Skip to main content

আগ্রহ ও মনোযোগের মধ্যে সম্পর্ক লেখ।

 মনোযোগ:- মনোযোগ হল একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্য থেকে কোন একটি বিষয়ের উপর আমাদের মনকে নিযুক্ত করি। আর এই মনকে নিযুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো সেই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের পূর্বাপেক্ষা অধিক সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট জ্ঞান লাভ করা।

আগ্ৰহ:- আগ্রহ হলো কোন বিশেষ কাজ বা একশ্রেণীর কাজের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার একটি ব্যক্তিগত প্রবণতা। অর্থাৎ আগ্রহ ব্যক্তির এক ধরনের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক বা অর্জিত মানসিক প্রবণতা। যে মানসিক প্রবণতা ব্যক্তিকে বহুমুখী কর্ম সম্পাদনে অনুপ্রাণিত করে।

           শিক্ষাবিদ রস(Ross) বলেন আগ্রহ ও মনোযোগ একই মুদ্রার দুটি পিঠ মাত্র। আমরা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখেছি বাইরে কুকুরের চিৎকারে ঘুমন্ত মাতার ঘুম ভাঙ্গে না। কিন্তু কোলের ছোট্ট শিশুটি যখন মৃদু স্বরে কাঁদে তখন মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। অর্থাৎ এখানে ওই শিশুটির মাতা তার শিশু কান্নার শব্দে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তবে--

     আমাদের জীবনে প্রতিটি কাজের  পশ্চাতে একটি মানসিক সংগঠন কাজ করে থাকে। ঠিক তেমনি মনোযোগের পেছনেও এই আগ্রহের মানসিক সংগঠন কাজ করে থাকে। আর এখানে আগ্রহ মনোযোগের প্রেরণা সঞ্চার করে। তাই রিভার ড্রিভার বলেন -

    "আগ্রহ হলো একটি বিশেষ সক্রিয় প্রবণতা।"

              সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা মনে করতে পারি যে আগ্রহ ও মনোযোগ এই দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক এবং এবং অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আসলে মনোযোগ হল মনের উদ্দীপক নির্বাচনী প্রক্রিয়া । আর এই প্রক্রিয়ার পেছনে যে মানসিক সংগঠন কাজ করে সেটি অবশ্যই আগ্রহ। অর্থাৎ আমাদের মানসিক সংগঠনের নিষ্ক্রিয় অবস্থাকে বলা হয় আগ্রহ এবং সেটি যখন সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন সেটি হয় মনোযোগ। সুতরাং আগ্রহ ও মনোযোগ হল একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...