...